ভূমিকম্পের প্রবল ঝুঁকিতে মহেশখালী দ্বীপ: আস্ত বাড়ী দেবে ঢুকে যাচ্ছে মাটির নীচে


Capture copy

মহেশখালী প্রতিনিধি:

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ মহেশখালীতে ভূমিকম্প পরবর্তী মাটির নীচে ভূ-আলোড়নের  প্রভাবে আস্ত একটা বাড়ী দেবে ঢুকে গেল মাটির নীচে। ঘটনাটি ঘটেছে ৫ সেপ্টেম্বর সোমবার উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কালালিয়া কাটা গ্রামে। ইতিপূর্বে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পে ওই গ্রামের পার্শ্ববর্তী কালালিয়া কাটা ও কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা ও শাপলাপুর ইউনিয়নের ষাইটমারা পাহাড়ী এলাকায় পৃথক পৃথক আরো চারটি ঘটনায় পাহাড়ের বিশাল অংশ দেবে গিয়ে আস্ত উঁচু পাহাড়ের জায়গায় পরিণত হয়েছিল পুকুরে। ফলে আশপাশের এলাকায় আতংক সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, গত ২৪ আগষ্ট সারা দেশে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের ফলে ফেটে যাওয়া বাড়ীর দেওয়াল চাপা পড়ে মহেশখালীর রাজুয়ার ঘোনা গ্রামের জিয়াউর রহমানের ৪ বছরের শিশু পুত্র রাকিবুল হাসান নিহত সহ ৩ জন আহতের ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থল সরজমিনে গিয়ে দেবে যাওয়া বাড়ীর মালিক হোয়ানক ইউনিয়নের কালালিয়া কাটা গ্রামের মৃত ছালেহ আহমদ এর পুত্র আব্দুল আমিন জানান, তিনি পেশায় একজন কাঠ মিস্ত্রি। বিগত ৩ বছর পূর্বে শখ করে নিজের ইচ্ছে মত সুন্দরে করে টিন সেট মাটির দেওয়ালের বাড়ী খানা নির্মাণ করেছিলেন। গত ২৪ আগষ্ট ভূমিকম্পে বাড়ীটির দেওয়াল ফেটে যায়। মনে করেছিল সামান্য মেরামত করে বসবাস করা যাবে। কিন্তু গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে হঠাৎ বাড়ীটি মড় মড় শব্দ করে আস্তে আস্তে দেবে যাচ্ছিল। এসময় প্রথম দফায় মাটির দেওয়ালের প্রায় ৫ ফুট পর্যন্ত সোজা মাটিরে নীচে ঢুকে যায়। তিনি ছেলে মেয়েসহ পরিবারের সকলকে নিয়ে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে ঘরের বাইরে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

তিনি আশঙ্কা জানিয়ে বলেন, দিনের বেলায় এ ঘটনা হওয়ায় তারা প্রাণে বেঁচে যান । অন্যথায় রাতের বেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় এ ঘটনা ঘটলে পুরো পরিবারের সদস্যরা মাটি চাপা পড়ে মারা যেত। ওই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা বাড়ীটির অবশিষ্ট দেওয়ালের উপরের অংশ আছড়ে পড়ে পুরো বাড়ীটি বিধ্বস্থ হয়ে যায়।

এলাকাবাসীরা ধারণা করছেন, ওই বাড়ীর পার্শ্ববর্তী বিশাল এলাকায় নরম কাঁদা মাটির ঝিল (ডেবা) অবস্থিত। ভূমিকম্পের ফলে ওই নরম এলাকায় ধ্বসের সৃষ্টি হওয়ায় পরবর্তীতে এ বাড়ী ধসের কারণ হতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ীর মালিক আব্দুল আমিন জানান, যেহেতু তিনি একজন দিন মজুর কাঠ মিস্ত্রি তাই তার বাড়ীটি বিধ্বস্থ হওয়ায় তিনি এখন খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছেন। এ ছাড়া উক্ত কালালিয়া কাটা গ্রামের সংলগ্ন পূর্ব পাশে পাহাড়ী এলাকায় বিগত ২০১৩ ইং সালেে ভূমিকম্পে কুমাইরগ্যার ঝিরি নামক স্থানে এবং ৯৭ সালে ঘটে যাওয়া মাঝারী তীব্র ভূমিকম্পে ‘কাছিমের উডনী’ নামক স্থানের দু’টি পাহাড়ের বড় ধরণেল ধ্বসের ঘটনা ঘটেছিল।

অপরদিকে কালারমার ছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা এলাকায় পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ এবং শাপলাপুর ইউনিয়নের ষাইটমারা এলাকার পুরো একটি পাহাড় ধ্বসে প্রায় ৫০/৬০ ফুট নীচে দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ওই সব ঘটনায় তৎকালে সরকারী ভাবে ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের বিশেষজ্ঞ লোকজন মহেশখালীতে পরির্দশনে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *