‘পৃথিবীর সর্বত্র উন্নয়ন হচ্ছে অথচ জেএসএস পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন চায় না’


alikadam-shanti-somabesh-news-02-12-2016-copy

আলীকদম প্রতিনিধি:

পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় শুক্রবার সকালে শান্তি র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। র‌্যালিতে বিভিন্ন সংগঠন ও সমিতির লোকজন অংশগ্রহণ করে। এতে অংশ নেন আলীকদম জোনের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল সারওয়ার হোসেন পিএসসি, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক প্রমূখ।

উপজেলা শহর প্রদক্ষিণ শেষে র‌্যালি উপজেলা পরিষদ বটমূলে এক শান্তি সমাবেশে যোগ দেয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল সারওয়ার হোসেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ওসি অপ্পেলা রাজু নাহা, আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন চেয়ারম্যান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মংব্রাচিং মার্মা ও কামরুল হাসান টিপু প্রমূখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল সারওয়ার হোসেন, পিএসসি বলেন, জেএসএস কিংবা এদের মদদ দাতারা পার্বত্য চট্টগ্রামের এক ইঞ্চি উন্নয়ন করেনি। ১৯৭০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১০-১৫ কিলোমিটার সড়ক ছিল, ২০১৫ সালের জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী এ অঞ্চলে ১৫’শ কিলোমিটরের বেশি সড়ক হয়েছে। আরও সড়কপথ তৈরি হবে। পৃথিবীর সর্বত্র উন্নয়ন হচ্ছে অথচ জেএসএস পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন চায় না।

প্রধান অতিথি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমি অবাক হই, যখন দেখি রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ হবে অথচ সেখানে জেএসএস-ইউপিডিএফ বাঁধা প্রদান করছে। তিনি বলেন, সাধারণ জনগণ বিশেষত উপজাতীয় জনগোষ্ঠী যদি শিক্ষিত হয়ে যায়, তাহলে তারা ওদের চাঁদা দিবে না। ভুল পথে পরিচালিত করতে পারবে না। জেএসএস নেতারা রাজকীয় জীবন যাপন করছেন, তাদের ছেলেমেয়েরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। অথচ সাধারণ উপজাতিরা যেন শিক্ষিত ও আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে না পারেন সে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে জেএসএস নেতারা।

লে. কর্ণের সারওয়ার আরও বলেন, অপারেশন উত্তোরণের আওতায় বেসরকারি ও সরকারি প্রশাসন সেনা বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনী শিক্ষা, রাস্তা-ঘাট, সামাজিক উন্নয়নসহ সকলক্ষেত্রে কাজ করছে। সেনাবাহিনী এসব কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। কিছু কুচক্রি মহল শান্তিতে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, লামা-আলীকদমে সন্ত্রাসী গ্রুপ বিদ্যমান আছে। সন্ত্রাসীরা স্থানীয়দের কাছে নির্দিষ্ট অংকের চাঁদা নিচ্ছে। তামাক চাষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেক্টর থেকে চাঁদা নেয় সন্ত্রাসীরা। চাঁদার টাকায় জেএসএস নেতারা বিলাসবহুল জীবন যাপন করছে। জোন কমান্ডার উপস্থিত জনতাকে আহ্বান করে বলেন, পাহাড়ি-বাঙ্গালী ভাই, আমরা সবাই বাংলাদেশী। এখানে কোন ভেদাভেদ থাকবে না।

দিবসের কর্মসূচী হিসেবে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প ও বিকেলে চলচিত্র প্রদর্শণী ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *