মাটিরাঙ্গার পাঞ্জাবী টিলা হবে ‘বাংলা টিলা’


15.04.2017_Panjabi Tila NEWS Pic-03

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৫ বছর পরে পাল্টে যাচ্ছে মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের পাঞ্জাবী টিলার নাম। নতুন নাম করণ হচ্ছে বাংলা টিলা। ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবসে পাঞ্জাবী টিলার নাম পরিবর্তন করে বাংলা টিলা নামকরণের ‘ফলক’ উন্মোচিত হবে। এজন্য বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সুধী সমাবেশসহ ব্যাপক আয়োজন ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে।

দীর্ঘ লড়াই শেষে দেশ স্বাধীন হলো। দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ধরাশায়ী হয়ে পাক বাহিনী পালিয়ে গেলো। কিন্তু তাদের অত্যাচারের স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দেয় মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের গভীর অরণ্য ‘পাঞ্জাবী টিলা’। পাক বাহিনীর নির্মমতা ভুলতে না পারেলও স্থানীয় অধিবাসীদের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে সেই পাঞ্জাবীদেরই নাম। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৫ বছর শেষে পাঞ্জাবী টিলার নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা টিলা’ নাম করণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাক হানাদার বাহিনী ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের এক গভীর অরণ্যে। সেখানে ক্যাম্প স্থাপন করে তারা তাদের কার্যক্রম চালাতো। সেখানেই মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে ধরে এনে তাদের উপর চালানো হতো অত্যাচার। মা-বোনদেরও রেহাই দেয়নি হায়েনারা। স্বাধীনতার পর সেখানে গড়ে উঠে ব্যাপক জন-বসতি। একসময় পাক বাহিনীর বর্বরতার চিহ্ন বয়ে বেড়ানো সে গভীর অরণ্য পরিচিতি লাভ করে পাঞ্জাবী টিলা হিসেবে।

একটি স্বাধীন দেশের জনগণের মুখে বর্বর পাঞ্জাবীদের নাম উচ্চারিত হবে, জন্মসনদ থেকে শুরু করে সব কাগজপত্রে তাদের নাম লিখতে হবে এমনকি পাঞ্জাবীদের নামেই সরকারি অর্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলবে তা হতে পারেনা। আর তাই ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর দিবসের দিনেই বদলে যাবে পাঞ্জাবী টিলার নাম এমনটাই জানিয়েছেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, পাঞ্জাবী নামটা আমাদের দেশের ইতিহাসের সাথে যায়না। স্বাধীনতার  এতোদিন পরেও এ ধরনের নাম থাকাটা সমীচীন মনে  করেন না তিনি।

বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রহমত উল্যাহ বলেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান পাঞ্জাবী টিলার নাম পরিবর্তনের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বলেন, এটা শুধু নাম বদলই নয় বরং ৭১’র পরাজিত শক্তি পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক মানুষের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ।

বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম পাঞ্জাবী টিলার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের সাথে ঐক্যমত প্রকাশ করে বলেন, এ নামটির সাথে স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম জড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, দেরিতে হলেও স্থানীয় জনগণ পাঞ্জাবী টিলা নামটি পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাঞ্জাবীদের ক্যাম্প থাকার কারণেই স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এলাকাটি পাঞ্জাবী টিলা হিসেবে পরিচিতি পায় উল্লেখ করে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, পাঞ্জাবী টিলার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তবে আরও অনেক আগেই এ নাম পরিবর্তন হওয়া দরকার ছিল বলেও মনে করেন তিনি।

এজন্য বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।  সেখানে আয়োজন করা হয়েছে সুধী সমাবেশে। অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান প্রধান অতিথি এবং মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মনছুর আলী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানিয়েছেন বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *