বান্দরবানে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের অভিযান


লামা প্রতিনিধি:

পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে কিংবা নির্দিষ্ট আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বান্দরবান জেলা প্রশাসন অভিযান শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে পাহাড়ের জীবন যাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য ১৯ দফা নির্দেশনা দিয়ে পত্র জারি করেছেন।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আলী নুরের নেতৃত্বে শহরের কালাঘাটা, বড়ুয়ার টেক, ফেনসি ঘোনা, রাজার গোদা, বীর বাহাদুর নগর, গর্জনিয়া পাড়াসহ বিভিন্ন দুর্গোম পাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসে ৪৫ থেকে ৫০ পরিবারকে পাওয়া গেছে। বসবাসকারীদের সতর্ক করার পাশাপাশি নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশ প্রদান করা হয়। যদি নিরাপদ আশ্রয়ে সরে না যায় তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসনের এ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিন ওয়ান নু’র নেতৃত্বে শনিবার  থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে অভিযান শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার লামা পৌরসভার লাইনঝিরি, ফাঁসিয়াখালীর মিরিঞ্জায় পাড়ায় পাড়ায় উঠান বৈঠক করা হয়। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদ ইকবাল, লামা ইউপি চেয়াম্যান মিন্টু কুমার সেন সাথে ছিলেন।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যানদের বলা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল জানিয়েছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় তুলনামূলক ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী কম। তবে তালিকা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে জানানো হয়েছে।

বান্দরবান পৌরসভা, সদর উপজেলাসহ লামা ও নাইক্ষ্যংছড়িতে বিভিন্ন সময় প্রবল বর্ষণ ও ভূমি ধ্বসে ২০০৮ সন থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ৮৫জনের মৃত্যু হয়েছে। লামা উপজেলায় পাহাড় ধসে গত ২০০৮ সালে ১১জন এবং ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৭জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নাইক্ষ্যংছড়িতে ৫জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৭ সালের ১৩জুন বান্দরবান সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় ৬জনের মৃত্যু হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী বাসিন্দা নুরুল আমিন বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে বসবাস করছি বাধ্য হয়ে। আমাদের নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির জায়গা কেনার সামর্থ নেই।

 

জেলা মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম জানান, অতি বর্ষণ, বন উজাড়, পাথর উত্তোলন এবং পাহাড় কাটার কারণই পাহাড় ধ্বসের মূল কারণ। ৩ পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবানে অবৈধ ভাবে গাছ পালা নিধনের পরিমাণ বেড়ে গেছে।

 

বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রাশসক (সার্বিক) দিদারে আলম মাকসুদ চৌধুরী বলেছেন, পাহাড় ও নিচু এলাকায় যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা তৈরি শেষ হলে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেছেন, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হচ্ছে। যারা ঝুঁকিতে আছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পাহাড়ি টাইপের আবাসন করে পুর্নবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *