মানবিক সহায়তা পেলো  মাতারবাড়ির পানিবন্দি ৯৫০ পরিবার


মহেশখালী প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের মহেশখালির মাতারবাড়ি ইউনিয়নের পানিবন্দি পরিবারের ৯৫০ নারীদেরকে জরুরি সহায়তা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪ টায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের নারীদের মাঝে সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।

স্টার্ড ফাণ্ড বাংলাদেশ এবং ইউকেএইড এর সহযোগিতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে একশন এইড বাংলাদেশ এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল একশন (ইপসা)। এই সহযোগিতা কর্মসূচির আওতায় মাতারবাড়ি ইউনিয়নের মোট ৯ টি ওয়ার্ডের ৯৫০ নারী ৫ হাজার ৫ শত টাকা করে পাচ্ছেন।

এসময় একশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবীর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম, ইপসার প্রধান নির্বাহী মো. আরিফুর রহমান, মাতারবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহসহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

একশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবীর বলেন, দুস্থ মানুষ ও তাদের অধিকার রক্ষা করা প্রতিটি সুনাগরিকের কর্তব্য। কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট প্রভারে সঙ্গে সরাসরি জড়িত মানুষের পুনঃবার্সনের ব্যবস্থা না হওয়ায় জলাবদ্ধ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অসংখ্য মানুষ। জলাবদ্ধতার কারণে এখানে বিশুদ্ধ পানি, নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এসব মানুষকে দ্রুত পুনঃবার্সনের ব্যবস্থা করতে হবে। অধিকার বঞ্চিত এসব মানুষের জন্য এই জরুরি সহায়তা কার্যক্রম। এই সহায়তার মাধ্যমে তারা তাদের অতি প্রয়োজনীয় জরুরি চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে। প্রকল্পের কারণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসন কাজ করছে। ইতোমধ্যে অনেককে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঈদের আগে সরকারের পক্ষ থেকে এখানকার সবাইকে ৩ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। সহায়তা প্রকল্পের জন্য তিনি একশন এইড ও ইপসাকে ধন্যবাদ জানান।

মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় পানি অপসারণের সুইচ গেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে গত ৫ মাস ধরে এই এলাকার প্রায় ১৫ হাজারের অধিক মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন। জলাবদ্ধতার কারণে তাদের দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

এই প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ইপসার কর্মকর্তা এম. আজিজুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই মাতার বাড়ির মানুষ জলাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। কিন্তু কোন ব্যক্তি বা সংস্থার পক্ষ থেকে কোন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়  নি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করছি। মানুষের জলাবদ্ধ অসহায় জীবনযাপন সম্পর্কে আমরা একশন এইডকে অবহিত করি এবং তাদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করা হয়। এরপর কমিউনিটির সঙ্গে পরামর্শ, জরিপ ও ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষতিগ্রস্থ নারীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

সহায়তা পাওয়া ওয়াপদাপাড়ার বাসিন্দা খুরশিদা বেগম বলেন, পানির কারণে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। স্বাভাবিক চলাচলে খুব অসুবিধা হয়। কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াটা অসম্ভব বিষয়। আমরা এই অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *