বাংলাদেশ-মিয়ানমার স্বাক্ষরিত সমঝোতায় সংকটের সমাধান হবে না: রোহিঙ্গা নেতা


ডেস্ক প্রতিবেদন:
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।

২৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর বৈঠক হয়। এরপরই এ স্মারক সই হয়। এতে সই করেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের মন্ত্রী চ টিন্ট সোয়ের।

তবে, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর সময়সীমা এবং প্রত্যাবাসন নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে তৃতীয় কোনো দেশের সহযোগিতা চাওয়া যাবে কি না- ইত্যাদি প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হলেও সে ব্যাপারে কিছুই সুনির্দিষ্ট করা হয় নি।

মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের এ সমঝোতা স্মারক সই প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা এডুকেশন ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম–এর সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন রেডিও তেহরানকে তার হতাশার কথা ব্যক্ত করে বলেন, এর ফলে সংকটের সমাধান হবে না। সংকট দীর্ঘায়িত হবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশের খসড়া প্রস্তাব নিয়ে গতকাল (বুধবার) দুই পক্ষ দীর্ঘ আলোচনা করেছে। বিশেষ করে সমঝোতা স্মারকটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চূড়ান্ত না হওয়ায় এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নাকি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১০ লাখের সবাইকে ফিরিয়ে নেয়া হবে, ফেরত পাঠানোর আগে রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাইয়ে জাতিসংঘকে রাখা হবে কী না এবং রাখাইনে ফেরত পাঠানোর পর রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে পুনর্বাসন করা হবে কি না।

উল্লেখ্যে, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তল্লাশি চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার অজুহাতে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক নৃশংসতা শুরু হয়। চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত ৬ লাখ ২২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আগে থেকে আশ্রয় নেয়া চার লাখের মতো রোহিঙ্গাসহ নতুন আসা রোহঙ্গিাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ বারবার দাবি জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক বিশ্বও মিয়ানমারকে এ নিয়ে চাপ দিচ্ছে।

সূত্র: পার্সটুডে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *