বাংলাদেশের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল মিয়ানমার


ন্যাশনাল ডেস্ক:

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়াটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সে চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ গ্রহণ করায় এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি পড়েছে এবং মিয়ানমারও আলোচনা করতে আগ্রহী হয়েছে। অথচ এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ আমাদের ওপর যুদ্ধ পর্যন্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল।

শনিবার জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরও বেশ কিছু ঘটনা ছিল যেটা হয়তো এখন বিস্তারিত বলব না, আমাদের একেবারে প্রতিবেশী, তারা একটা পর্যায়ে এমন একটা ভাব দেখালো যে, আমাদের সঙ্গে যেন যুদ্ধই বেঁধে যাবে। আমি আমাদের সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড- সবাইকে সতর্ক করে বললাম, কোনোরকম উসকানিতে তারা যেন বিভ্রান্ত না হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নির্দেশ না দেই। তারা এরকম একটা ঘটনা ঘটাতে চাইবে এবং অনেকেই আছে এখানে নানারকমের উসকানি দেবে বা এমন একটা অবস্থা তৈরি করতে চাইবে- যেটা অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরাবে।

বিদেশে যাওয়ার আগেই যেকোনো ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতির উদ্ভব সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করে যান উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেদিকে আমরা খুবই সতর্ক ছিলাম। জনগণ জানে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আমাদের বিজিবি পুলিশ থেকে শুরু করে স্থানীয় যারা সংগঠন করেন এবং অন্যান্য প্রত্যেককেই আমরা এ ব্যাপারে সতর্ক করি। যা যা দরকার তার আগাম ব্যবস্থা আমি করে দিয়ে গিয়েছিলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাই হোক আমি এটুকুই বলব, বাংলাদেশ এই আশ্রয়টা দিয়ে একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েছে। শুধু তাই নয়, আমরা বললাম প্রয়োজনে আমরা একবেলা খাব, আর অন্য বেলার খাবারটা ওদের দিয়ে দেব এবং আমরা কিন্তু সেটা করে যাচ্ছি। আর আজকে বাংলাদেশ যদি এই অবস্থানটা না নিত, তাহলে হয়তো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দৃষ্টিটা এভাবে আকর্ষণ করতে পারত না।

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়াটা সম্পূর্ণই মানবিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। আর বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেয়া মানুষের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখলাম মিয়ানমারে যেভাবে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার হয়েছে, যেভাবে গণহত্যা, পাশবিক অত্যাচার হয়েছে, তাতে ছোট শিশুরা পর্যন্ত রেহাই পায়নি। খুব স্বাভাবিকভাবে তাদের আমাদের আশ্রয় দিতে হলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা দেখেছি বিশ্বে অনেকেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। আশ্রয় দিতে চায়নি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে করে কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সে সময় রেহানাও আমার সঙ্গে ছিল সে বলল, ১৬ কোটি মানুষকে তো ভাত খাওয়াচ্ছো আর ৫-৭ লাখ লোক, তাদের আশ্রয় দিতে পারবে না। খাওয়াতে পারবে না! এই যে কথাটা- সত্য কথা বলতে কী এটা একটা আত্মবিশ্বাসের ব্যাপার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক চাপে এবং যেভাবেই হোক তারা অন্তত এগিয়ে এসেছে, আলোচনা শুরু করেছে। আমি মনে করি, এটাও একটি বিশেষ দিক, আন্তর্জাতিক চাপ আছে। এ অবস্থায় আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা এটার সমাধান করতে পারব।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *