বান্দরবানে সরকারি সোলার প্যানেল স্থাপনে উপকারভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়


 

লামা প্রতিনিধি:

বান্দরবানের প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে সোলার প্যানেল স্থাপন কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্পের বিনা মূল্যে সরবরাহকৃত সোলার প্যানেলের উপকারভোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রকল্পের স্থানীয় কর্মকর্তাগণ তাদের মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত পরিমান টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগে জানাগেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২০১৫-১৬ অর্থ বছর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় দূর্গম এলাকার জনগোষ্ঠির মাঝে বিনা মূল্যে প্রতিটি পরিবারে ৬৫ ওয়ার্ডের সোলার প্যানেল স্থাপন করার কথা। সরকারের সাথে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান  বাংলাদেশ মিশিন টুলস্ ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) প্র্রতিটি সোলারের সার্ভিস চার্জসহ চুক্তিমূল্য ৩৫ হাজার টাকা। বান্দরবান জেলায় সররাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রিন্টিং ক্রসিং পয়েন্ট লিমিটেড (পিসিপিএল) নামক প্রতিষ্ঠান  সোলার স্থাপন করছে।

প্রকল্পের বান্দরবান জেলার টেকনিক্যাল অফিসার আসুতোষ চাকমা জানিয়েছেন, প্রতিটি সোলার প্যানেল স্থাপনের পর সার্ভিসিংসহ তিন বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি রয়েছে। সরকার দূর্গম এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে বিদ্যুতায়নের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করছে।

প্রকল্পের মাধ্যমে চলতি অর্থ বছরে জেলার থানচি রেমাক্রিতে ৩৮০, রূমার পান্দুতে ৫৬০, পাংসায় ২৮০, বান্দরবান সদরের টংকাবতিতে ১৫০, লামার গজালিয়ায় ৩৫২, রূপসীপাড়ায় ২২০, আলীকদমের কুরুপপাতায় ৩৫০, নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়িতে ২৫০ ও রোয়াংছড়ি সদরের পাখ্যং পাড়ায় ৯২ টিসহ মোট ২৪৭৪ পরিবারের মাঝে বিনা মূল্যে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে।

রূপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শহীদ জানিয়েছেন, প্রতিটি সোলার প্যানেল স্থাপনে প্রতি উপকারভোগীর কাছ থেকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। যারা টাকা দিতে পারেনি তাদের নাম উপকারভোগী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রূপসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মো. আবুল হোসেন জানিয়েছেন, খরচ বাবদ কিছু কিছু উপকারভোগী টাকা দিয়েছেন। তবে অনেকে নির্ধারিত টাকা দিতে পারেনি।

গজালিয়া ইউনিয়নের বটতলী এলাকার উপকারভোগী মো. শরীফ জানিযেছেন, তাদের এলাকার সকলের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপসীপাড়া উইনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাচিংপ্রু মারমা বলেন, অফিস খরচ বাবদ সামান্য কিছু টাকা নেওয়া হয়েছে। বান্দরবান জেলার টেকনিক্যাল অফিসার আসুতোষ চাকমা জানিয়েছেন, সোলার প্যানেল স্থাপন করতে গেলে এলাকার লোকজন খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *