মানিকছড়ির ‘ওপেন হাউজ ডে’ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক


মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

মানিকছড়ি থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠানে এ অঞ্চলের তৃণমূলে অব্যাহত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা টাউন হলে অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রশীদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘ওপেন হাউিজ ডে’ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন, সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. রুবায়েত মাহমুদ হাসিব পিএসসি,জি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মাগ্র মারমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আহসান উদ্দীন মুরাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ. রাজ্জাক, গচ্ছাবিল ৫, আনসার ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মো. মাহমুদুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান রাহেলা আক্তার, ইউপি চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম মোহন, দুপ্রক সভাপতি মো. আতিউল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মো. মাঈন উদ্দীন ও সনাতন নেতা সজল বরণ সেন প্রমূখ।

সভায় উপজেলার হেডম্যান-কার্বারী, জনপ্রতিনিধি, পুলিশিং কমিটির তৃণমূলের লোকজন উন্মুক্ত বক্তব্যে বলেন, এ অঞ্চলের তৃণমূলে অব্যাহত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি সন্ত্রাসীরা রবি’র ৪জন টেকনেশিয়ানকে অপহরণ করে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে ছেড়ে দেয়। শুধু তাই নয়, এলাকার সকল উৎপাদিত শাক-সবজি, গবাদি পশু, বাগ-বাগান সৃজন, ফলমূল বিক্রিতে গড়ে ২০ শতাংশ হারে চাঁদা দিতে হয়।

এ জনপদ দিন দিন যেন যমকূপে হিসেবে রুপান্তরিত হচ্ছে। গত ১৫ দিন ধরে এ জনপদে রবি,বাংলালিংকসহ বিভিন্ন মোবাইল টাওয়ারে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে সরকারের ডিজিটাল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ে শান্তিচুক্তির পর আবার কিসের দাবিতে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও অপকর্ম করছে তা সচেতনবাসী হিসেবে আমরা জানতে চাই। অচিরেই এসব অপকর্ম বন্ধ না হলে বাঙ্গালী জাতি এসব অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

পরে অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশের প্রতিটি ব্যক্তির নিরাপত্তা প্রথমত নিজেকে নিতে হবে। নিজে শুদ্ধ হয়ে অন্যের অপরাধ ও অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। সমাজের তৃণমূলে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করলে অপরাধ দমন সহজ হবে। কোন অপরাধীকে ব্যক্তি, জাতি বা গোত্র হিসেবে না দেখে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করে এর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, অনুন্নত এ জনপদে ভাড়ায় পরিচালিত মোটরসাইকেলে মদ, গাঁজা, ইয়াবা স্থানান্তরিত হচ্ছে! এটা খুবই দুঃখজনক। মোটরসাইকেল চালকরা এ ব্যাপারে সচেতন হলে এসব অপরাধ দ্রুত কমে আসবে। অতিরিক্ত যাত্রী, বেপরোয়াগতি পরিহার, গাড়ির বৈধ কাগজ পত্রসহ হেলমেট ব্যবহার করলে নিজের ঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনই দূঘর্টনা কমে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *