বন ধ্বংস করে চলছে অবৈধ ইটভাটা : প্রশাসন নির্বিকার


চকরিয়া প্রতিনিধি:

পত্রিকায় লেখালেখি করলে কিছুই হবে না।  প্রশাসনের সকল দপ্তরে মাসোহারা দিয়েই ইটভাটা পরিচালনা করছি। এমনটিই বলছিলেন  বন উজার করে চলতে থাকা অবৈধ ইট ভাটার মালিক পক্ষের একজন।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া ও পার্শ্ববর্তী বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা-আলীকদমসহ ৪টি উপজেলায় রয়েছে ৪৮টি ইটভাটা। কেবল লামা উপজেলার ফাইতং নামের একটি ইউনিয়নেই রয়েছে ২৬টি ইটাভাটা। কোনো ইটভাটায় নেই বৈধ কাগজপত্র। এসব ইটাভাটায় বছরে পুড়ছে শতকোটি টাকার কাঠ। ইট তৈরির কাজে ব্যবহারের জন্য যত্রতত্রভাবে মাটি কাটায় বিরাণ ভূমিতে পরিণত হচ্ছে পাহাড়। এতে করে প্রাকৃতিক বনজ সম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি ক্রমশ পরিবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে।

জানাগেছে, এসব ইটভাটার মালিকদের কাছে বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে সংরক্ষিত ও অশ্রেণীভুক্ত বনালয় থেকে নির্বিচারে কচি কাঁচা বৃক্ষরাজি কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে জ্বালানী হিসেবে । নির্বিচারে পাহাড় কেটে পাহাড়ের মাটিগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে ইট তৈরীর কাজে। প্রতিটি ইট ভাটায় যে পরিমানে ইট তৈরি হচ্ছে সে অনুযায়ী সরকারি ভ্যাটও পরিশোধ করা হচ্ছে না। ফলে সরকার বিশাল অংকের রাজস্ব যেমন হারাচ্ছে তেমনি পরিবেশও ধব্ংস হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইটভাটা স্থাপনের সর্বশেষ নীতিমালা না মেনে অর্থশালী ইটভাটা মালিকেরা সংরক্ষিত বনালের আশপাশের ইটভাটায় স্থাপন করে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন  পাহাড় থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

এক সময়ের হরেক প্রজাতির বন্য প্রাণীসহ হাতির অভয়ারণ্য হিসেবে খ্যাত পার্বত্য বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাইতং ও ফাসিয়াখালীর ইউনিয়নের বনভুমিতে বেশির ভাগ ইটভাটা স্থাপনের কারণে বন্যপ্রাণী ও হাতির আবাসস্থল তছনছ হয়ে গেছে। এমনকি ইটভাটার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় অনেক বসতবাড়ি ছেড়ে অন্যত্রে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।

সুত্র মতে লামা ও আলীকদম উপজেলায় অবৈধভাবে স্থাপন করায় ইটভাটার বেশীরভাগ মালিক বহিরাগত। তারা অবৈধভাবে স্থাপন করা ইটভাটায় বিনা বাধায় ইটপোড়ানোর লক্ষ্যে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করার জন্যে ফাইতং এলাকার ইটভাটার মালিক মোক্তার আহমদ প্রকাশ মোক্তার ড্রাইভার ও কবির আহমদের নেতৃত্বে প্রতি ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে ২লাখ টাকা করে ৪৮টি ইটভাটা থেকে সর্বমোট ৯৬লাখ টাকা সংগ্রহ করে ঘাটে ঘাটে বিলাচ্ছে। ফলে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা এসব দেখেও না দেখার ভান করে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ইটভাটার মালিকদের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত মোক্তার ড্রাইভারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রশাসনের সকল দপ্তরে মাসোহারা দিয়ে ইটভাটা পরিচালনা করছি। এসব পত্রিকায় লিখলেও একটি ইটভাটাও বন্ধ হবে না। পত্রিকায় লেখালেখি করলে প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কিছু জরিমানা আদায় করে। এছাড়া কোনো ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়ার নজির নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত, অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটা স্থাপন ও ট্রাকযোগে ইট পরিবহনের কারণে ধূলায় পরিবেশ বিষন্ন হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা ইটভাটার ধূয়া ও ধূলা বালির কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লামা উপজেলা প্রশাসন রবিবার ৫টি ইটভাটাতে অভিযান চালালেও তা নামমাত্র। এর ফলে ইটভাটার মালিকরা আরও আস্কারা পেয়ে বসেছেন। কঠোর হস্তে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না করলে অচিরেই মারাত্বক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *