বাঘাইছড়ি আ’লীগ থেকে কে পাচ্ছেন মেয়রের টিকেট?


untitled-1-copy

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

বাঘাইছড়ি পৌরসভার নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ৩ মাসের মধ্যে তফসিল ঘোষনা করবে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচনী দৌঁড়ঝাপ। লবিং , তদবীর, ভোটারের মন জয়ের চলছে নানান চেষ্ঠা । চলছে দলীয় নমিনেশন আদায়ের জোর প্রচেষ্টাও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় আওয়ামী লীগের টিকেট পেতে চায় দলের পাচঁ নেতা। সকলেই যার যার অবস্হান থেকে  আশাবাদী।

কথা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নমিনেশন পেতে আগ্রহী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অলোচনায় আসা মোঃ জাফর আলী‘র সাথে । তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন দলের সাথে জড়িত । ১৯৭৮ সালে গঠিত ১১ সদস্য বিশিষ্ট আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটিতে আমি ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছি। বাঘাইছড়ি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা লগ্ন হতে সাধারন সম্পাদক হিসেবে ২০০২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলের সকল সম্প্রদায়ের লোকের সাথে মিলেমিশে দলকে শক্তিশালী করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। জননেতা দীপংকর তালুকদারের নেতৃত্বে সবসময় ঐক্যবদ্ধ থেকে লড়াই সংগ্রামে মাঠে ছিলাম এখনো আছি ভবিষ্যতেও থাকবো। জীবনের শেষ বয়সে এসে আমার শেষ সন্মান চাওয়াকে দল আমাকে বঞ্চিত করবেনা আশাকরি। দল যদি নমিনেশন দেয় জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ নিশ্চিত বলেও দাবি করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি দল তাকে নমিনেশন না দিয়ে অন্য কাউকে দেয় সেক্ষেত্রে  সর্বোচ্চ ফোরামের নির্দেশ মতে দলের প্রার্থীকে জেতানোর জন্যে কাজ করবেন বলে তিনি মতামত প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নমিনেশন পেতে আগ্রহী ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত  গতবারের নৌকা প্রতিকের  মেয়র প্রার্থী ছাত্রনেতা মোঃ জমির হোসেন  । কথা হয় তার সাথে, সাবেক এ ছাত্রনেতা ও বর্তমান বাঘাইছড়ি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন আমি ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারন করে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছি। তিনি বলেন, আমি ১৯৯৩ সালে কাচালং উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্পাদক, ১৯৯৫ সালে কাচালং কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৯৮ সালে বাঘাইছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক এবং ২০০২ইং সভাপতির দায়িত্ব পালন করি । একই সাথে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি । বর্তমানে বাঘাইছড়ি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সব সময় অসম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে প্রিয় নেতা দীপংকর তালুকদারের নির্দেশ মতে দল এবং এলাকার জনগনের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি ।

তিনি বলেন, গত নির্বাচনে আমাকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হারানো হয়েছে। আমি নির্বাচিত হয়েও রেজাল্ট  পাল্টিয়ে দেয়া হয়েছে। এবার আর সে সুযোগ থাকবে না । দলের নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক এবং আরো শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বলেন, দল তাকে নমিনেশন দিলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে দলকে এই পৌরসভা উপহার দিতে পারবে বলে তিনি  আত্মবিশ্বাসের সাথে  মতামত ব্যক্ত করেন ।

তিনি বলেন, দল তাকে নমিনেশন না দিলে সর্বোচ্চ ফোরামের নির্দেশ মতে দলের প্রার্থীকে জেতানোর জন্যে কাজ করবেন।

কথা হয়, সরকার দলীয় আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী মোঃ আব্দুর শুক্কুর এ সাথে । তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে জড়িত। দীর্ঘদিন জননেতা দীপংকর তালুকদারের হাত ধরে তার নির্দেশ মতে বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। দলের সকল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে জীবনের উপার্জিত অর্থ ও সামর্থ দিয়ে দলকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করেছি।

তিনি বলেন, এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে । আমি বাঘাইছড়ি পৌরসভা প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে প্যানেল মেয়র । দুইবার নির্বাচিত প্যানেল মেয়রের দায়িত্বে থাকা সময়ে আমি চেষ্টা করেছি বাঘাইছড়ি জনগনের এবং দলের পাশে দাঁড়াতে। আশাকরি দলের হাই কমান্ড আমাকে বিবেচনা করবে। পৌরসভার নির্বাচনে দল আমাকে নমিনেশন দিলে আমি নিশ্চিতভাবে এই মেয়র পদ‘টিতে দলকে বিজয় এনে দিতে পারবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দল যদি তাকে নমিনেশন না দেয সেক্ষেত্রে সিনিয়রদের মধ্য থেকে দিলে আমি দলের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য চেষ্টা করবো।

কথা হয় নৌকার মাঝি হতে আগ্রহী বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ আলি’র সাথেও । তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে  সম্পৃক্ত । জননেতা দীপংকর তালুকদারের হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে সবসময় চেষ্টা করেছি দলকে শক্তিশালী করতে । হয়েছেও তাই । তিনি বলেন, একসময় বাঘাইছড়ি বিএনপির দুর্গ ছিলো । আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্হা এ এলাকায় খুবই দুর্বল ছিলো । বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বাঘাইছড়ি আওয়ামী লীগ অত্যান্ত শক্তিশালী। তিনি বলেন, আমরা সকলে পাহাড়ের অবিসংবাদিত জননেতা দীপংকর তালুকদার এর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।

তিনি বলেন, এলাকায় আমার জনপ্রীয়তা রয়েছে । আমি সব সময় মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেছি। দল যদি আমাকে নমিনেশন দেয় তাহলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।

কথা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নমিনেশন পেতে আগ্রহী নিরব কৌশলী বাঘাইছড়ি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাহরিয়ার হোসেন এর সাথে। তিনি বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত । আমি বাঘাইছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলাম । বর্তমানে উপজেলা  যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বে আছি। তিনি বলেন, সামাজিক ভাবে আমার জনপ্রীয়তা রয়েছে। দল থেকে আমি নমিনেশন পাওয়ার চেষ্টা করছি। দল আমাকে নমিনেশন দিলে বাঘাইছড়ি জনগনের মাঝে ঐক্য সৃষ্টি হবে। নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আমি  নৌকার জয় এনে দিতে পারবো। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন তার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় বিবেচনা করে  দল তাকে  নমিনেশন দিবে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে বাঘাইছড়িকে পৌরসভা ঘোষনা করে সরকার। তখন ক্ষমতাসীন সরকার নিজাম উদ্দিন বাবুকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর ২০০৬ সালে তৎকালিন টিএনও রনজিৎ বাবুকে প্রশাসকের দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয় । তিনি বদলি হলে ‍পরবর্তীতে বাঘাইছড়ির ইউএনও বিচিত্রা বড়ুয়া, ইউএনও হুমায়ুন, ইউএনও বশির উদ্দিন ভুঁইয়া, ইউএনও মোঃ সাইদুল দায়িত্ব পালন করেন।

বাঘাইছড়ির ইউএনও মোঃ জাফর আলি দায়িত্বে থাকাকালীন ২০১২ সালে নির্বাচনে সম-অধিকার প্রার্থী আলমগীর কবির নির্বাচিত হয় । তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোঃ জমির হোসেন কে মাত্র ৩৭ ভোটে পরাজিত করে ২৪৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়। সে সময় নির্বাচনে বিএনপি থেকে মোঃ মুন্সি মিয়া নির্বাচনে প্রতিদন্ধিতা করেন। । ২২ শে নভেম্বর ২০১৬  বর্তমান নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে ।

নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদ শেষের ৯০ দিনের মধ্যে তফসিল ঘোষনা করবে নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা সম্পর্কে মোবাইলে ০১৮১৬২৪৪৩৭২ নাম্বারে জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি জেলা নির্বাচন কমিশনার ঢাকায় রয়েছে বলে জানান সদর নির্বাচন কমিশনার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বাঘাইছড়ি উপজেলার দায়িত্বে থাকা মোঃ জমিরের মোবাইল নাম্বার ০১৫৫৬৪৯৮৭৯৯ এ যোগাযোগ করতে বললে বাঘাইছড়ি উপজেলার দায়িত্বে থাকা মোঃ জমির উদ্দীন বলেন, এখনো আমারা কোন চিঠি পাই নাই ।  প্রধান নির্বাচন বা রাঙ্গামাটি জেলা নির্বাচন দপ্তর থেকে চিঠি বা নির্দেশনা পেলেই নির্দেশনা মোতাবেক তফসিল ঘোষনা করা হবে বলে তিনি জানান ।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *