বান্দরবানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যুবতীকে গণধর্ষণ


বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানে এক যুবতীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিক ও তার তিন বন্ধু মিলে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার(২৮ সেপ্টেম্বর) বান্দরবানের প্রান্তিক লেক এলাকার গহীন জঙ্গলে মো. আকতারের বাগানে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ৪জনের পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক গনধর্ষণ করে ভিক্টিম (১৮)কে।

ধর্ষণকারীরা হলো- বান্দরবান সদর উপজেলার সোয়ালক ইউনিয়নের ভাগ্যরকুল এলাকার দামীর হোসেনের পুত্র বেলাল উদ্দিন (২৯) সে (ভিকটিম) কিশোরীর প্রেমিক বলে জানা গেছে। অন্যরা হল একই এলাকার নুর মোহাম্মদের পুত্র, আবুল বশর (৩০) আব্দুর রশিদের পুত্র, মো. জয়নাল (৩০)মনু মিয়ার পুত্র, মো. নাছির (২৯)।

৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় ভিকটিমের বাবা, মা, ভাইসহ উপস্থিত থেকে বান্দরবান সদর থানায় এক মামলা দায়ের করে। এই সময় ভিক্টিমের বাবা, মা ও বড় ভাইকে বান্দরবানে কর্মরত সাংবাদিকরা ঘটানার সত্যতা জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদের বেলাল উদ্দিন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বান্দরবানের প্রান্তিক লেক এলাকার নির্জন পাহাড়ে নিয়ে প্রেমিক ও তার ৩বন্ধু মিলে গণধর্ষণ করেছে। এসময় ভিক্টিমের বাবা বলেন, আমার মেয়ের উপর যে মানষিক নির্যাতন করেছে তারা তার যথাযত শাস্তি চাই। আর তার জন্য তারা প্রশাসনের সহযোগিতাও কামনা করেন।

ভিক্টিমের বড় ভাই মো. জসীম জানান, বেলাল এবং ভিকটিম সম্পর্কে আত্মীয় হয়। গত এক বছর যাবত তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

গেল ২৮সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিকেলে প্রেমিক বেলাল উদ্দিন ভিকটিমকে পালিয়ে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলে সে সহজ সরল মনে রাজি হয়ে যায়। সে সুযোগে তাকে বান্দরবান কোর্টে বিয়ে করার কথা বলে সিএনজি করে বান্দরবানের প্রান্তিক লেক নামক স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নির্জন পাহাড়ে নিয়ে আরো তিনজন বন্ধুসহ মোট চারজন মিলে মেয়েটিকে প্রাণে মারার হুমকি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক সবাই মিলে গণধর্ষণ করার পর মেয়েটিকে রাত ১১টার পর সিএনজি করে সাতকানিয়ার কেরাণীহাটে রেখে ধর্ষকরা কৌশলে পালিয়ে যায়।

(ভিকটিম) মেয়েটি বলেন, কোর্টে বিয়ে করবে বলে আমাকে আইডি কার্ড সহ নিয়ে যেতে বলেন, আমি বাড়ি থেকে গোপনে বের হয়ে পদুয়ায় আসলে বেলাল আমাকে একটা সিএনজিতে তোলে কেরানিহাটের দিকে নিয়ে যায়। কেরাণীহাট থেকে সিএনজিতে আরো ৩জন লোক উঠেন। তারা আমাকে বান্দরবানের দিকে নিয়ে যায়। আমার সন্দেহ হলে আমি যেতে না চাইলে বেলাল আমাকে বান্দরবান কোর্টে বিয়ে করার জন্যে সবাই প্রস্তুত রয়েছে বলে জানাই।

কোর্টে না নিয়ে একটা পাহাড়ের নির্জন এলাকায় নিয়ে সবাই মিলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।  বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করে মুখে কাপড় বেধে বিভিন্ন ভাবে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে। আমাকে একের পর এক সবাই মিলে শারীরি নির্যাতন করে। আমি শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। রাত ১১টার পর আমাকে কেরানিহাটে রেখে সবাই পালিয়ে যায়। এবং আমার মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেয়। সেখান থেকে এক দোকানদারের কাছে বিপদে পড়েছি বলে ২০টাকা নিয়ে গাড়িতে করে পদুয়ায় আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে এসে বাড়ি থেকে ঝগড়া করে চলে এসেছি বলে আশ্রয় নিই।

পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনার সত্যতা যাচাই এ বান্দরবান সদর হাসপাতালে পরীক্ষা করলে হাসাপাতালের রির্পোট অনুযায়ী মেয়েটি ধর্ষণের সত্যতা মিলে এবং তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হয়।

এই বিষয়ে বান্দরবান সদর থানার তদন্ত বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. এনামুল সাংবাদিকদের জানান আমরা ঘটনার সত্যতা উৎঘাটনের চেষ্টা করছি এবং যারা ধর্ষণের মাধ্যমে সমাজকে কুলোষিত করছে তাদের মত ঘৃন্য অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করে সমাজ থেকে এই ধরনের অপরাধ নির্মূল করার চেষ্টা অব্যহত রয়েছে । এবং আশা করছি খুব দ্রুত সকল আপরাধীকে গ্রেফতার করে আইনে আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *