প্রথম ধাপে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ


পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে সেনাবাহিনীর হামলা-হত্যা-ধর্ষণের মুখে বাস্তুচ্যুত হয়ে পালিয়ে আসাদের মধ্য থেকে প্রথম ধাপে এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এ খবর দেয়।

এ ব্যাপারে ২৯ নভেম্বর এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারকে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল। তিনি সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

কাদের বলেন, বাংলাদেশ ‘সরকার যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের নিরাপদে এবং সসম্মানে নিজ দেশে ফেরত পাঠাবে। সে লক্ষ্যে জাতিসংঘসহ বিশ্বসম্প্রদায়ের সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছে জয়েন্ট ওয়ারর্কিং গ্রুপ’। ২৯ ডিসেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) রিপোর্ট অনুযায়ী এ দিন পর্যন্ত বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমার নাগরিকের সংখ্যা ছয় লাখ ৪৮ হাজার ৫৪০ জন। অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় এ সংখ্যা বাড়ছে। এ ছাড়া ২৫ আগস্টের আগে মিয়ানমার থেকে আসা দেশটির বাস্তুচ্যুত নাগরিকের সংখ্যা দুই লাখ চার হাজার ৬০ জন।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে এ বছরের ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত চুক্তিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ৯ অক্টোবর এবং চলতি বছরের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রাখাইন রাজ্যের অধিবাসীদের ফেরত নেবে মিয়ানমার। এই চুক্তির অধীনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পর ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরের আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রাখাইন রাজ্যের অধিবাসীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বর্তমান চুক্তি সইয়ের দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ লক্ষ্যে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে এবং এর টার্মস অব রেফারেন্স চূড়ান্ত করা হবে। এই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপটিই চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করবে।

চুক্তিতে আরো বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাই করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া হবে। স্বেচ্ছায় যারা যেতে চাইবে, তাদেরই নেওয়া হবে। ইউএনএইচসিআর বা আগ্রহী আন্তর্জাতিক অংশীদাররা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে সংযুক্ত হতে পারবে। রোহঙ্গাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিলে উভয় দেশ আলোচনা করে সমাধান করবে।

এদিকে, বাস্তুচ্যুত ৪৫০ হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিককে রাখাইনে ফিরিয়ে নেয়ার মধ্য দিয়ে আগামী ২২শে জানুয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইটস অব মিয়ানমার। মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী ড. উইন মিয়াত আইয়িকে উদ্ধৃত করে এ খবর দেয়া হলেও তাতে রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

রিপোর্ট মতে, রাজধানী নেপিদোতে দেশটির জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপে পুনর্বাসনমন্ত্রী প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপে ২২শে জানুয়ারি সীমান্তে ৪৫০ হিন্দু শরণার্থীকে ফেরত নেয়ার কথা জানান। মানবাধিকার কমিশনের তরফে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *