শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাইসহ তিন ধর্ষক আটক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

শ্যালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাইসহ তিন ধর্ষককে আটক করেছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। বুধবার (১১ অক্টোবর) রাত ১১ টার দিকে মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের নিউ অযোধ্যা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার বড় বোন রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে মাটিরাঙ্গা থানা মামলা দায়ের করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মো. জাকির হোসেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতমাসে মাটিরাঙার বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন (৩৫) এর সাথে মামলার বাদী ধর্ষিতার বড় বোন রোকেয়া বেগমের বিয়ে হয়। বড় বোন রোকেয়া বেগমের স্বামী মো. জয়নাল আবেদীন বুধবার (১১ অক্টোবর) চট্টগ্রামে বসবাসরত শ্যালিকাকে তার বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে আসে।

ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে স্বামী মো. জয়নাল আবেদীন শ্যালিকাকে ঘরে রেখে সুকৌশলে স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে ঘর থেকে জ্যোস্নার আলো দেখার জন্য বাগানের দিকে নিয়ে যায়। এসময় অপর দুই আসামী মো. মনির হোসেন ও মো. নজরুল ইসলাম ঘরে থাকা রোকেয়া বেগমের ছোট বোনের উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।

এসময় ঘরের ভেতর থাকা ছোট বোনের চিৎকার শুনে রোকেয়া বেগম ঘরে ছুটে যেতে চাইলে স্বামী মো. জয়নাল আবেদীন তাকে ঘরে যেতে বাধা প্রদান করে। একসময় সে স্বামীর বাধা উপেক্ষা করে ঘরে এসে তার বোনের উপর পাশবিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখতে পায়। এসময় সে চিৎকার করলে তার স্বামী মো. জয়নাল আবেদীন মুখ চেপে ধরে।

এসময় তাদের চিৎকার শুনে পার্শ্ববর্তী লোকজন ছুটে এসে বিবস্ত্র অবস্থায় ধর্ষিতাসহ তিন ধর্ষকে আটক করে। এসময় স্থানীয়রা বিষয়টি বেলছড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে তিন ধর্ষককে সোর্পদ করেন।

বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা তিন ধর্ষককে আটক করে। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে, পুলিশ তিন ধর্ষককে আটক করে।’

মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মো. জাকির হোসেন বলেন, আটককৃতরা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বাকীর করেছে। তিন আসামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-০৩) এর ৯ (১)/১০/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।