পেকুয়ায় জমি জবর দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ


পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ার টইটং ইউনিয়নের মৌলভী হাছানের ঝুম এলাকায় দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি জবর দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এনিয়ে দু’পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে স্থানীয়রা।

জমির প্রকৃত মালিক ওই এলাকার মৃত মো. ইসমাঈলের পুত্র মনজুর আলম বলেন, পৈত্রিক দখল সূত্রে মৌলভী হাছানের ঝুম এলাকায় বেশ কিছু রিজার্ভ ভুমির মালিকনা প্রাপ্ত হই। এরপর থেকে ওই জমিতে নিজ উদ্যোগে সামাজিক বনায়ন সৃজন করি। এরই মাঝে আমি কর্মের তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমাই। পরবর্তী সময়ে আমি বিদেশে থাকাবস্থায়ও জমি দখলে ছিল। কিন্তু বিগত ৩ বছর আগে হঠাৎ করে একই এলাকার মৃত ছিদ্দিক আহমের পুত্র মো. জাহাঙ্গীর আলম তার দলবল নিয়ে সৃজিত বনায়নসহ বেশ কিছু জমি দখল করে নেয়। এমনকি একটি বসতিও তৈরি করে। বিষযটি আমার অবর্তমানে স্ত্রী স্থানীয়দের জানালে তারা কৌশলে সাবেক চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিনের বরাবর সালিশি বিচার দায়ের করেন। গ্রাম আদালত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে জমি আমার বলে প্রতীয়মান হয়। তাদের জমি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করলেও তারা আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে জমি জবর দখল করা শুরু করে। এমনকি ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে আমার পরিবারের উপর হামলাও করে।

একপর্যায়ে বর্তমান চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর কার্যালয়ে আমার স্ত্রী রহিমা বেগম ও পুত্র জাহেদুল করিম বাদি হয়ে বিচার দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৮৭/১৬ইং। গ্রাম আদালত দীর্ঘ শুনানীকালে জমি আমার বলে প্রতীয়মান হলে গ্রাম আদালত আমার পক্ষে রায় প্রদান করেন। সর্বশেষ তারা নাপিতখালী এলাকার ছিদ্দিক এর লিখিত একটি ভুয়া স্ট্যাম্প দেখালে বিচারকগণ বিচার বিশ্লেষণ করে তা ভুয়া বলে প্রতিয়মান করে। তারপরও ওই স্ট্যাম্পটি সঠিক বলে তারা দাবী করলে চেয়ারম্যানসহ গ্রাম আদালতের যৌথ প্যানেল স্ট্যাম্পটি আইনগতভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য এক্সপার্টে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। স্ট্যাম্পটি আইনগতভাবে পরীক্ষা করলে ভুয়া হবে এ প্রতীয়মান হলে গ্রাম আদালতের বিচারকে অমান্য করে আদালতের মাধ্যমে ওই নথি তলব করে নিয়ে যায়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মনজুর আলম অনেক আগেই এ জমি বিক্রি করে দিয়েছে। সে যাকে বিক্রি করে দিয়েছে তার কাছ থেকে ক্রয় করে বসতবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছি। ভাড়াটে সন্ত্রাসী কেন রাখব। আমার ক্রয়কৃত জমিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছি। গ্রাম আদালতের বিচারগণ সে ম্যানেজ করে নিয়েছে তাই উচ্চ আদালতের ধারস্ত হয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টইটং গ্রাম আদালতের প্রধান টইটং ইউপি’র চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ জমি নিয়ে গ্রাম আদালতে কয়েকদফা বৈঠক হয়েছে। সাক্ষী প্রমাণে জমি মনজুর আলমের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। সর্বসম্মতভাবে তার পক্ষে রায় প্রদান করা হয়েছে। যে স্ট্যাম্পটি জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত করেছে তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় আইনগতভাবে এক্সপাটে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছি। পরে তারা উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিয়ে নথি তলব করলে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *