বিজিবি ক্যাম্প প্রত্যাহারে সরকারী নির্দেশ: প্রতিবাদে রাস্তায় আশপাশের ৬৬ পাড়ার মানুষ


bandarban-pic-29-11

নিজস্ব প্রতিবেদক:

লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিজিবি ত্রিশডেবা বিওপি ক্যাম্প পূর্ণবহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা। মঙ্গলবার ফাঁসিয়াখালী বনপুর বাজারে স্থানীয় ৫শতাধিক নারী-পুরুষ মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করে।

জানা গেছে, ৩১ বিজিবি নাইক্ষ্যংছড়ি জোনের অধিনস্থ লামা ত্রিশডেবা বিওপি ক্যাম্পটি সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যাহার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ সংবাদ জানার পর ক্যাম্পটির আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ প্রত্যাহার আদেশ বাতিলের দাবিতে মানবন্ধন করে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বনফুর বাজারের ব্যবসায়ী রিংকু বাবু ধর, মো. আবুল কালাম, লুৎফুর রহমান ও মির আহমদ মিলন।

লুৎফুর রহমান বলেন, ১৯৮৩-৮৪ সালের দিকে ত্রিশডেবা বিওপি বিজিবি ক্যাম্পটি স্থাপিত হয়। এই ক্যাম্পটির আশপাশে ৪১টি বাঙ্গালী পাড়া ও ২৫টি উপজাতি পাড়া রয়েছে। ক্যাম্পটি স্থাপন হওয়ার পর থেকে আমরা নিরাপত্তার সাথে জীবন যাপন করতে পারছি। এ মুহুর্তে ক্যাম্পটি প্রত্যাহার করে নিয়ে যাওয়া মানে অত্র এলাকার প্রায় ১৬ হাজার বাঙ্গালী ও ৭ হাজার উপজাতি জনগণকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া।

মো. আবুল কালাম বলেন, ক্যাম্পটি চলে গেলে এলাকায় চাদাঁবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অপহরণ, খুন, ডাকাতি ও ছিনতাই বেড়ে যাবে। এ অঞ্চলটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন তড়িৎগতিতে এসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিহত করতে পারেনা। তাই বিজিবি ক্যাম্পটি রাখা আমাদের সকল সম্প্রদায়ের প্রাণের দাবি।

মীর আহমদ মিলন বলেন, আমরা এখন দিনে-রাতে ঘুমাতে পারি। ক্যাম্পটি না থাকলে সন্ধ্যার পর এই এলাকাটি দুস্কৃতিকারীদের অভয়রাণ্যে পরিণত হবে।

ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার বলেন, এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পটির খুবই প্রয়োজন। জনসাধারণের জানমালের কথা চিন্তা করে বিজিবি’র ত্রিশডেবা বিওপি ক্যাম্পটি রাখতে সরকার ও বিজিবির কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।

নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল আনোয়ারুল আজিম জানান, ক্যাম্প প্রত্যাহারের বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃক্ষের সিদ্ধান্ত।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *