বান্দরবানে অতি ঝুঁকিতে বাস করছে দেড় হাজার পরিবার


লামা প্রতিনিধি:

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে দেড় হাজার পরিবার। ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে প্রাণ হানির ঝুঁকি।

প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে আনার জন্য বার বার তাগিদ দিলেও বসবাসকারী পরিবারগুলো নিরাপদে সরে আসেনি।

বেপরোয়াভাবে পাহাড় কাটা, নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, অপরিকল্পিত জুম চাষ, পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলন, পাহাড়ী ঝিরি ও ছড়ার ভারসাম্য নষ্টকরণ, বনজ সম্পদ ধ্বংস, পাহাড় কেটে ইটভাটা স্থাপন, পাহাড় কেটে অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি ঘর ও সড়ক সেতু নির্মাণসহ পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমের কারণে বান্দরবান পার্বত্য জেলাসহ ৩ পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসে নিহত ও আহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

প্রতি বছরে বান্দরবানের কোন না কোন স্থানে পাহাড় ধসে নিহত ও আহত হচ্ছে। বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার রয়েছে।

খারাপ আবহাওয়ার সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক মাইকিং করলে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ চাপ প্রয়োগ করে কিছু কিছু ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীকে সাময়িক আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। আবহাওয়ার উন্নতি হলে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে তারা আবার নিজ বাড়ীতে ফিরে যান। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীরা বাড়ী ঘর ছেড়ে অনত্র আশ্রয় নিতে চান না।

অভিযোগে প্রকাশ, বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী চক্র বেপরোয়াভাবে পাহাড় কেটে বিভিন্ন ধরণের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পাহাড় কেটে লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে ২৩টি ইটভাটা স্থাপন করায় সেখানকার জনসাধারণ প্রতিবাদ ও সমাবেশ করে এর প্রতিকার চেয়েছেন। ফাইতং ইউনিয়ন অনেকটা জনবসতি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে মর্মে সেখানকার অধিবাসীরা বিভিন্ন মহলকে অভিযোগ করেও জানিয়েছেন।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে বেপরোয়াভাবে পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলনের কারণে সেখানকার অধিবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করে লামা উপজেলায় চলছে বেপরোয়া ভাবে পাহাড় কাটা।

আলীকদম উপজেলায় পাহাড় কেটে বেপরোয়াভাবে পাথর উত্তোলন চলছে। অবৈধভাবে পাথর আহরণের জন্য বোল্ড ড্রেজার দিয়ে পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চিত্রও একই।

অবৈধভাবে পাহাড় বিধ্বংসী সিন্ডিকেট কোন না কোন ভাবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত। অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রশাসনকে পাহাড় কাটার পক্ষে ব্যবহার করে থাকেন। বর্তমানেও অর্ধ শতাধিক বোল্ড ড্রেজার পাহাড় কাটার জন্য বিভিন্ন ইটভাটায় মজুদ করা হয়েছে।

এদিকে অব্যাহতভাবে বনজ সম্পদ ধ্বংসের কারণে পাহাড়গুলো নেড়া হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই পাহাড়ের মাটি পানি চুষার কারণে পাহাড় ধসের সৃষ্টি করে।

বান্দরবান জেলার মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোন অবস্থাতেই ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাস করা উচিৎ হবে না।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন জানান, বান্দরবান জেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রায় দেড় হাজার পরিবার বসবাস করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে আসার জন্য বলা হয়েছে এবং তাদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *