বান্দরবানে হরতাল প্রত্যাহার


নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

সম্প্রীতির বান্দরবানে হরতাল প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি জানিয়েছেন পার্বত্য নাগরিক পরিষদ বান্দরবানের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান।

খাগড়াছড়ি উপজেলার মহালছড়ি থেকে অপহৃত তিন বাঙালিকে জীবিত উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত মাইক্রোবাস চালক সজিবের খুনিদের গ্রেফতার এবং তিন পার্বত্য জেলায় জনসংহতি সমিতি, ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র সংগঠনগুলোর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সোম ও মঙ্গলবার তিন পার্বত্য জেলায় ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দেয়া হয়।

আতিকুর রহমান জানান, অপহরণ ও হত্যা করা হয়েছে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে। তাই সম্প্রীতির বান্দরবানে হরতাল ডেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চায়না। হরতাল শিথিল করে প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হবে।

পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, কেউ রাজনৈতিক ভাবে শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাম্প্রতিক পাহাড়ের রাজনৈতিক উত্তপ্ত হওয়ায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছেন, বান্দরবান জেলায় একছত্র আধিপত্য বিস্তার লাভ করে আছে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। জেলায় জেএসএস ছাড়া পাহাড়ি সংগঠন গুলোর মধ্য অন্য কোন আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কোন ভিত্তি নেই। ইউপিডিএফের জেলা শহরে সাংগঠনিক কার্যক্রম থাকলেও আধিপত্য নেই। এ সুযোগটি জেএসএস কাজে লাগিয়ে বান্দরবানের প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় আধিপত্য ধরে রেখেছে। পাহাড়ে জেএসএস সন্ত্রাসীদের কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে আসছে।

ইউপিডিএফ’র আধিপত্য না থাকলেও বান্দরবানে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাথে দ্বন্দ্ব রয়েছে। জেএসএস চায় তাদের সমর্থিত নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জেএসএস রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে তারা বেচে নেয় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। ২০১৬ সালের ১৩ জুন জামছড়ি পাড়া থেকে অপহরণ করে সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মং পু মার্মাকে। আজ পর্যন্ত মূল আসামিকে গ্রেফতার করা যায়নি এবং অপহৃতের খোঁজ মেলেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *