বান্দরবানে মার্মাদের সাংগ্রাইং উৎসব শুরু


নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবানে বসবাসকারী মারমা জনগোষ্ঠির ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব সাংগ্রাইং পোয়েঃ বা বর্ষবরণ উৎসব শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে।

মারমা বর্ষপঞ্জি সাক্রয়-১৩৮০ বরণের লক্ষ্যে ৭দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার প্রথম দিনে শুক্রবার সকালে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। বান্দরবান শহরের রাজার মাঠ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রায় বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং এমপি এতে নেতৃত্ব দেন। সাংগ্রাইং উৎসব কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার বৌদ্ধ বিহার থেকে বুদ্ধমূর্তি বের করে মাথায় চাপিয়ে র‌্যালি করে সাঙ্গু নদীর উজানি পাড়া ঘাটে স্নান করানো হবে।

সাক্রয় বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৩৮০ সালের প্রথম দিন শুরু হবে ১৭ এপ্রিল থেকে। প্রচলিত রীতি অনুায়ী সাক্রয়-১৩৭৯-এর শেষ দুই দিন ১৫ ও ১৬ এপ্রিল মৈত্রী পানি বর্ষণ করে পুরাতন বছরের দুঃখ-গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরকে আবাহন জানানো হয়। বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট এবং উৎসব উদযাপন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এবার বান্দরবান রাজার মাঠে সাংগ্রাইং উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। মঞ্চে স্থাপিত একটি নৌকার এক পাশে যুবক এবং অপর পাশে যুবতীরা দাঁড়িয়ে একে অন্য জনের প্রতি পানি ছিটিয়ে পরষ্পরকে পবিত্র করে নেবে। এভাবেই তারা পুরাতন বছরকে বিদায় জানায়।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, শত বছর আগে প্রকৃতি পূজারি থাকার সময় জৌ জনজাতি বা (বম, পাংখো ও লুসাই) বর্ষবরণের নানা আয়োজন করলেও ১৯১৮ সালে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণের পর থেকে তাদের মধ্যে বর্ষবরণ উৎসব আয়োজনে ভাটা পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে এই ৩টি জনগোষ্ঠি নিজেদের উদ্যোগে সীমিত পর্যায়ে বর্ষবরণ বা বর্ষ বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করার কথা চিন্তা ভাবনা করছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। এদিকে বাঙলা নববর্ষ ১৪২৫ উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল (শনিবার) সকাল ৭টায় রাজার মাঠ থেকে সার্বজনীন বর্ষবরণ র‌্যালি বের হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং এমপি নেতৃত্ব দেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *