বৈদ্যুতিক তারেও ভেজাল, ঠকছে গ্রাহক


02-1-copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বৈদ্যুতিক তারের ভিতর দেওয়া হচ্ছে ভেলাজ ধাতু। ফলে প্রতিনিয়ত ঠকছে গ্রাহক। আর এ অপকর্ম করছে একদল অসাধু ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবসায়ী। তারা সহযোগিতা নিচ্ছে ঢাকার কিছু তার তৈরীর কারখানার। আর এসব ব্যবসায়ীদের সাথে থাকছে স্থানীয় কিছু অসাধু ইলেক্ট্রনিক্স মেকানিক। যারা কমিশনের জন্য এ অপকর্ম করে।

যার ফলে মারাত্মকভাবে ঠকছে গ্রাহকেরা। এতে শুধু গ্রাহকেরা ঠকছেনা পাশাপাশি ঝুকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ এসব নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তারে শট সার্কিটসহ নানা দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। এমনটাই তথ্য পাওয়া যায়, ভূক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শহরে শতাধিক ইলেক্ট্রনিক্স’র দোকান রয়েছে। এর বেশিরভাগই হল শহরের বাজারঘাটা এলাকায়। আর এসব দোকানের অধিকাংশ’ই এ অপকর্মের সাথে জড়িত। তারা কোনো কোম্পানির নতুন তার বাজারে আসলে তার কাভার (খোলস) নকল করার জন্য ঢাকার ওসব কারখানার সাথে যোগাযোগ করে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে নকল কাভার দিয়ে ভিতরে এলমোনিয়ামসহ নিম্নমানের ধাতু দিয়ে অবিকল ভাল কোম্পানির তারের মতো করে বানিয়ে নিয়ে আসে। আর তা বেশি লাভ করে বাজারে বিক্রি করে।

সৎ ও সচেতন ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে ব্যবসার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গ্রাহকরা। গ্রাহকরা সস্তা দেখে ওসব ভেজাল তার’র দিকে ঝুকছে। আর ঠকছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে ভাল তার সস্তা দামে বিক্রি করছে বলে ঠকায়। কারণ নকল তার বানাতে তাদের খুবই কম টাকা খরচ হয়। আর এ তার কিছুদিন পরে ভিতরে ছিড়ে যাওয়া সহ নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে। আর বদনাম হয় ভাল কোম্পানির তারের। কারণ ভাল কোম্পানির নকল কাভার দেওয়া আছে ওসব ভেজাল তারে।

আর অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে যুক্ত রয়েছে কিছু ইলেক্ট্রিক মেকানিক। যাদের সাথে ইলেক্ট্রনিক্স দোকানের সাথে আগে থেকে বোঝাপড়া থাকে। তারা তার কিনতে গিয়ে বিভিন্ন সংকেত দেয় ভেজাল তার দেওয়ার জন্য। তারা কমিশনের জন্য এ অপকর্ম করে।

এ দূর্নীতির ব্যাপারে সচেতন যুবক নুরুল ইসলাম জানান, অসাধু ব্যবসায়ীরা টাকার লোভে যে কাজটি করছে এটি খুবই জঘন্য।  শহরের অনেকে বড় বড় দালান তৈরী করেছে এ ভেজাল তার দিয়ে। আর এ ভেজাল তার বিল্ডিং এর ভিতর দিয়ে চালানো হয়েছে। এতে বড় ধরনের ঝুকির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত দিয়ে জেল-জরিমানা করা উচিত।

এ ব্যপারে কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরন বিভাগের নিবার্হী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ অপকর্ম চলছে। তারা খুব শীঘ্রয় এসবের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে। তিনি আরও জানান, এর ফলে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই গ্রাহকদেরও সচেতন থাকার পরার্মশ দেন।

 

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *