পাহাড়ে পর্যটকের ঢল


নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:

পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি জাতিগত, ঐতিহ্যগত এবং বৈচিত্রের দিক দিয়ে বাংলাদেশের মধ্যে ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে।

এছাড়া একদিকে পাহাড় অন্যদিকে কাপ্তাই হ্রদ এ জেলাকে আলাদা সৌন্দর্য দান করেছে। যা অন্য কোথাও দেখা যায় না। তাই প্রতি বছর ঈদ কিংবা যে কোন ছুটিতে পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি।

দু’বছর ধরে মুষল ধারে বৃষ্টি, পাহাড় ধস, খুন, গুম প্রভৃতি কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক সংকটের কারণে পর্যটকের আনাগোনা কমে গেছে পাহাড়ের অপরূপ এ জেলাটিতে।

এবার সকল প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বেঁধে ছিলো এ বছর পর্যটকদের ঢল নামবে। তাদের সে আশা নিষ্পল হয়নি।

ঈদুল আযহার টানা ছুটিতে পার্বত্য এ জেলাটির পুরো শহর পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। পর্যটন স্পটগুলোর এমন কোন জায়গা নেই যেখানে পর্যটকদের সমাগম ঘটেনি।

পর্যটক বিশ্লেষকদের অভিমত, এ বছর রাঙামাটিতে যে ভাবে পর্যটকদের ঢল নেমেছে অতীতে এ ধরণের পর্যটক সমাগম তেমন একটা দেখা যায়নি। তাই পর্যটক ধরে রাখতে দীর্ঘ মিয়াদী পরিকল্পনা গড়ে তুলার পরামর্শ প্রদান করেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন’ সেই ঐতিহ্যবাহী ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৌদ্ধ মন্দির, নতুন ভাবে গড়ে তোলা পুলিশের পলওয়েল পার্ক, সেনাবাহিনীর গড়ে তোলা আরণ্যক, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব স্মৃতি স্তম্ভ, ডিসি বাংলো পার্ক, রাঙামাটি-কাপ্তাই বিকল্প সংযোগ সড়ক অন্যতম। এসব স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড় লেগে আছে।

এছাড়া বরকল উপজেলার সুবলং ঝর্ণা, কাপ্তাই হ্রদ ঘিরে অবস্থতি টুকটুক ইকো ভিলেজ, পেদা টিং টিং, বালুখালি হর্টিকালচার স্পটগুলো পর্যটক সমাগম হয়েছে।

রাজশাহী থেকে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী চৌধুরী রহমান জানান, ছুটি পেলে রাঙামাটিতে ঘুরতে চলে আসি। রাঙামাটি আমার এবং আমার পরিবারের ভ্রমণের জন্য প্রিয় স্থান।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে বেড়াতে আসা কাপড় ব্যবসায়ী মো. আলম জানান, আমার পাশ্ববর্তী জেলা রাঙামাটি। কাপ্তাই হ্রদে ঘুরাঘুরি এবং পাহাড়ে ঘুরতে খুব ভাল লাগে। তাই বিভিন্ন উৎসবে বন্ধ পেলে ছুটে চলে আসি প্রিয় জেলা রাঙামাটিতে।

পর্যটন কর্পোরেশন এলাকায় পর্যটকবাহী সিএনজি চালক মো. তাহের জানান, এ কয়েকদিন যে পরিমাণে রাঙামাটিতে পর্যটক এসেছে তা অন্য সময় দেখা যায়নি। চালক তাহের আরও জানান, আমরা যতেষ্ট আয় করছি, বেশ ভাল লাগছে।

বোট চালক রমজান আলী জানান, এবারে এত পর্যটক এসেছে যে আমাদের বোটের চাহিদা বেড়ে গেছে। বোট চালকরা ভাল আয় করছে বলেও জানান তিনি।

হোটেল প্রিন্স’র স্বত্তাধিকারী নেছার আহম্মেদ জানান, আমার হোটলের সব কয়টি রুম আগামী কয়েকদিন বুকিং রয়েছে। এর মধ্যে কোন রুম খালি নেই। ভাল লাগছে অনেকদিন পর রাঙামাটিতে পর্যটকদের আগমন বেড়েছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন রাঙামাটি শাখার ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, ভুমি ধসের আতঙ্ক, পাহাড় ধসসহ নানা সমস্যা উতরিয়ে পর্যটন করপোরেশন ব্যস্ত সময় পার করছে। কর্মচারীরা দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছে বলে জানান তিনি।

ব্যবস্থাপক সৃজন আরও জানান, কয়েকদিনে ১০হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। সরকারও আয় করেছে ব্যাপক রাজস্ব।

ঝুলন্ত সেতু ডুবে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে সেতুটি থেকে হালকা পানি নেমে যাওয়ার সাথে যাথে পর্যটকদের যাতায়াতে কোন বাধা রাখেনি। আয়ের দিক থেকে লক্ষ্য মাত্রার ৬০ভাগ অর্জন করা হয়েছে বলে জানান ব্যবস্থাপক।

প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম দূর্যোগ না ঘটলে আরও কয়েক মিলে আয়ের দিক থেকে ১০০ভাগ লক্ষমাত্রা অর্জন করা সম্ভব বলেও তিনি যোগ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *