ভয় নেই, সচেতনতায় সেরে উঠবে মশাবাহী চিকুনগুনিয়া রোগ, বললেন চিকিৎসক


কক্সবাজার প্রতিনিধি:

গত চার-পাঁচ দিন ধরে প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে শহরের নুনিয়াছড়ার সাইফুল ইসলাম (২৫)। এ জ্বরে একশো পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে অনেক বার। হাড়ের জোড়ায় প্রচণ্ড ব্যাথা। চোখ জ্বালাপোড়া করছে। বমি বমি ভাব লাগছে। শারীরও খুবই দূর্বলতা। এছাড়া সর্দি-কাশি তো লেগেই রয়েছে। এ অবস্থায় খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাইফুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন। তারা প্রথমে ভাইরাস জ্বর মনে করে ক’দিন চিকিৎসা চালিয়েছে। কিন্তু এ রোগের লক্ষণ ভিন্ন।

পরে চিকিৎসক জানান, এ রোগের নাম চিকুনগুনিয়া। এটি মশাবাহী ভাইরাস জনিত রোগ। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশাটি সুস্থ কাউকে কামড়ালে তার শরীরেও এই রোগ হয়। চিকিৎসকের কথায় ঘাবড়ে গিয়েছিল অসুস্থ্য সাইফুল ইসলাম ও তার পরিবার। সাইফুল ইসলাম নুনিয়াছড়ার লিয়াকত মিয়ার ছেলে।

পরে চিকিৎসক জানালেন, এ নিয়ে ঘাবড়াবার কিছু নেই। এই রোগের বিশেষ ঔষধ বা টিকা না থাকলেও সাধরণ চিকিৎসার মাধ্যমে এটি সেরে উঠে। সাধারণত রোগটি এমনি এমনিই সেরে যায়, তবে কখনও কখনও ব্যাথা কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছরের বেশি সময় থাকতে পারে। এছাড়া সচেতন থাকলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এ রোগের ব্যাপারে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, চিকুনগুনিয়া ভাইরাস জনিত রোগ। এটি এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশাটি সুস্থ কাউকে কামড়ালে তারও এ রোগ হতে পারে। এ ধরনের মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়। এছাড়া চিকুনগুনিয়া ভাইরাস আক্রান্ত রক্তদাতার রক্ত গ্রহণ করলে এবং ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার সময়ে অসাবধনতায় এ রোগ ছড়াতে পারে।

এ রোগে রোগীর প্রচণ্ড জ্বর হবে। এ জ্বর একশো ছাড়িয়ে যাবে। হাড়ের জোড়ায় তীব্র ব্যাথা থাকবে। থাকবে মাথাব্যাথা, চোখ জ্বালাপোড়া করবে, বমিভাব, শারীরিক দূর্বলতা ও সর্দি কাশি। এর ফলে রোগী ঠিকমত নড়াছড়া পর্যন্ত করতে পারেনা।

চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩ দিনের বেশি জ্বর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এ রোগের কোন ঔষধ বা টিকা নেই। তবে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। তাও চিকিৎসকের পরার্মশ নিতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিকের কোন প্রয়োজন পড়েনা। বরং অ্যান্টিবায়োটিকের ফলে দীর্ঘমেয়াদের সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ রোগে আক্রান্ত হলে বেশি পরিমানে পানি, ডাবের পানি, স্যালাইন, লেবুর সরবত ইত্যাদি গ্রহণ করতে হবে।

এ রোগ থেকে বাচঁতে মশার কামড় থেকে সুরক্ষাই হচ্ছে সবচেয়ে ভাল উপায়। প্রয়োজনে জানালায় নেট দিতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া দরশা-জানালা বন্ধ রাখতে হবে। ঘুমানো সময় মশারি ব্যবহার করা উচিত। যতসম্ভব কয়েল ব্যবহার না করলেই ভাল। কারণ কয়েলের ধোয়া এমনিতেই ক্ষতিকর। তার মধ্যে অনেক সময় কয়েল দিয়ে ভালভাবে মশা তাড়ানো যায়না।

খুববেশি গুরুত্ব দিতে হবে মশার জন্মস্থান ধ্বংস করার ক্ষেত্রে। বাসার আশপাশে ফেলে রাখা মাটির পাত্র, কলসী, বালতি, ড্রাম, ডাবের খোলা ইত্যাদিতে বৃষ্টির পানি বা এমনিতে পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবেনা। কারণ ওই জমে থাকা পানিতেই মশার প্রজনন হয়।

চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে যাতে মশা কামড়াতে না পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত থেকেই এ রোগ ছড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *