মহেশখালীতে গভীর নলকূপ বসাতে গিয়ে গ্যাসের সন্ধান: আগুনে আহত -৪


received_1827785630802522

এম বশির উল্লাহ, মহেশখালী প্রতিনিধি:

মহেশখালীতে গভীর নলকূপ স্থাপন করতে গিয়ে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে এক দল নলকূপ শ্রমিক। আর এ গ্যাস থেকে সৃষ্টি হয়েছে আগুনের লেলিহান শিখা। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায়  ফায়ার সার্ভিসের টিম দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের ৩ কর্মী সহ ৪ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে নলকূপ শ্রমিক আক্তার হোসেন প্রকাশ মনুকে প্রথমে মহেশখালী হাসপাতাল ও পরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে  মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব সিপাহীর পাড়া গ্রামে মৃত মোসলেম মিয়ার পুত্র নুরুল হক ডিলারে বাড়ীতে। নুরুল হক ডিলার স্থানীয় লোকাজনের কৃষি সেচ জমিতে পানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু করে ১৫ ডিসেম্ভর থেকে।

গত মঙ্গলবার সকাল ৮টায় নলকূপ শ্রমিকরা ৪ শত ৮০ ফিট গভীরে নলকূপ এর পাইপ স্থাপন করতে গেলে হঠাৎ প্রায় ২ শত ৮০ ফুট পাইপ মাটির নিচ থেকে ছিড়ে গিয়ে ২০০ ফিট পাইপ উপরে চলে আসে। তখন থেকে ২ দিন পর্যন্ত মাটির নিচের পাইপে সন্ধান করতে থাকে নলকূপ শ্রমিকরা।

২৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় ঐ নলকূপ থেকে আরো কিছু পাইপের অংশ বেরিয়ে আসলে নলকূপ শ্রমিকরা তখন ঐ ফাইপের সাথে নতুন ফাইপ যুক্ত করতে ফাইপের অংশ আগুনে গরম করার সময় নলকূপ থেকে আগুন বিস্তার করে। অনেক চেষ্টা করে আগুন নিভাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।

এ নলকূপ  পাইপের সৃষ্ট আগুনে নলকূপ কর্মী জাগিরাঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আমিনের পুত্র আক্তর হোসেন প্রকাশ মনুর মুখমন্ডল আগুনে ঝলসে যায়। প্রশাসনের ভয়ে তারা ঘটনাটি কাউকে না জানার চেষ্টা করে। এ সময় দম কল বাহিনীর ৩ জন সদস্য আংশিকভাবে আহত হয় বলে ষ্টেশন অফিসার ধীমান বড়ুয়া দাবী করেন।

আগুন নিয়ন্ত্রনে এলেও বিগত ৩ দিন থেকে ধারাবাহিক গ্যাসের চাপে পানি বিনাচাপে বের হতে থাকে। কোনভাবে নলকূপ স্থানটি  শত শত বস্তা বালি ও মাটি দিয়ে ভরাট করা যাচ্ছে না। এদিকে এলাকার নারী পুরুষের মাঝে নলকূপের সৃষ্ট আগুনের পর থেকে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী পুরুষ এসে গভীর রাত পর্যন্ত ভীড় জমায়।

অপরদিকে বাড়ীর মালিক ও এলাকাবাসি এ নিয়ে চরম আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যে কোন সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার  সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করেন। ৩১ ডিসেম্বর সংবাদ পেয়ে মহেশখালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও বিভীষণ কান্তি দাশ, ইউপি চেয়ারম্যান জিহাদ বিনআলী, শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ফজলুর করিম, স্থানীয় মেম্বার মোঃ জকরিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় ইউএনও নলকূপের পাশ্ববর্তী স্থানে কোন ধরনের আগুনের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য স্থানীয়দের প্রতি অনুরোধ জানান এবং সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য আহবান জানান।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *