প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিবেদন আমাদেরকে চাঁদাবাজ, অস্ত্রবাজদের হাত থেকে মুক্ত করুন- ফিরোজা বেগন চিনু


ফিরোজা বেগম চিনু পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম বাঙালী সংসদ সদস্য। সম্প্রতি পার্বত্যনিউজ অফিস পরিদর্শনে এসেছিলেন। সেসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকার নেন পার্বত্যনিউজের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ ইবনে রহমত।

DSCN3257

পার্বত্যনিউজ : আপনি পার্বত্য বাঙালিদের মধ্যে প্রথম মহিলা এমপি, একজন গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার গল্প বলুন।

ফিরোজা বেগন চিনু : আমার রাজনীতিতে উঠে আসার পেছনে যদি কোনো একক কারণের কথা বলতে হয়, তাহলে বলতে হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। আমি তখন ছোট। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু রাঙামাটিতে সফরে এলেন, আমি তখন প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রী। স্কুলের পক্ষ থেকে আমাদেরকে লাইন করে দাঁড় করানো হয়েছিল তাঁকে রিসিভ করার জন্য। আমি আমার লাইনের প্রথমেই ছিলাম।  আমার হাতে ফুলের একটি তোড়া ছিল। আমি বঙ্গবন্ধুকে সেটি দিলাম। বঙ্গবন্ধু  আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন, চিবুক ধরে আদর করে দিলেন। আমি অবাক দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়েছিলাম। বিশাল দেহের একজন মানুষ, অসম্ভব সুন্দর একজন মানুষ। সেই থেকে তাঁর প্রতি আমার একটা শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা তৈরি হলো। সেটাই আমাকে পরবর্তী জীবনে তাঁরই আদর্শের রাজনীতিতে আসতে প্রেরণা যুগিয়েছে।

এরপর ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট যখন বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলা হয় তখন আমি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। সেদিন আমার খুবই খারাপ লেগেছিল। প্রিয়জনকে হারানোর যে ব্যথা আমি সেদিন সেটাই অনুভব করেছিলাম। আমাদের রেডিও ছিল না। আমি বান্ধবীদের বাসায় পড়তে গিয়ে তাদের রেডিওতে এই দুঃসংবাদটি শুনেছিলাম। খবরটি শুনে আমি সারাদিন বিষণ্ন ছিলাম।

সাক্ষাৎকার

মেট্রিক পরীক্ষা দেওয়ার আগেই আমার বিয়ে হয়ে যায়। শ্বশুর বাড়ি থেকেই মেট্রিক পাস করি। আমার শ্বশুর খুবই বিদ্যানুরাগী ছিলেন। তিনি আমাকে আরও লেখাপড়া করার সুযোগ করে দিলেন। আমর শ্বশুর তখন কুমিল্লাতে থাকতেন। তিনি আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়ে কলেজে ভর্তি করে দেন। কুমিল্লা কলেজে পড়ার সময়ই মূলত আমার রাজনীতির হাতেখড়ি। সেখানে আতিক-মঞ্জু পরিষদের আমি মহিলা সম্পাদিকা ছিলাম। আমার শাশুড়ী ছিলেন অসম্ভব রাজনীতি সচেতন একজন ভদ্র মহিলা। বঙ্গবন্ধুর প্রতি অসম্ভব শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা ছিল তার। আমি তাকে দেখেছি, বঙ্গবন্ধু  হত্যার বিচার যাতে হয় তার জন্য নফল নামাজ পড়তে। কুমিল্লা কলেজের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছার কথা যখন আমি প্রকাশ করলাম। তিনি তখন সানন্দে রাজি হয়ে গেলেন।

কুমিল্লা কলেজ থেকেই ডিগ্রি কমপ্লিট করলাম। এরপর রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে গেলাম।  সেই সাথে আমি ব্যবসাও করতাম, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আমি জড়িত। আমার স্বামীও ব্যবসা করেন। যাইহোক শুরু থেকেই রাজনৈতিক জীবনে অনেক জেল-যুলুম-অত্যাচার সহ্য করেই আমি আজকের অবস্থানে এসেছি।

সংগঠনের জন্য আমার ত্যাগ তিতিক্ষার বিষয়ে অবগত হয়ে আজকের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মূল্যায়ন করেছেন। আজকে আমি পার্বত্যবাসীর পক্ষ থেকে সংসদে  প্রতিনিধিত্ব করছি। এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদের মেডিকেল কলেজ দিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অভূতপূর্ব উন্নয়নে তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং এখনও নিচ্ছেন। আমাদের চাওয়াও সীমিত। তবে আমাদের প্রধান চাওয়া হলো, পার্বত্যাঞ্চলে  শান্তিচুক্তির পরেও আজকে যারা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার নামে চাঁদাবাজি করছে, অস্ত্রবাজি করছে তাদেরকে দমন করা; প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের চাওয়া- আপনি আমাদেরকে এই চাঁদাবাজ, অস্ত্রবাজদের হাত থেকে মুক্ত করুন। কেননা গুটিকয়েক চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসীর কারণে আমরা অশান্তিতে আছি।

পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ণ হউক সন্ত্রাসীরা সেটাও চায় না। কারণ, তারা জানে যে, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন শেষ হয়ে গেলে তাদের আর অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি করার সুযোগ থাকবে  না। ফলে চাঁদাবাজি করে কোটি কোটি টাকা আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাবে। সে কারণেই তারা মূলত চায় না পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হউক। আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সবিনয় অনুরোধ করছি, তিনি আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য যা করেছেন সেটার জন্য পার্বত্যাঞ্চলের লোকজন শ্রদ্ধাভরে তাকে স্মরণ করবেন, আজীবন স্মরণ করবেন।

উনার কাছে একটা দাবি আছে, সেটি হলো তিনি পার্বত্যাঞ্চলে আমরা যারা শান্তিপ্রিয় নাগরিক, পাহাড়ি-বাঙালি সকল জনগোষ্ঠী যেন শান্তিতে থাকতে পারি তার জন্য চাঁদাবাজি বন্ধ করবেন এবং অস্ত্রবাজদেরকে আইনের আওতায় এনে তাদেরকে শাস্তি দিবেন। তাহলে পার্বত্যবাসী সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

DSCN3264

পার্বত্যনিউজ : পার্বত্য চট্টগ্রামে যে অস্ত্রবাজি এবং চাঁদাবাজির কথা বললেন এর সাথে মূলত কারা জড়িত ?

ফিরোজা বেগম চিনু : আমি একটু আগেই আপনাকে বলেছি, এর সাথে জড়িত মূলত তারাই যারা অস্ত্র প্রদর্শন করে কোটি কোটি টাকা ইনকাম করছে, কষ্ট করে তাদেরকে টাকা ইনকাম করতে হচ্ছে না, শুধুমাত্র একটা অস্ত্রের ভয় দেখিয়েই কোটি কোটি টাকা ইনকাম করছে। তাদের নাম, পরিচয় আপনি, আমি এবং আমরা সবাই জানি। তবে সে যেই হোক আমি তাদেরকে সন্ত্রাসী বলব; তাদের অন্য কোনো নাম, পরিচয় থাকতে পারে না।  সন্ত্রাসীরা কোনো জাতি বা ধর্মের ভিত্তিতে পরিচিত হতে পারে না। তাদের আসল পরিচয় তারা সন্ত্রাসী।

পার্বত্যনিউজ : দীর্ঘ দিন ধরে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ এবং জেলা পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে না, সংসদ সদস্য হিসেবে এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

ফিরোজা বেগম চিনু : আমরা চাই নির্বাচন হোক। আমরা সবসময়ই নির্বাচনের পক্ষে। যদি নির্বাচন হয় তাহলে জনগণের প্রতিনিধি ক্ষমতায় আসবে এবং জনগণের প্রতিনিধিরা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং চাহিদার ভিত্তিতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু এতে বাঁধ সাধছে কারা? বাঁধ সাধছে একটি পক্ষ, তারা দাবি করছে স্থানীয় জেলা পরিষদ, আঞ্চলিক পরিষদের যদি নির্বাচন করতে হয় তাহলে আলাদা ভোটার তালিকা লাগবে। আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, চলমান ভোটার তালিকার ভিত্তিতে হিসেবে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাবু ঊষাতন তালুকদার, তিনি কিন্তু পার্বত্য জনসংহতি সমিতির(জেএসএস) সহ-সভাপতি। তিনি যদি আলাদা ভোটার লিস্ট ছাড়া নির্বাচন করতে পারেন এবং জনগণের রায় তার পক্ষে হতে পারে তাহলে জেলা পরিষদ এবং আঞ্চলিক পরিষদ নির্বাচনে কেন আলাদা ভোটার তালিকা লাগবে?

যাইহোক, আমি মনে করি স্থানীয় সরকারের এই জায়গাগুলোতে অতি তাড়াতাড়ি (নির্বাচন ) হওয়া উচিৎ। নির্বাচন হলে এখানে জনগণের প্রতিনিধি আসবে, সেক্ষেত্রে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা থাকবে, সে জবাবদিহিতার কারণে পার্বত্যাঞ্চলে আরও বেশি শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসবে।

পার্বত্যনিউজ : পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং আঞ্চলিক পরিষদ দুটোই অনির্বাচিত। তবে জেলা পরিষদ বিভিন্ন সময় পুনর্গঠন হলেও আঞ্চলিক পরিষদ গঠনের পর থেকে আজ পর্যন্ত পুনর্গঠন হয়নি। বিষয়টি আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

ফিরোজা বেগম চিনু : এটা আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন প্রশ্ন। কারণ সরকারের নীতি নির্ধারকরাই এটা ভালো বলতে পারবেন, যে কী কারণে এখানে পরিবর্তন করা হচ্ছে না বা করা যাচ্ছে না। আমরা দেখছি, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন আঞ্চলিক পরিষদে কেউ টাচ করেন না। কী কারণে করেন না সেটা সরকারের নীতি নির্ধারকরাই বলতে পারবেন।এই বিষয়ে আসলে আমি অবগত নই।

পার্বত্যনিউজ : আঞ্চলিক পরিষদে দীর্র্ঘ দিন ধরে নির্বাচন না হওয়ার কারণে স্থানীয় উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বা কোনো প্রভাব পড়ছে বলে আপনি মনে করেন?

ফিরোজা বেগম চিনু : অবশ্যই প্রভাব পড়ছে। তাছাড়া আঞ্চলিক পরিষদের কী কাজ, তাদের কর্মকাণ্ড কী, তারা তাদের বরাদ্দের সিংহভাগ কী করেন কিংবা তাদের বরাদ্দগুলো কীভাবে তারা খরচ করেন, জনগণ কিন্তু এটা জানে না। একটু আগে যা বলেছিলাম, এখানে জবাবদিহির কোনো বালাই নেই। সুতরাং নির্বাচন হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। আর জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে এর সাথে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়বে।

পার্বত্যনিউজ : আপনি এমপি হিসেবে জবাবদিহিতা তো চাইতে পারেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে এই বিষয়ে জবাবদিহিতা চাওয়া যেতেই পারে।

ফিরোজা বেগম চিনু : আপনার কথা ঠিক আছে। আসলে আমরা সেটা করতে চাইনি; কারণ আমরা চেয়েছিলাম, পার্বত্য এলাকার শান্তির লক্ষ্যে উনি (সন্তু লারমা) যেভাবে যা করছেন তা করুন, কিন্তু আমরা আসলে হতাশ। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, যিনি আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, শ্রী জোতিরীন্দ্র বোধি প্রিয় লারমা, তিনি কিন্তু এখনও বাংলাদেশের ভোটার হননি। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের ভোটার নন। একজন মানুষ কতটা উদ্ধত্য হলে ভোটারবিহীনভাবে তিনি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের স্বাধীনতার কথা বলেন কিংবা স্বায়ত্বশাসনের কথা বলেন কিংবা তাদের অধিকারের কথা বলেন! তিনি তো আইনত এদেশের অধিবাসী নন। সুতরাং আজকের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে আমি বলতে চাই, তিনি যদি সত্যিকার অর্থে দেশকে ভালোবাসেন এবং পার্বত্যাঞ্চলের অধিবাসীদের ভালোবাসেন তাহলে অতি তাড়াতাড়ি নিজের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করে তিনি আমাদের সাথে সম্পৃক্ত হবেন।

পার্বত্যনিউজ : আপনি কি কখনো তার কাছে জানতে চেয়েছেন যে, ১৬ ডিসেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারির মতো জাতীয় দিবসগুলোতে কেন তিনি শহীদ মিনারে যান না?

ফিরোজা বেগম চিনু : এটা খুবই দুঃখজনক। তিনি কখনোই শহীদ মিনারে যান নাই। তবে ইদানীং দেখছি, বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতে আঞ্চলিক পরিষদের পক্ষ থেকে একটি তোড়া যায়।কিন্তু উনি নিজে যান না। দেশের প্রতি তার আনুগত্য ও শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটুকু আমার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতি যদি তার শ্রদ্ধাই থাকতো তাহলে অন্তত এই বিশেষ দিনগুলোতে তিনি শহীদ মিনারে থাকতেন বলেই আমি মনে করি। আমরা যারা পার্বত্যাঞ্চলে বসবাস করছি এটা আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

পার্বত্যনিউজ : পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিরা সবসময় অভিযোগ করে থাকেন তারা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত, এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

ফিরোজা বেগম চিনু : পার্বত্য বাঙালিরা সব দিক থেকে বঞ্চিত- এটা আমি বলব না। এটা হয়তো একটু বাড়াবাড়িই হয়। বাঙালিরা বঞ্চিত কেন হবে? ওখানে রাস্তা হচ্ছে সে রাস্তা দিয়ে কি শুধু পাহাড়িরা হাঁটছে? বাঙালিরা হাঁটছে না? স্কুল, কলেজ, মেডিকেল কলেজ হয়েছে সেখানে পাহাড়িরাও পড়ছে, বাঙালিরাও পড়ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে সেখানেও সবাই পড়ছে। তবে একটা ক্ষেত্রে সমস্যা আছে, সেটা হলো ১৯৮৯ সালে যে জেলা পরিষদ আইন হয়েছিল এবং সে আইন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে যে পার্বত্য চুক্তি হয়েছে সে চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রে একটা বৈষম্য আছে। যেমন- পাহাড়িরা যেখানে ৬০শতাংশ নিয়োগ পাচ্ছে, সেখানে বাঙালিরা পাচ্ছে ৪০ শতাংশ। এখানেই একটু বৈষম্য হচ্ছে। সেটার জন্য আমরা খুব একটা অসন্তোষ না। তবে কষ্ট লাগে এটা ঠিক আছে। কেননা আমরা একই এলাকায় বসবাস করি, একই এলাকায় আমাদের জন্ম , একই আলো বাতাসে আমরা বড় হয়েছি, একই নদীর পানি ব্যবহার করেছি- তাহলে আমাদের সাথে বৈষম্য হবে কেন?

পার্বত্যনিউজ : বিভিন্ন দাতা সংস্থা এবং এনজিও’র ম্যাক্সিমাম ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট পাহাড়ি এলাকায়, বাঙালি এলাকায় তাদের তেমন কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম নেই, এমপি হিসেবে আপনি এই বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

ফিরোজা বেগম চিনু : আপনি ভালো একটি প্রশ্ন করেছেন। এটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমার মনেও কষ্ট আছে, উদ্বেগ আছে, প্রশ্ন  আছে। এমনকি, এর জন্য আমার মধ্যে ক্ষোভও আছে। আর সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও অনেকবার আমার বক্তব্যে ঘটেছে। যখন আমি এমপি হইনি, তখনও একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে অনেকবার বিভিন্ন ফোরামে আপনার এই কথাগুলোই তুলে ধরেছি এবং রিসেন্টলি আমি সংসদের স্থায়ী কমিটিতেও এই কথাগুলো বলেছি। আপনি জানেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে যারা কাজ করেছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইউএনডিপি।কিন্তু ইউএনডিপি পার্বত্য চট্টগ্রামে কী কাজ করেছে, কোথায় করেছে আমরা কেউ জানি না। অথচ কোটি কোটি টাকা সেখানে খরচ হচ্ছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি স্বাস্থ্য সেবার নামে ইউএনডিপি সেখানে কাটি কোটি টাকা খরচ করছে। আমি তাদের দায়িত্বশীলদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানলাম, একজন কো-অর্ডিনেটরসহ শুধু তিন জন আছেন যারা সারা পার্বত্য চট্টগ্রামের সাড়ে চার হাজার কর্মীকে নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করেন। আমি বললাম যে, কর্মীরা আসলে মাঠ পর্যায়ে যাচ্ছে কী যাচ্ছে না এটা আপনারা কীভাবে বুঝবেন? তখন তারা আমাকে খুব একটা সদুত্তর দিতে পারেন নি। তারা আমাকে শুধু এইটুকুই বললেন যে, আমরা ম্যালেরিয়া নিয়ে কাজ করছি, আর যেহেতু ভেতর থেকে ম্যালেরিয়া রোগীদের কোনো কমপ্লেইন আসছে না , সেহেতু আমরা ভাবছি যে,আমাদের কর্মীরা কাজ করছে।

এ ধরনের আরও প্রজেক্ট তাদের আছে। যেমন- ট্রাস্ট বিল্ডিং প্রজেক্ট। এই ট্রাস্ট বিল্ডিং প্রজেক্টের মাধ্যমে তারা কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। কিন্তু সেই ট্রাস্ট বিল্ডিং প্রজেক্টে কাদেরকে কার বিরুদ্ধে বা কার পক্ষে ট্রাস্ট তারা বিল্ডিং করছেন সেটার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। পার্বত্য চট্টগ্রামে কখনও দূর্বৃত্তদের হিংসামূলক কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সৃষ্টি হলে আমরা সেই কথিত ট্রাস্ট বিল্ডারদের এগিয়ে আসতে দেখি না, যারা মধ্যস্থতা করে এই দাঙ্গাটাকে থামতে পারে কিংবা উভয় পক্ষের মধ্যে ট্রাস্ট বিল্ডিং করতে পারে। এটা নিয়ে আমি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে কথা বলেছি।

যাইহোক, আপনি জেনে খুশি হবেন যে, ইউএনডিপি যেসব প্রজেক্ট নিচ্ছে সেগুলো এখন থেকে গভর্মেন্টের ইচ্ছা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে। কিংবা প্রকল্পগুলো সরকার গ্রহণ করবে ইউএনডিপি বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে তা বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে সরকারের একটা তত্ত্বাবধান থাকবে। এই সিদ্ধান্তটি এখনও পাস হয়নি, তবে পাস হওয়ার অপেক্ষায় আছে এবং এটি হয়ে যাবে। সম্প্রতি ইউএনডিপি একটি বিশাল প্রজেক্ট দিয়েছিল, সরকারের পর্যবেক্ষণের কারণেই পরে দেখলাম সেই প্রজেক্ট অনেক ছোট আকার ধারণ করেছে।আমরাও চাই এর উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকুক।

পার্বত্যনিউজ : ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা এবং এনজিওর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের জন্য সুবিধাজনক হয় এমন প্রজেক্টই তারা বাস্তবায়ন করে থাকেন। তারা ধর্মান্তকরণের কাজে লাগান এবং সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টিতে তাদের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয় হয়। এই ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

ফিরোজা বেগম চিনু : কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো ধর্মান্তকরণের বিষয়টি চোখে পড়েছে, বেশ কয়েক জায়গাতেই এই ধরনের ঘটনা প্রমাণিত। কিছু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সাথেও তারা জড়িত ছিল অতীতে। সাজেকে যে দাঙ্গাটা হয়েছিল, সেখানে একটি এনজিও ইন্ধন দাতা ছিল। সেকারণেই আমরা চাই, উন্নয়ন সংস্থাগুলো উন্নয়নের নামে কী কাজ করছে তা যেন সরকারের জানা থাকে- সে ব্যবস্থাটা থাকা জরুরি।

পার্বত্যনিউজ : অভিযোগ আছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারি এবং বেসরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের সুবিধাভোগী হচ্ছে দুই-তিনটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকেরা, অন্যরা তেমন কোনো সুবিধা পায় না। বিশেষ করে শিক্ষা, চাকরিসহ বিভিন্ন কোটা সুবিধা থেকেও বঞ্চিত প্রান্তিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকেরা, সত্যিকারের যারা ডিপ্রাইভ সেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকেদের কাছে সুবিধাগুলো পৌঁছায় না, এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

ফিরোজা বেগম চিনু : আমরাও চাই, সত্যিকারের বঞ্চিত এবং অবহেলিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর উন্নয়ন হোক। যাদের জন্য উন্নয়ন বিশেষ করে গ্রাস রুট লেভেলে, দুর্গম এলাকায় যারা বসবাস করেন উন্নয়নটা  তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছুক- সেটাই আমরা চাই। কিন্তু মাঝখান দিয়ে যদি কেউ সেটা আটকে দেয় কিংবা নিজেরাই ভোগ করে ফেলে তাহলে এটা অবশ্যই দুঃখজনক এবং খুবই নিন্দনীয়। আমরা এটা কখনই চাইতে পারি না।

পার্বত্যনিউজ : নিরাপত্তার কারণে যেসব বাঙালি তাদের কবুলিয়তভুক্ত জমি থেকে দূরে এসে বসবাস করছেন তাদের অনেকের জমি এখন কিয়াং বানিয়ে দখল করা হচ্ছে। কারো কারো জমি পতিত থাকলেও সেখানে তাদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

ফিরোজা বেগম চিনু : আসলে বিষয়টা খুবই জটিল। আমি জানি না বিষয়টাকে অন্যেরা কীভাবে নেবেন। তবে আমার ব্যক্তিগত মত হলো, তারা দাবি করছেন তারা এখানকার আদিবাসী, আমরা দাবি করছি তারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, (তবে চাকমা সার্কেল চিফ যিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে উপদেষ্টা ছিলেন, সেসময় তিনি বলেছেন উপজাতি, বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই)। আমার মত হলো, পাহাড়ের মাটি ফুঁড়ে তো তারা আসেন নাই।নিশ্চয়ই তারা কোথাও না কোথাও থেকে এসে এখানে বসতি স্থাপন করেছেন এবং পার্বত্যাঞ্চলটা তখন প্রত্যন্ত অঞ্চল হিসেবেই ছিল। মানুষ ছিল কম তাই এখানে বন্দোবস্তির কথাও চিন্তা তারা করেন নাই। আজকে এই পাহাড়ে জুম চাষ করল, কালকে আরেক পাহাড়ে চলে গেল- এভাবেই ছিল তাদের বসবাস। বাঙালিরা সংখ্যায় কম হলেও তারা কিন্তু এখানে ছিল এবং একটি দেশের অংশ হিসেবে এখানে বাঙালিরা যখন বড় পরিসরে বসতি স্থাপন আরম্ভ করল তখন তারা জমি বন্দোবস্তি নিয়ে, রেজিষ্ট্রি করে বৈধভাবে বসবাস করছে।

কোন পাহাড়ে কোন এক পাহাড়ি হয়তো আগে জুম চাষ করেছে কিন্তু তাই বলে সেটি তার জমি হয়ে যেতে পারে না। কেননা তার তো বন্দোবস্তি নেই, আর জায়গাটা তো সরকারের। সরকার তার জমি যাকে ইচ্ছা তাকে সেটা দিতে পারেন। কিন্তু এই সহজ বিষয়টি নিয়েও বিরোধ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যদিও এটা ঠিক নয়। আমি মনে করি, ল্যান্ড কমিশনকে শক্তিশালী করতে পারলে এবং এটাকে যদি আমরা চলমান রাখতে পারি তাহলে এই ভূমি বিরোধের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। যার যার  ন্যায্য জায়গা, অর্থাৎ যার যে জায়গার কাগজপত্র আছে ল্যান্ড কমিশন তাদেরকে সে জায়গা বুঝিয়ে দিয়ে সমস্যাটার সমাধান করতে পারবে বলে আমরা আশাবাদী।

পার্বত্যনিউজ : সুন্দরবনে আগুন লাগলে পরিবেশবাদীরা আন্দোলন করেন; তা নিভানোর উদ্যোগ নেয় সরকার এবং বনবিভাগ, কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ে আগুন দিয়ে জুম চাষ করা হচ্ছে এটা নিয়ে কেউ কোন উচ্চবাচ্য করছেন না- এর কারণ কী ?

ফিরোজা বেগম চিনু : জুম চাষ এখন আগের তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে। আমি মনে করি, দেশের স্বার্থে, এই বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকা উচিৎ। যত দ্রুত সম্ভব জুম চাষ থেকে সরে আসা উচিৎ। কেননা, পাহাড় যখন আগুন দিয়ে পোড়ানো হয় তখন মাটির ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পায়, পশু-পাখি পুড়ে মারা যায়, যেগুলো বেঁচে থাকে তারাও আশ্রয় হারায়। ফলে দিনে দিনে পাহাড়ের পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, পাহড়ে যেভাবে বনায়ন হওয়ার কথা সেটাও হচ্ছে না। এগুলো আমাদের ভাবার সময় এসেছে।

আমি দুঃখ প্রকাশ করেই বলছি, আমি দেখলাম- সেই পরিবেশবাদী বলেন আর মানবাধিকারবাদী বলেন, ঢাকা কিংবা সুন্দরবনে যদি কোন একটা ঘটনা হয় সেটা নিয়ে তারা যেভাবে মাতামাতি করেন, নাচানাচি করেন আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিদিনই মানবাধিকার ভূলণ্ঠিত হচ্ছে, পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটছে কিন্তু এ ব্যাপারে তাদের কোনো মাতামাতি আমরা দেখতে পাই না। সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আমার অনুরোধ, তাদের কাছে আপনারা জানতে চাইবেন, অন্য কোনো প্লাটফর্মে তারা যদি অন্য কারো পক্ষে মায়া কান্না দেখাতে আসে তখন যুক্তি দিয়ে, উদাহরণ দিয়ে তাদের প্রশ্ন করবেন, তাহলেই তাদের চেহারাটা উন্মোচিত হয়ে পড়বে।

পার্বত্যনিউজ : পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তার অভাবে ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের নেতাকর্মীরাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছিল না। ফলে নির্বাচনকে পিছাতে হয়েছে। এই রাপত্তাহীনতা থেকে উত্তরণের বিষয়ে আপনারা কী ভাবছেন?

ফিরোজা বেগম চিনু : পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তাহীনতা আছে এটা সত্য কথা। আর এ বিষয়টি সরকার দেখছে। আমি আমার জায়গা থেকে অনেকবারই সরকারের কান পর্যন্ত এই কথাগুলো পৌঁছে দিয়েছি। আপনি জেনে খুশি হবেন যে, শেষ পর্যন্ত রাঙামাটিতে ৪৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪৬টিতে আমাদের প্রার্থী দিতে পেরেছি। পরিস্থিতির উন্নয়ন যদি না হতো তাহলে হয়তো এটাও সম্ভব হতো না।

পার্বত্যনিউজ : পার্বত্য চট্টগ্রামে বেসরকারি উদ্যোগে ট্রাস্ট বিল্ডিং এর কথা শুনা গেলেও বাস্তবে তার কোন প্রতিফলন দেখা যায় না। কিন্তু সকল সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে আরও সুন্দর পরিবেশে পার্বত্য এলাকায় মিলেমিশে বসবাস করতে পারে সে ব্যাপারে আপনাদের কোনো উদ্যোগ বা পরিকল্পনা আছে কিনা?

ফিরোজা বেগম চিনু : একটা কথা আছে, চোর না শোনে ধর্মের কাহিনী। আমি একজন মানুষ হিসেবে যেটা বলতে চাই সেটা হলো– হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিম সবাই কিন্তু ঈশ্বরবাদেই বিশ্বাসী। একজন সৃষ্টিকর্তাকে ঘিরেই কিন্তু সকলের উপাসনা। সবার রক্ত একই রকম, সবার দুঃখ এবং সুখের অনুভূতিও একই রকম তাহলে আমাদের মধ্যে বিভেদ থাকবে কেন? এরপরেও যারা এটা করছে, আসলে তারা এটা করছে তাদের হীন মানসিকতাকে চরিতার্থ করার জন্যই।

আমরা চাই এবং আমরা চেষ্টা করছি- মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ যাতে কেউ নিতে না পরে। আমরা সম্প্রতি দেখেছি, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স উদ্বোধনের দিন পার্বত্যবাসীর পক্ষ থেকেই শ্রী জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বক্তব্য রেখেছেন। তার সেদিনের সার্বিক চিত্র দেখে এটাও বোঝা গেছে যে, তিনি সবকিছু মিলিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন। আমি মনে করি, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান জাতিগত সমস্যাটা শুধু তিনি চাইলেই সেটার সমাধান হবে।

আসলে যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি করছে তারা তার নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা আমি সেটা জানি না। তবে আমি মনে করি, তিনি যদি বলেন যে, পাহাড়ে চাঁদাবাজি হবে না, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হবে না, অস্ত্রবাজি হবে না তবে তার কথা মেনে যদি সেসব বন্ধ নাও হয় তবু সরকারের পদক্ষেপেই সেসব বন্ধ করা সম্ভব। সুতরাং তার সাথে ট্রাস্ট বিল্ডিংটা ইউএনডিপি কীভাবে করবে সেটাই আমাদের দেখার বিষয়।

পার্বত্যনিউজ: আপনি কিপার্বত্যনিউজ দেখেন?  এই অনলাইনের বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

ফিরোজা বেগম চিনু: হ্যাঁ, আমি পার্বত্যনিউজ নিয়মিত দেখি। আমি সাধারণত দেরি করে ঘুমাই। ঘুমানোর আগে আপডেট নিউজগুলো দেখি। আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। পার্বত্যনিউজ আরও বস্তুনিষ্ঠ হোক এই আশা করি এবং পার্বত্যাঞ্চলের সকল মানুষের সুখ-দুঃখের কথা বলবে এটাই আমি চাই। বিশেষ করে যারা অধিকার বঞ্চিত, যারা শোষিত তাদের পক্ষে কথা বলবে পার্বত্যনিউজ এটাই আমার প্রত্যাশা।

পার্বত্যনিউজ : সিইচটিআরএফ এর লাইব্রেরী ও আর্কাইভ দেখে আপনার অভিমত কি?

ফিরোজা বেগম চিনু : আপনাদের আর্কাইভ দেখে আমার খুবই ভালো লেগেছে, আমি মুগ্ধ হয়েছি। কেননা, পার্বত্য চট্টগ্রামের সঠিক তথ্যগুলো এখান থেকে আমরা নিতে পারবো। আমি আসলেই আনন্দিত বোধ করছি। বিশেষ করে পার্বত্য বিষয়ক সিএইচটিআরএফ-এর আর্কাইভ দেখে আমি অনেক বেশি খুশি হয়েছি। আপনার ঢাকায় বসে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে এতো ভাবছেন এটা দেখে আমার খুশী লাগছে। আমি চাই, এখান থেকে যেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সঠিক ইতিহাস, সঠিক তথ্য সবাই যেনো সংগ্রহ করতে পারেন। আর আমি আপনাদের এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

পার্বত্যনিউজ: মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

ফিরোজা বেগম চিনু: আপনাদেরকেও অনেক ধন্যবাদ।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *