মহেশখালীতে টানা ২ দিনের বৃষ্টিতে লবণ উৎপাদন বন্ধ


মহেশখালী প্রতিনিধি:

মহেশখালীতে ২  দিনের বৃষ্টিতে লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।  রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি হয় একই কায়দায় সোমবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টি হলে উপজেলার প্রক্রিয়াধীন লবণ উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের মো. শাহ ঘোনার এলাকার লবণ চাষী সাইফুল বলেন, হঠাৎ দুই দিনের বৃষ্টিতে মাঠে প্রক্রিয়াধীন লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হব। লবণ চাষিদের ভাষ্য, বৃষ্টি হলেও এবার মৌসুম ভালো থাকলে আবহাওয়া ভাল হলে লবণ উৎপাদন করে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে।

ধলঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, গেল বছর লবণের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় চাষিরা এ বছর সহায় সম্বল বিক্রি করে নেমে পড়েছেন লবণ চাষে। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির কারণে তৈরিকৃত লবণের মাঠে রোদের দেখা পাওয়া গেলে পুনরায় চাষিরা মাঠে নেমে লবণ উৎপাদন করতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট বেড়িবাঁধের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের অবহেলায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করায় জোয়ারের পানিতে মজুদকৃত লবণ ভেসে যাওয়ার আতঙ্কে রয়েছে সংশ্লিষ্ট লবণ চাষীরা।

বিসিকের হিসেব মতে, চলতি মৌসুমে ১৩টি কেন্দ্রের ( মোকাম) অধীনে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলা (আংশিক) সহ ৬৪ হাজার ১৪৭ একর জমিতে লবণ চাষ করা হয়েছে। তারমধ্যে মহেশখালী উপজেলার নোনাছড়ি মোকামে ৬ হাজার ৬১৮ একর, উত্তর নলবিলা মোকামে ৬ হাজার ৫২৮ একর, গোরকঘাটা মোকামে ৩ হাজার ৮৭৭ একর, মাতারবাড়ি মোকামে ৫ হাজার ৫৮ একর ও মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে  স্থাপিত লবণ প্রদর্শনী কেন্দ্রে ৯৪.২৬ একর, চকরিয়া উপজেলার দরবেশকাটা মোকামে ১১ হাজার ৯৪১ একর, কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডি মোকামে ১ হাজার ৮৫৩.৭৪ একর, কুতুবদিয়া উপজেলার পূর্ব বড়ঘোনা মোকামে ৫ হাজার ৭৮৮ একর, টেকনাফের মোকামে ২ হাজার ৪৬৬ একর, কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী, কক্সবাজার সদরের চৌফলদণ্ডি, সদর উপজেলার গোমাতলীর ৩ হাজার ৩০৮ একর, চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নে ২০০ একর, খুটাখালী ইউনিয়নের ফুলছড়িতে ৩ হাজার ৮৫০ একর ও বাঁশখালী উপজেলার সরল ঘোনার প্রদর্শনী কেন্দ্রে ৩৮৮ একর জমিতে লবণ উৎপাদন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মহেশখালীর উত্তরনলবিলা লবণ কেন্দ্র প্রধান মরিুজ্জামান বলেন, বৃষ্টিতে লবণ উৎপাদন বন্ধ হলেও চাষিরা আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মাঠে নেমে লবণ উৎপাদন করে নিঃসন্দেহে ক্ষতি পুষিয়ে লাভবান হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *