বান্দরবানে অস্তিত্ব সংকটে ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়


লামা প্রতিনিধি:

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে ইউএনডিপি সিএইচটিডিএফ প্রকল্পের নব জাতীয়করণকৃত ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা  ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকিতে দায়িত্ব পালন করছে না কোন কর্তৃপক্ষ।

বান্দরবান জেলা শিক্ষা অফিসার রিটন বড়ুয়া জানিয়েছেন, নবজাতীয়করণকৃত এই বিদ্যালয়গুলোতে কারা শিক্ষকতা করছে, ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা, শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামোসহ শিক্ষা কার্যক্রম চলার কোন ধরণের তথ্য শিক্ষা অফিসে নাই। শুধুমাত্র জাতীয়করণের একটি গেজেটের কপি অফিসে আছে। বর্তমানে কিভাবে বা কাদের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হচ্ছে তা শিক্ষা অফিস জানে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

জেলায় ইউএনডিপির সিএইচটিডিএফ প্রকল্পের সহায়তায় স্থাপিত ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও অনেক বিদ্যালয়ের সরেজমিন অস্তিত্ব না থাকার অভিযোগ উঠেছে। আবার প্রতিটি বিদ্যালয়ে কাগজ পত্রে ৪জন শিক্ষা কর্মরত দেখানো হলেও সরেজমিনে অধিকাংশ শিক্ষক কর্মরত না থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

তালিকায় ভূয়া শিক্ষকের নাম থাকার অভিযোগ এনে আলীকদম উপজেলা পরিষদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রেরিত অভিযোগে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় চলতি ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের গেজেট প্রকাশ করে। ইউএনডিপি সিএইচটিডিএফ প্রকল্পের সহায়তায় স্থাপিত আলীকদম ২০, রোয়াংছড়ি ১৬, রুমা ২৪, ও থানচির ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। প্রকল্পের সহায়তায় স্থাপিত বিদ্যালয়গুলো চলাকালীন সময়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ে মূলত ১জন করে স্থানীয় শিক্ষক কর্মরত ছিল।

পরে প্রকৃত কর্মরত স্থানীয় শিক্ষকের নাম বাদ দিয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৪জন শিক্ষক কর্মরত আছে বলে ভূয়া কাগজপত্র প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত তালিকার অধিকাংশ শিক্ষক নিজ বিদ্যালয় চিনে না আবার ছাত্র/ছাত্রীরাও শিক্ষকদের চিনে না। পাড়াবাসী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়ভাবে চাঁদা তুলে ৭ম বা ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিছু শিক্ষক নিয়োগ করে কিছু বিদ্যালয় চালাচ্ছে। আবার অনেক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে।

আলীকদমের নব জাতীয়করণকৃত ইন্দু মুখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আংক্রি ম্রো ও কারবারী রেংপুং ম্রো জানান, গত ২ বছর ধরে স্থানীয়ভাবে চাঁদা দিয়ে ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া বিকাশ খুমী পাড়ার কিছু শিশুদের দৈনিক ১/২ ঘন্টা পড়াচ্ছে। তালিকাভুক্ত কোন শিক্ষককে তারা চিনেনা ও অনেক বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব নাই।

বিদ্যামনি পাড়ার নবীরণ ত্রিপুরা জানান, সে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক। কিন্তু তালিকায় তার নাম নাই। বিদ্যামনি বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম গত ৩ বছর ধরে বন্ধ। বিদ্যালয়ে নেই কোন ছাত্র/ছাত্রী। কাগজে কলমে দেখানো হয়েছে ৪জন শিক্ষক।

আলীকদম ইউআরসির ইন্সট্রাক্টর মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, নবজাতীয়করণ বিদ্যালয়গুলোর দক্ষতা ও পেশাগত মান বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য কোন বাজেট বা বরাদ্দ সরকার আমাদের দেয়নি। তালিকার কোন শিক্ষককে এলকাবাসী চিনে না। ইউএনডিপি সিএইচটিডিএফ এর বান্দরবান জেলার সমন্বয়কারী খুশি রায় ত্রিপুরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের পর ব্যবস্থাপনার সার্বিক দায়িত্ব সরকারের।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বান্দরবানে সাম্প্রতিক সফরকালে জানান, পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় ইউএনডিপি সিএইচটিডিএফ প্রকল্পের সহায়তায় স্থাপিত ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৪জন করে শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *