পেকুয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা


pic nihota delowar member pekua 03-02-2016 (2) (1)

পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় সাবেক এক ইউপি সদস্যেকে দাওয়াত দিয়ে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন (৭০) রাজাখালী ৮ নং ওয়ার্ড়ের সাবেক ইউপি সদস্য ও একই ইউনিয়নের নতুন ঘোনা গ্রামের মৃত আশকর আলীর পুত্র। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। বুধবার সকাল ৮টার দিকে পেকুয়া সরকারি হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নিহত ইউপি সদস্যের স্ত্রী হাসপাতালে অঝোর নয়নে কাঁদছেন। তার কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এ সময় নিহত ইউপি সদস্যের মাথার সামনে গুলির আঘাত ও পিঠে ৭টি ধারালো কুপের চিহ্ন দেখা গেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছেন, গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মগনামা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মো. জাকের হোছাইন কিছু লোক পাঠিয়ে রাজাখালী ইউনিয়নের নতুন ঘোনা গ্রামের বাড়ী থেকে সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে দাওয়াতের কথা বলে শরৎঘোনায় ডেকে নিয়ে যায়। এরপর শরৎ ঘোনা দুবাই প্রবাসী আবদুল খালেকের বাড়ীর পার্শ্বের লবণ মাঠে নিয়ে দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে মাথায় গুলি ও পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে হত্যা করে।

নিহতের পরিবার আরো অভিযোগ করেছেন, মগনামা শরৎঘোনা গ্রামের ইউপি সদস্য জাকের হোসেনের প্রত্যক্ষ ইন্দন ও সহায়তায় তার সহযোগী একই গ্রামের মনছুর, গিয়াস উদ্দিন মনিয়া, আবুল কালাম, নবী হোসেন, সিরাজুল ইসলামসহ একদল অস্ত্রধারী লোক দেলোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে শরৎ ঘোনা এলাকার ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা জাকের হোছাইন মেম্বার ও মনছুর আত্মগোপনে রযেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনার ব্যাপারে জানার ওই ইউপি সদস্যের মোবাইলে বুধবার বেশ কয়েকবার ফোন করা হলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার নির্বাচনী এলাকার মগনামা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের স্থানীয় লোকজন দাবি করেছেন, ইউপি সদস্য জাকের হোছাইন ও তার লোকজন দেলোয়ারকে হত্যা করেনি।

এদিকে গত কয়েক মাস ধরে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন রাজাখালীর একটি চোর সিন্ডিকেট মগনামার বিভিন্ন এলাকায় লবণ চাষীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছে। এদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন নিহত দেলায়ার বলে অভিয়োগ করেছেন স্থানীয়রা। গতকয়েক মাস আগে ভাই ভাই বঙ্গবন্ধু সংগঠন নামের একটি সংগঠন অবির্ভাব হয়। ওই সংগঠনের নাম ভাংগিয়ে কমন্ডার মোহাম্মদ তুফান মোবাইলে বিকাশ নাম্বরের টাকা পাটানোর জন্য একটি কার্ড লবণ চাষীদের বরাবরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। চাঁদা না দিলে প্রতিরাতে লবণ মাঠের পলিথিন লুট করে নিয়ে যায় ওই চোর সিন্ডিকেট। রাজাখালী ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হোছাইন শহিদ সাইফুল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদকে জানান, তুফান নামে ব্যাক্তি পরিচালনায় কোন ধরনের ভাই ভাই বঙ্গবন্ধু সংগঠন রাজাখালীতে নেই।

নিহতের ছেলে ও বান্দরবান ফায়ার ষ্টেশনের কর্মচারী কবির হোসেন অভিযোগ করেছেন, তার নিরীহ পিতাকে শরৎঘোনা এলাকায় পিকনিকে দাওয়াত খাওয়ার নামে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেছেন। এদিকে খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মাসুদ আলম সকাল ১১টা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

পেকুয়া থানার ওসি জিয়া মো. মোস্তাফিজ ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো নিহতের পরিবার থেকে থানায় এজাহার দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অভিযান চালিয়ে ৮জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার ক্লু উদ্ঘাটনের জন্য প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রকৃত দোষীদের আইনের কাঠগড়ায় আনা হবে।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *