মহেশখালী হিসাবরক্ষণ অফিসের বাঁধহীন দূর্নীতি থামানোর কেউ নেই!


মহেশখালী প্রতিনিধি:

মহেশখালীতে দুদকের গণশুনানীতে চরম অভিযোগ ওঠার পর দ্রুত বদলী করার সিদ্ধান্ত হলেও কোনো এক অজানা কারণে এখনও বহালতবিয়তে আছেন মহেশখালী হিসাবরক্ষণ অফিসের বহুল আলোচিত জুনিয়র অডিটর মধু সরকার। শুনানীতে দুর্নীতির সাক্ষাৎ প্রমাণ পাওয়ার পরেও কেন তাকে মহেশখালী থেকে অন্যত্র বদলী করা হয়নি, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।

এই মধু সরকার ও অফিসটির পদস্থ কর্মকর্তার সিমাহীন দুর্নীতির হাতে অসহায় হয়ে আছে মহেশখালীতে কর্মরত খোদ সরকারি চাকরিজীবীরা। আবার কিছু কিছু অফিসারের সঙ্গে তার গোপন সখ্যতা থাকায় দিনের পর দিন তার দুর্নীতির মাত্রা বেড়েই চলেছে বলে অনেকের অভিমত।

এহেন পটভূমিতে তার দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমেছেন উপজেলা প্রশাসন। ভুক্তভোগীদের কাছে তার ব্যাপারে তথ্য চেয়েছেন প্রশাসন। দ্রুত এই অফিসের দুর্নীতি ও হয়রাণী বন্ধ না হলে প্রতিবাদ স্বরূপ সরকারি কর্মকর্তারা কর্মবিরতির মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

একাধিক সূত্রের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, কর্মরত সরকারি চকরিজীবী ও অবসর প্রাপ্ত চাকরীবীদের বেতন-ভাতা তুলতে হয় মহেশখালী হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমেই। আর এই সুযোগটিই সব সময় অনৈতিকভাবে কাজে লাগায় অফিসটি। বেতন-ভাতার বিল ছাড় করার জন্য এমন কোনো হয়রানি বাকি নাই, যা এই অফিসে এসে সংশ্লিষ্টদের শিকার হতে হয় না।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্ত্রী বা পরিবারের সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী সকলই কোন না কোনভাবে এই অফিসে এসে হয়রাণীর শিকার হয়েছেন। মূলত: উৎকোচ তথা ঘুষের দাবীতে এই হয়রানির কাজটি করে থাকেন অফিসটির বর্তমান জুনিয়র অডিটর মধু সরকার। স্থানীয় বাসিন্দা ও দীর্ঘদিন থেকে একই অফিসে চাকরি করার সুবাদে এবং দুর্নীতি নিষ্কণ্টক করবার খাতিরে, বিভিন্ন ‘লাইনঘাট’ মেন্টেইন করে চলার সুবাদে কোনভাবেই থামছে না মধু সরকার।

সূত্রের তথ্য বলছে, এক সময় মধু সরকার অফিসটির এমএলএসএস হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে প্রমোশন পেয়ে জুনিয়র অডিটর হয়েছেন। পূর্বে তার অভাব অনটনের দিন গেলেও এখন বদলে গেছে তার নিত্য দিনের লাইফ স্টাইল। জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলছে অর্থ-সম্পদ। বদলে যাচ্ছে বাড়িও। তবে তার এই অসম উন্নতিতে কারও মাথা ব্যথা নেই।

তবে বিপত্তি যেন অন্য জায়গায়। যে স্বামী হারা সর্বজন শ্রদ্ধেয় মরহুম শিক্ষকের বৃদ্ধ স্ত্রী বা তার গরিব সন্তান মরহুম শিক্ষকের পেনসনের সামান্য টাকা উঠাতে এসে হিসাবরক্ষণ অফিসে নির্দিষ্ট অংকের বাধ্যতামূলক ঘুষ দিতে হচ্ছে তাতে। এমন টাকায় কারো আঙ্গুল ফুলে উঠলে সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে ঠিক যেন সাধারণভাবে নেয় না। অফিসটির ব্যাপারে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই।

শুধু মধু সরকারই নয়, অফিসটির কর্মকর্তা সুগত সেবক বড়ুয়ার বিরুদ্ধেও অনুরূপ অভিযোগ পাওয়া গেছে বহু সূত্র থেকে। মূলত: তিনিই এই জুনিয়র অডিটরকে দিয়ে এমনসব কাজ করাচ্ছেন। তিনি একমাত্র ঘুষের স্বার্থে একই কম্পাউণ্ডে চাকরি করা অন্য কলিগদের বিষয়েও চোখউল্টাতে দ্বিধা করেন না। এমনই অভিযোগ মহেশখালীর একাধিক সরকারি কর্মকর্তার। কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, তিনি কাজের চেয়ে যেন ভাগভাটোয়ারাতেই অধিকতর বিশ্বাসী। তবে দৃশ্যত: দেখা যায়, যত দোষ মধু সরকারেরই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মধু সরকার জানান, এটা অফিসারদের ব্যাপার। আমি ছোট, এসবে আমাকে জড়ানো মানেই দুর্বলের উপর হয়রানি করার শামিল। তিনি বলেন, উপজেলার বিভিন্ন অফিস থেকে কিছু বিল দেওয়া হয়েছে, যা যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে জমা দেওয়া হয়নি। ফলে এগুলো ছাড়া যাচ্ছে না। তাছাড়া তিনি ‘এসব ফাইলে স্বাক্ষরের মালিক নন’ দাবী করে বলেন, এটা যেন তার উপরে বাড়তি হয়রানি করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *