parbattanews bangladesh

মাতামুহুরী নদীর হুমকিতে ৫ কোটি টাকার প্রকল্প

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মাতামুহুরী নদীর বরইতলী ইউনিয়নের বাঘগুজারা রাবার ড্যাম পয়েন্টে অন্তত একশ মিটার ভাঙ্গন এলাকা মেরামতে বরাদ্দ নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের দপ্তরে। এতে বর্তমানে নদীর ওই পয়েন্টে ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ সাপেক্ষে ভাঙন ঠেকাতে চলমান পাউবোর তীরসংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

ইতোমধ্যে প্রকল্পের অধীনে নদীর তীরে বসানো বিপুল পরিমাণ ব্লক পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে প্রকল্পটির ভবিষ্যত সুফলভোগী স্থানীয় জনগণের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় সোমবার চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও নদীর তীরে অরক্ষিত থাকা একশ মিটার ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের এমপি হাজি মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

এসময় বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন, এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মো.নাজিম উদ্দিনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পের অগ্রগতি ও ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্ট পরিদর্শন শেষে হাজি মোহাম্মদ ইলিয়াছ এমপি বলেন, মাতামুহুরী নদীর অব্যাহত ভাঙন প্রতিরোধে বরইতলী ইউনিয়নের বাঘগুজারা রাবার ড্যাম পয়েন্টে ও পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা অংশে পাউবোর অর্থায়নে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে একটি টেকসই প্রকল্প চলমান রয়েছে। কিন্তু মাত্র একশ মিটার এলাকা প্রকল্পের বাইরে থাকার কারণে ফের ওই অংশ দিয়ে ভাঙ্গনের সম্ভাবনা জিইয়ে রয়ে যাচ্ছে। ফলে ভাঙ্গন আতঙ্কে স্থানীয় জনগণকে ভাবিয়ে তুলেছে।

তিনি বলেন, এই একশ মিটার অরক্ষিত এলাকার ভাঙন ঠেকানো না গেলে বর্তমানে ওই পয়েন্টে চলমান থাকা ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ হুমকির মুখে পড়বে। তাই বিষয়টি জনস্বার্থে বিবেচনা করে অতি দ্রুত অরক্ষিত একশ মিটার এলাকায় ব্লক বসাতে বরাদ্দ নিশ্চিতের জন্য আমি পাউবো’র উর্ধ্বতন প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. রাকিবুল হাসান বলেন, চলমান প্রকল্পের আওতায় মাতামুহুরী নদীর চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা গোবিন্দপুরে (বাঘগুজারা রাবার ড্যাম পয়েন্টে) তিনশ মিটার ও পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা অংশে একশ মিটার এলাকায় ৬০ হাজার পাথরের তৈরি ব্লক দ্বারা তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬০ ভাগ মতো ব্লক তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। গত মাস পর্যন্ত নদীর তীরে বিপুল পরিমাণ ব্লক ডাম্পিং করার মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ অগ্রগামী হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ আগামী মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করি।

তিনি বলেন, বরইতলী ইউনিয়নের চলমান কাজের বাইরে অন্তত একশ মিটার এলাকা অরক্ষিত রয়েছে। এই অরক্ষিত পয়েন্টটি চলমান কাজের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠেছে। তাই আমরা বিষয়টি তদন্ত পুর্বক উর্ধ্বতন প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবো। অর্থবরাদ্দ নিশ্চিত হলেই ওই একশ মিটার এলাকায়ও ব্লক বসানো হবে। জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষাকালে মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির প্রবল ধাক্কায় নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থার কারণে উপজেলায় নদীর তীরবর্তী এলাকার জনবসতি, আবাদি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বিপুল পরিমাণ গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জনগণের দুর্ভোগ ও এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষাকল্পে বিগত সময়ে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরবর্তীতে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ড অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি প্রকল্পের আওতায় বেশিরভাগ এলাকায় সিসি ব্লক দিয়ে একাধিক উন্নয়ন কাজ করে নদীর ভাঙন ঠেকাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ সাপেক্ষে নদীর ভাঙনরোধে চারশ মিটার এলাকায় একটি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন।

জানা গেছে, টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স শহীদ ব্রাদার্সকে কার্যাদেশ দেয়ার মাধ্যমে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বরইতলী ইউয়িনের বাঘগুজারা রাবার ড্যাম পয়েন্টে তিনশ মিটার ও মেহেরনামা অংশে একশ মিটার এলাকায় মাতামুহুরী নদীর তীরসংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প কাজ তদারকি করছেন বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জিয়া।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি আমার এলাকায়, সেহেতু কাজটি গুণগতমানের এবং টেকসইভাবে সম্পন্ন করতে নিয়মিত তদারকি করছি। কার্যাদেশ অনুযায়ী তীরসংরক্ষণ কাজে পাথরের সিসি ব্লক বসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, চলমান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজটি টেকসইভাবে সম্পন্ন করা গেলে আশেপাশের এলাকার সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং বন্যার তান্ডব থেকে চকরিয়া- পেকুয়া উপজেলার লক্ষাধিক জনসাধারণ রক্ষা পাবে।