পাহাড়ের রাজনীতি আ’লীগ উৎখাতে জেএসএস, শিকারে বিএনপি


রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ে রাজনীতির উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। ফের পাহাড়ের শান্ত পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠেছে। যেন আওয়ামী লীগ ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আঞ্চলিক দলগুলো। এবার শিকারে যেন বিএনপি। এ নিয়ে পাহাড়ে জনমনে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। গেল বছরের শান্তি চুক্তির ২ দশক পূর্তির অনুষ্ঠানের দুই দিন পর আবারো রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে রাঙ্গামাটি।

২০১৭ সালে ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার একই দিনে জেলার নানিয়াচর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অনাদি রঞ্জন চাকমা ও জুরাছড়ি উপজেলার আওযামী লীগের নেতা অরবিন্দু চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃতরা। এদিকে আবার ৬ ডিসেম্বর জেলা সদরে মহিলা  আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণা খীসা এবং বিলাইছড়িতে আওয়ামী লীগের নেতা রাসেল মারমাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আতঙ্কে।

এ ঘটনা গুলোর পর পরই আওয়ামী লীগ থেকে প্রায় ৬শতাধিক নেতা কর্মী পদত্যাগ করেছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে পুলিশ এ পর্যন্ত ১৯জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এর কারণে জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি দুই উপজেলায় আঞ্চলিক দলের পেশি শক্তি নেতার হুঁমকীর কারণে প্রায় ৮ দিন নৌযান চলাচল বন্ধ ছিলো। এই সব ঘটনার কারণে পাহাড়ে রাজনীতি হয়ে উঠেছে উত্তপ্ত। সাধারণ মানুষের মনে বিরাজ করছে আতঙ্ক ।

আওয়ামী লীগের অভিযোগ, এসব ঘটনার জন্য পাহাড়িদের সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে এবং পাহাড়িদের মধ্যে যারা আওয়ামী লীগ করে তাদেরকেই টার্গেট করে হামলা করছে আঞ্চলিক দলের নেতাকর্মীরা।

এদিকে, জেএসএস নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আওয়ামী লীগের আন্তঃ কোন্দলের জেরে এসব ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারটা চাপা দিতে তাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে।

এদিকে জেলার বিএনপি নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আঞ্চলিক দলগুলো শুরু থেকেই পাহাড়ি নেতাকর্মীদের চাপ দিয়ে আসছে। এই চাপ এখনও অব্যাহত আছে। পাহাড়িরা যেন জাতীয় রাজনীতি না করে, সেটাই আঞ্চলিক দলগুলোর মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, আমরা পাহাড়ি-বাঙালি একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছি। কারও চাপের কাছে আমরা নতি স্বীকার করি না।

রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দীপন তালুকদার দীপু বলেছেন, তৃণমূল পর্যায়ে  দলকে নিজস্ব দিক নির্দেশনা দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। যেহেতু আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের উপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে তাতে মানুষ অতিষ্ট। আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে অধীর আগ্রহী হয়ে রয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, আঞ্চলিক দলের সাথে আমাদের কোন সর্ম্পক নেই। কারণ এরা করে আঞ্চলিক রাজনীতি আর আমরা করি জাতীয় রাজনীতি। তাই এদের সাথে সর্ম্পকের কোন সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারেনা। সম্প্রতি পাহাড়ে যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং বর্তমান সরকারকে পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে সুষ্ঠ নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর বলেছেন, যত চেষ্টাই করা হোক না কেন মানুষের মন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আওয়ামী লীগকে উৎখাত করা যাবে না। আঞ্চলিকদলগুলো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মানুষের রাজনৈতিক মতাদর্শকে জিম্মি করতেও পারবে না। তিনি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আমরা নিত্য অভিযোগ করে আসছি কিন্তু সরকারের উচিত এখানে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং হত্যা চেষ্টা মোটেও কাম্য নয় এটি তাদের প্রতিহিংসা রাজনীতির চর্চা। সন্ত্রাসীদের ভয়ে এবং হুমকীতে ইতিমধ্যে দল থেকে যারা পদত্যাগ করেছেন বা করছেন সে গুলো গ্রহণযোগ্য হবে না।

জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেছেন, আমরাও কোন অশান্তি চাই না। সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে সরকার দল যে অভিযোগ করছে তা ভিত্তিহীন। আমরাও চাই এখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডগুলো বন্ধ হোক। তবে ধরপাকড়ের নামে সাধারণ মানুষদের যাতে হয়রানি করা না হয় সেদিকে প্রশাসনের নজর থাকা দরকার। তিনি বলেছেন, পার্বত্য চুক্তি পুরো বাস্তবায়ন না হওয়ায় এখানে অস্থিরতার সৃষ্টি হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *