বেহাল দশায় ধূরুংবাজার ডাকঘর


কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কুতুবদিয়ার ধুরুংবাজার ডাকঘরটি বেহাল দশায় পড়ায় কার্যক্রম চলছে পিয়নের বাড়িতে। ফলে ভোগান্তি বেড়েছে গ্রাহক আর কর্মচারি দু’জনের।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কেন্দ্র ধুরুংবাজারে ৫ দশক আগে পরীক্ষামূলক ভাবে শাখা ডাকঘর চালু করা হয়। নিজস্ব ভবন না থাকায় তৎকালীন সময়ে যাত্রী ছাউনীতে কার্যক্রম শুরু হয়। নাম মাত্র বেতনে একজন পোস্ট মাষ্টার, একজন পিয়ন আর একজন রানার দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছিল। স্বল্প বেতন হওয়ায় গত ৫০ বছরে ৫/৬ জন পোস্ট মাষ্টার ইস্তফা দিয়েছেন। তবে অন্তত: ৭ বছর ধরে সে পোস্ট মাষ্টারও নেই। পিয়ন দায়িত্ব পালন করছেন পোস্ট মাষ্টারের। তার পিতা রানারের দায়িত্বে রয়েছেন প্রথম থেকেই। পিতা-পুত্রেই ধরে রেখেছেন ধূরুং ডাকঘর।

তবে এর পরেও শেষ নেই। টিনের ঘরে সামান্য বৃষ্টি হলেই মেঝেতে জমে হাঁটু পানি। যৎসামান্য কাগজ-পত্র ,চিঠি যা রয়েছে তা ভিজে নষ্ট। যে কারণে ডাকঘরের কার্যক্রম এখন পিয়নের বাড়ি স্থানীয় ধূরুংকাঁচা গ্রামে। সামান্য বেতনের আশায় তারা দু’জনে টিকিয়ে রাখছেন ডাকঘরটি। চিঠি-পত্র খুব একটা প্রেরণ না হলেও ডেলিভারি রয়েছে কিছুটা। বাজারে অফিস না থাকায় ভোগান্তি যেমন গ্রাহকদের তেমননি কর্মচারি দু’জনেরও। অপর দিকে একই ধরণের আলী আকবর ডেইল ও লেমশীখালী ইউনিয়নের দু’টি ডাকঘর নিজস্ব ভবন প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এটি সংস্কার কিংবা ভবন নির্মাণে কোন মাথা ব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

ধূরুং ডাকঘরের পিয়ন কাম পোস্টমাষ্টার জামাল হোছাইন বলেন, অফিস নেই। যা কিছু ডকুমেন্টস ও চিঠি-পত্র আসে তা সংরক্ষণে ভাঙা অফিসে নিরাপদ নয়। যে কারণে তিনি দায়িত্বের তাগিদে নিজ বাড়িতে রেখে ডাকঘর পরিচালনা করছেন। নিজস্ব একটি ভবন প্রয়োজনের কথা তিনি অনেকবার উপরস্থ কর্মকর্তাদের বলেছেন। কাজ কিছুই হচ্ছেনা।  যাত্রী ছাউনিতে অফিসটির জায়গা ধুরুং হাই স্কুল দাবি করছেন বলে তিনি জানান। এটি মেরামত কিংবা অন্যত্র সরিয়ে সম্মানজনক ভাবে শাখা অফিসটি পরিচালনার দাবি করেন তিনি।

ধূরুং উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোর্শেদুল আলম বলেন, ধূরুং ডাকঘরের জন্য জমির প্রয়োজন হলে তারা ওই একই স্থানে দিতে প্রস্তুত আছেন। জনস্বার্থে এটি তারা করবেন। ডাক বিভাগ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে তারা সব সময় সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া ডাকঘরের পোস্ট মাষ্টার মো. আবুল কাশেম বলেন, ধূরুং ডাকঘর মূলত: এজেন্ট ডাকঘর হিসেবে চলছে। স্থানীয় কেউ জমি দান করলে সেটি ডাক বিভাগ ভবন নির্মাণে বিবেচনা করে থাকেন। বর্তমানে জরাজীর্ণ ধূরুং ডাকঘর এর কাজ পিয়নের বাড়িতে নেয়ার কথা তিনি জানেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *