বৈসাবিকে ঘিরে মানিকছড়ির মহামুনিতে বসবে পাহাড়ি-বাঙ্গালীর ঐতিহাসিক মিলনমেলা


 

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

বাংলা নববর্ষ মানে আনন্দের জোয়ার। দেশব্যাপী নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হলেও পাহাড় জুড়ে এ আনন্দের মাত্রায় পাহাড়ি-বাঙ্গলী একাকার। বিশেষ করে মানিকছড়ি মংরাজ আবাসস্থল মহামুনি চত্বরে প্রতি  বছরের ন্যায় এবারও জমবে মেলার ১৩৫তম আসর। আর এ আয়োজন উপভোগ করতে তিন পার্বত্য জেলা এবং চট্রগ্রাম থেকে হাজারো নর-নারী, শিশু-কিশোরের জমায়েত হবে পাহাড়ি-বাঙ্গালীর মিলনস্থল। ইতিমধ্যে মেলার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান মেলা আয়োজন কমিটি।

মহামুনি মেলার ইতিবৃত্ত:

মহামুনি বুদ্ধমূর্তি সহিত মেলার তাৎপর্য-মানিকছড়িতে প্রত্যেক বছর মহামুনি টিলায় মেলা বসে। আর বর্তমানে এ মেলাকে অনেকে সাংগ্রাই মেলা, বৈসাবি মেলা, বৈসাবিন মেলা ও বৈশাখি মেলা বলে থাকে। আসলে মেলাটা হবে মহামিনি বুদ্ধ মেলা। এই মহামুনি মেলা হওয়া প্রসঙ্গে আমরা কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্ট অবতারনা হতে পারি তা হল-মহামুনি টিলায় বুদ্ধমূর্তি স্থাপনকে নিয়ে।

১৭৮৪ সালে মিয়ানমার (বার্মা) আরাকান সাম্রাজ্যে থেকে মূর্তি নিয়ে এসে মংসার্কেলের মংরাজা কংজয় বাহাদুর চট্রগ্রাম পাহাড়তলীতে মহামুনি নামক বুদ্ধ মং রাজা বাহাদুর নিপ্রুসাইন মানিকছড়ি মহামুনি বুদ্ধমূর্তিটি মিয়ানমার (বার্মা) মান্দালয় প্রদেশ থেকে অষ্ট ধাতু দিয়ে নির্মিত মূর্তিটি নিয়ে এসে মুহামনি টিলায় স্থাপন করা হয়। তখন থেকে এ মহামুনি টিলায় প্রত্যেক বছর মারমা পঞ্জিকা অনুসারে মেলা বসে। মূর্তি স্থাপন প্রথম দিকে কিন্তু মেলা জাঁকজমক ছিলনা।

আশির দশকের পর মেলা জাঁকজমক হতে থাকে।  মূলত এ মহামুনি মেলা হওয়া উদ্দেশ্য হল মহামুনি বুদ্ধমূর্তি স্থাপনের বর্ষপূর্তি হিসাবে। আর এ মেলার দিন পঞ্জিকা থাকলেও অনেক সময় ইংরেজি ১৪ এপ্রিলে সাথে মিলে যায় বলে অনেকে মনে করে বৈশাখী মেলা। কিন্তু আসলে তা নয়। দেখা যায়, ১৯৯৫ সালে মহামুনি মেলা উৎসব পালিত হয় ১৪ এপ্রিলে এবং ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত হয় ১৫ এপ্রিলে। আর গত বছর ২০১৫ সালে মেলার তারিখ ছিল ১৪ এপ্রিল এবং গত ২০১৬ সালে মেলা হয়েছিল ১৩ এপ্রিল। এবার ২০১৭ ও ২০১৮ সালে হচ্ছে ১৪ এপ্রিল।

আবার আগামী ২০১৯ সালে হবে ১৩ এপ্রিল। আবার কোন কোন বছর গ্রহ-নক্ষত্র অবস্থানগত কারণে এ উৎসব তারতম্য হয় যেহেতু মারমাব্দ সম্পূর্ণ চন্দ্রালোকের উপর নির্ভরশীল তাই সৌরমন্ডলের উপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। কথিত আছে এ মহামুনি বুদ্ধমূর্তিটি মহাকারুনিক গৌতম বুদ্ধ জীবিত থাকাকালীন সময় এবং বুদ্ধ মিয়ানমার (বার্মা) দেশের আরাকান প্রদেশে অবস্থানকালে আরাকান প্রদেশে মহারাজা চাইন্দা সুরিয়া ( চন্দ্র-সূর্য) বুদ্ধে অনুমতি নিয়ে তৈরি করা হয় এ বুদ্ধের প্রতিমূর্তি। আর ধরে নেওয়া যায় এটিই পৃথিবীর বা জগতের প্রথম বুদ্ধমূর্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *