পেকুয়ায় অস্ত্র কারখানায় র‌্যাবের অভিযান, ১১টি অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধার, আটক-২


পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়ার বারবাকিয়া ইউনিয়নের মৌলভী বাজার ও টইটং ইউনিয়নের সীমান্ত ব্রিজ সংলগ্ন নাপিতখালী এলাকায় অস্ত্র কারখানায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব-৭। অস্ত্র বানানোর সরঞ্জাম, কার্তুজসহ ১১ অস্ত্র উদ্ধার ও টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর দুই সহযোগীকে আটক করেছে র‌্যাব। আটককৃতরা হলেন, নাপিতখালী এলাকার জাফর আহমদের পুত্র ছৈয়দ নুর, মো. হোসেনের পুত্র আবদুল কাদের। কারখানাটি তারা রিক্সার গ্যারেজের নাম দিয়ে ব্যবহার করতো। সোমবার (৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-৭।

অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় র‌্যাবের এ এসপি মো. শাহ আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭ এর একটি টিম টইটংয়ের নাপিতখালী এলাকার অস্ত্র কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরঞ্জামসহ ১১ লম্বা ও টুটু বন্দুক উদ্ধারের পাশাপাশি দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। নাপিতখালী ব্রিজ সংলগ্ন রিক্সার গ্যারেজের আড়ালে তারা অস্ত্রের কারখানা গড়ে তুলেছিল। তাদের গডফাদারকেও  খোঁজে বের করা হবে। ওই সময় অভিযানে অংশ নেওয়া র‌্যাবের সিনিয়র এক মহিলা কর্মকর্তা তাদের অস্ত্রের উৎস ও গডফাদারের নাম জানতে যান স্থানীয়দের কাজ থেকে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, অস্ত্র কারখানার মালিক আটককৃত আবদুল কাদের টইটং ইউপির চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর অন্যতম সহযোগী। চেয়ারম্যান জাহেদ মাঝে মধ্যে অভিযানকৃত রিক্সা গ্যারেজে এসে গল্প করতো। এছাড়াও আটককৃত ছৈয়দনুর চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর গোলঘরের সহযোগী ছিল। যে গোলঘরে বসে সব সময় বিচার বাণিজ্যে ও তার প্রতিপক্ষদের মারধর করতো। বিচার বাণিজ্যে সমস্ত টাকা লেনদেন হত ছৈয়দনুরের মাধ্যমে।

এদিকে অভিযানের শুরু থেকে এলাকাবাসীর মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এত অস্ত্র ও অস্ত্র কারখানা সন্ধান পাওয়ায় এলাকাবাসী হতবাক। বড় ধরণের নাশকতার জন্য এ অস্ত্র ব্যবহার হতো বলে এলাকাবাসীর ধারণা। এ ঘটনায় র‌্যারেব অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সাথে সাথে গডফারাদকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ছৈয়দনুর ও আবদুল কাদের নিরহ। তাদেরকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। ছৈয়দনুর চেয়ারম্যানের সহযোগী কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ছৈয়দনুর নয় চেয়ারম্যান হিসাবে পুরো টইটংবাসী আমার সহযোগী।

এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খান আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *