পেকুয়ায় ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, সাংবাদিককে মারধর

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সিএনজি চালক কর্তৃক স্কুল ছাত্রকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে ডাকা সড়ক অবরোধকারী ছাত্রদের উপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ।

১৮ জুন রবিবার পেকুয়া উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় সিএনজি চালকরাও লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের সাথে স্কুল ছাত্রদের উপর হামলা চালাতে দেখা যায়। পুলিশের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া এবং ছাত্রদেরকে মাটিতে ফেলে মারধর করার ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় এক সাংবাদিককেও পিঠিয়ে আহত করেছে পুলিশ।

এসময় সাংবাদিকের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় পুলিশ। অবশ্য পুলিশ দাবি করছে, ছাত্রদের সড়ক অবরোধের সময় তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টাকালে কিছু উত্তেজিত ছাত্র এসআই কামরুলের উপর হামলা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ছাত্রদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে মাত্র।

জানা যায়, গত ১৭ জুন জিএমসি ইনষ্টিটিউশনের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র সাজ্জাদ স্কুল শেষে চৌমুহনী থেকে টইটং যাওয়ার সময় ভাড়া কম দেয়া নিয়ে চালকের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই চালক স্কুল ছাত্রকে পিঠিয়ে আহত করে। এ সংবাদ তার স্কুলে পৌঁছালে পর দিন পেকুয়া জিএমসি ইনষ্টিটিউশনের শতাধিক শিক্ষাথী “স্কুল ছাত্রের উপর সিএনজি চালকের হামলা কেন জবাব চাই” স্লোগান দিয়ে চৌমুহনীর মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। এসময় তারা চকরিয়া-মগনামা ও এবিসি মহাসড়কের গাড়ী চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের অবরোধ তুলে নিতে বললে ছাত্ররা সিএনজি চালকের বিচার দাবী করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। পরে পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনজুরুল কাদেরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ চৌমুহনীতে অবস্থান নিয়ে ছাত্রদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে গাড়ী চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।

এসময় জিএমসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিন ছাত্রদের শান্ত করার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শী চৌমুহনীর বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পুলিশ ছাত্রদের বুঝানো চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গাড়ী চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে একদল উত্তেজিত ছাত্র এস আই কামরুলের উপর হামলা করার চেষ্টা করে। এতে পুলিশ উত্তেজিত হয়ে ছাত্রদের উপর লঠিচার্জ করে। এসময় লাঠিচার্জের দৃশ্য ধারণ করতে গেলে পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মনঞ্জুর কাদের মজুমদারের নেতৃত্বে এস আই কামরুল, এস আই নাছির, এ এস আই জাহেদও পুলিশ সদস্য হাসানসহ দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি ও সকালের কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার, পার্বত্য নিউজের প্রতিনিধি সাংবাদিক জোবাইদের উপর হামলা চালিয়ে তার ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন নগদ টাকা কেড়ে নেয়।

এসময় পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ছফওয়ানুল করিম সাংবাদিককে মারধরের প্রতিবাদ করলে তাকেও গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চালায়। এসময় অন্যান্য সাংবাদিকরা এগিয়ে এলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।

এব্যাপারে জানতে চাইলে পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনজুরুল কাদের জানান, ছাত্রদের অবরোধ তুলতে গিয়ে সাংবাদিক জোবাইদের সাথে সামান্য ভূল বুঝাবুঝি হয়েছে মাত্র। লাঠিচার্জ নয় গাড়ী চলাচল স্বাভাবিক করতেই ছাত্রদের রাস্তা থেকে তুলে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক জোবাইদ জানান, আমি ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জের সময় ছবি তুলতে গেলে উত্তেজিত হয়ে পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মনঞ্জুর কাদের মজুমদারের নেতৃত্বে এস আই কামরুল, এস আই নাছির, এ এস আই জাহেদও পুলিশ সদস্য হাসানসহ পুলিশ আমার উপর হামলা করে আমার ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন মানিব্যাগ কেড়ে নেয়।

এ ব্যাপারে পেকুয়া জিএমসি ইনষ্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৯ম শ্রেণীর এক ছাত্রকে সিএনজি চালক অহেতুক মারধর করার ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা সিএনজি চালকের বিচার দাবী করে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে স্কুলে নিয়ে আসি।

আহতরা হলেন, ইলিয়াছ (১০ম শ্রেণী),  ৯ম শ্রেনীর ছাত্র অপি, সাজ্জাদ ও ছোটন, ৮ম শ্রেনীর শাহেদ, ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্র তারেক ও সাংবাদিক জুবাইদ।