ভূমি কমিশন সংশোধনী আইন- ২০১৩ বাতিল না হলে ২- ৫ জুলাই তিন পার্বত্য জেলায় টানা ৯৬ ঘণ্টা হরতাল


1006241_445746502188557_739347754_n

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিতর্কিত ভূমি কমিশন আইন ২০১৩ বাতিল না হলে ২ থেকে ৫ জুলাই তিন পার্বত্য জেলায় হরতাল ঘোষনা করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন। পাশাপাশি ৯ দফা দাবী মেনে নিয়ে অবিলম্বে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম ত্রিপুরাকে অপসারণের দাবী করেন তারা। শনিবার বিকেলে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন তারা এ দাবী করেন।

সংগঠনের মহাসচিব মনিরুজ্জামান মনির এর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি জেলার সভাপতি মোঃ আনোয়ার উল্লাহ, বান্দরবান জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক মোঃ সেলিম আহম্মেদ চৌধুরী, পার্বত্য ভূমি রক্ষা কমিটির মহাসচিব মোঃ হেলাল উদ্দিন, সমঅধিকার যুব আন্দোলন ও ছাত্র আন্দোলন নেতা কামরুজ্জামান (কমল) ও নজরুল ইসলাম সেলিম, সমঅধিকার নারী আন্দোলন নেত্রী রওশন আরা সুরমা, ফৌজিয়া ইসলাম, রোজিনা বেগম, জেসমিন আক্তার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার উল্লাহ বলেন, সেনাবাহিনীকে পরিপূর্ন ক্ষমতা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চালাতে হবে। অবাধে সৃজনকৃত বাগান কাটা বন্ধ করে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, বৈষম্যমূলক বিতর্কিত ভূমি কমিশন আইন ২০১৩ বাতিল এবং সাম্প্রদায়িক সরকারী কর্মকর্তা পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরাকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারী সকল প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় বাঙালিদেরকে সমঅনুপাতে প্রতিনিধিত্ব করতে দিতে হবে। বাঙালিদেরকে আর শোষন করা চলবে না। ৫২% বাঙালিদের অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে কুখ্যাত ব্রিটিশ হিলটেক্স মেনুয়েল এক্ট ১৯০০ বাতিল এবং আদিম যুগের মানধাতা আমলের প্রথাগত ভূমি অধিকারের গান-বাজনা বন্ধ করতে হবে। দেওয়ান, খ্রীসা, তালুকদার, হেডম্যান, কারবারী, সার্কেল চিফ, বাজার চৌধুরী ইত্যাদি প্রথা বন্ধ করতে হবে। পার্বত্যবাসী উপজাতি ও বাঙালিদের মানবাধিকার ফিরিয়ে দিয়ে উপজাতীয় নেতাদের কবল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে রক্ষা করতে হবে।

আগামী ২৫ জুন রাঙামাটিতে ড. গওহর রিজভী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের যে বৈঠক ডাকা হয়েছে, তাতে যদি ভূমি কমিশন আইন ২০১৩ বাতিলের সিদ্ধান্ত না আসে তবে যে কোন হরতাল অবরোধ কর্মসূচী ঘোষনার মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে দাবী আদায় করে নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সমঅধিকারের ৯ দফা দাবী

 ১। পার্বত্যবাসী বাঙ্গালীদেরকে সাংবিধানিক সমঅধিকার দিতে হবে। সকল মিথ্যা মামলা ও সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ করতে হবে। এ যাবত শান্তিবাহিনী কর্তৃক সকল হত্যাকান্ডের মামলা রুজু করে বিচার করতে হবে। ২। বৈষম্যমূলক পার্বত্য কালো চুক্তি বাতিল করতে হবে। অথবা চুক্তির অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক ধারাগুলো চিহ্নিত করে বাতিলের লক্ষ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। ৩। বিতর্কিত ভূমিকমিশন বাতিল করে তাতে পার্বত্যবাসী বাঙ্গালীদের সহ সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নিয়ে অথবা পক্ষভূক্ত নয় এমন লোকদের নিয়ে পুনঃগঠন করতে হবে। পার্বত্য বাঙ্গালীদের বন্দোবস্তি- প্রাপ্ত বৈধ মালিকাধীন ভূমি ফিরিয়ে দিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন, জমি ক্রয় ও বন্দোবস্তি নেওয়ার অধিকার থেকে দেশের কোন নাগরিককে বঞ্চিত করা যাবে না। ৪। সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার বন্ধ করতে হবে। প্রত্যাহারকৃত সেনা, বিজিবি ক্যাম্পগুলোকে স্থানীয় সশস্ত্র ভিডিপি, হিল আনসার, ব্যাটালিয়ন আনসার ও আর্মড পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করতে হবে। বসতি বিহীন এলাকা সমূহে নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপন করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা তৈরীর সুযোগ বন্ধ করে দিতে হবে। ৫। জে.এস.এস ইউপিডিএফ, সদক, গুন্ডুজ, বোরকা পার্টি, পাছা পরিষদের চাঁদাবাজি, অত্যাচার, নির্যাতন, অপহরণ, মুক্তিপন, গণহত্যা, বন্দুক যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। সন্ত্রাসীদের দমনে ও নিরস্ত্র করতে জোর প্রচেষ্টা নিতে হবে। ৬। আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য টাস্কফোর্স সহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সরকারী প্রতিষ্ঠান ও কমিটিতে পার্বত্যবাসী বাঙ্গালীদের আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব রাখতে হবে। ৭। ব্রিটিশ হিলট্যাক্স ম্যানুয়াল এ্যাক্ট-১৯০০ বাতিল করতে হবে। এটি সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। কুখ্যাত পূর্ব তিমুরের চক্রান্ত-কারী ব্রিটিশ নেতা লর্ড এরিকও সুলতানা কামাল চক্রবর্তির নেতৃত্বে গঠিত তথা কথিত এনজিও পার্বত্য চট্টগ্রাম আন্ত-জার্তিক কমিশনকে বাংলাদেশে বে-আইনি ও অকার্যকর বলে ঘোষণা করতে হবে। ৮। রাষ্ট্রদ্রোহী কতিপয় উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে হবে। বিদেশী দাতা সংস্থা ও দূতাবাসগুলোতে দেশের বাইরে উপজাতীয় নেতাদের আদিবাসী চক্রান্ত ও বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে। ৯। শিক্ষার ক্ষেত্রে চাকমা ও বাঙ্গালী, মারমা, ত্রিপুরা, মুরং, তনচংগা, পাংখুদের শিক্ষার হার সমান করার আশু ব্যবস্থা নিতে হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য বরাদ্দ উচ্চ শিক্ষার কোটা (৩২৫) এবং বিদেশে শিক্ষার সুযোগ (স্কলারশীপ) জনসংখ্যা অনুপাতে প্রত্যেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপজাতি ও বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের মধ্যে সুবিচারমূলক ভাবে বন্টন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *