ফেনী ব্রিজ হবে ভারত বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সেতুবন্ধন: ত্রিপুরার মূখ্যমন্ত্রী


রামগড় প্রতিনিধি:

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বলেছেন, ফেনী নদীর উপর নির্মাণাধীন ফেনী ব্রিজ হবে ভারত বাংলাদেশ দু’দেশের বাণিজ্যিক সেতুবন্ধন। ত্রিপুরা পাবে ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে চট্টগ্রাম সামুদ্রিক বন্দর। এ  বন্দর ব্যবহার করে ত্রিপুরাতে অর্ধেক খরচে পৌঁছে যাবে প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী। ফেনী ব্রিজই দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যের সেতুবন্ধন রচনা করবে।

গত সোমবার(৩০এপ্রিল) সন্ধ্যায় রামগড় সাব্রুম স্থলবন্দর চালুর লক্ষ্যে ফেনী নদীর উপর নির্মাণাধীন মৈত্রী সেতু-১ এর নির্মাণকাজ পরিদর্শনে এসে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ব্রিজের নির্মাণকাজ পরির্দশনকালে মূখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব সাংবাদিকদের বলেন, ফেনী ব্রিজ হলে  ত্রিপুরার বিরাট সমস্যার সমাধান হবে। এ ব্রিজ হয়ে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী, রড, সিমেন্ট, ইটসহ প্রয়োজনীয় সব ধরণের সামগ্রী অল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে ত্রিপুরায় পৌঁছে যাবে। জলপথ ব্যবহারের সুযোগের কারণে পণ্য পরিবহণ ব্যয় অর্ধেকে নেমে আসবে। ভারতের অন্যান্য বাজার বা শহর থেকে ত্রিপুরায় উন্নয়ন সামগ্রীর দাম অনেক কমে পাওয়া যাবে। ব্যবসা বাণিজ্য এখানে প্রসার ঘটলে বাংলাদেশও লাভবান হবে। ত্রিপুরার উন্নয়নে এখানকারবাসীর দীর্ঘদিনের যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন পুরণ করবে ফেনী ব্রিজ।

মূখ্যমন্ত্রী আরও বলেন,  দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সাথে ত্রিপুরাসহ সাতটি রাজ্যের  সংযুক্তির গেটওয়ে’ হিসেবে ব্যবহার হবে ফেনী ব্রিজ। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৪১২ মিটার দীর্ঘ এ ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ করার সময়সীমা থাকলেও এর আগে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ শেষ করতে আমি সংশ্লিষ্টদের বলেছি।

সীমান্তের ওপারের স্থানীয় এক সাংবাদিক জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ত্রিপুরার মূখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব রামগড় সীমান্তের ওপাড়ে সাব্রুমের আনন্দপাড়ায় ব্রিজ নির্মাণের কাজ পরির্দশন করতে আসেন। সেখানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান স্থানীয়রা।

মূখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব ব্রিজ নির্মাণ কাজে নিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ভারতের গুজরাটের দীনেশ চন্দ্র আর আগারওয়াল ইনফ্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কাজের অগ্রগতি বিষয়ে খোঁজখবর নেন। প্রতিষ্ঠানটির জিএম রগুনাথ সিং  মুখ্যমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবগত করান।

এসময় স্থানীয় এমএলএ শংকর রায়, এনএইচআইডিসিএল’র  জিএম  মি. সিং, ডিজিএম প্রদীপ ভুইয়া, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা ও সাব্রুম মহকুমার পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *