পাহাড়ি কন্যার দেশ বান্দরবান



জমির উদ্দিন:

প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত পাহাড়ি কন্যার দেশ বান্দরবান। প্রকৃতি নিজেকে মেলে ধরেছে আপন সাজে। দেশি পর্যটকের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদেশি পর্যটকদের ভিড়। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নীলাচল, মেঘলা, নীলগিরি, শৈল প্রপাত, চিম্বুক, প্রান্তির লেক, ন্যাচরাল পার্ক, রিজুক ঝরনা, স্বর্ণ মন্দির, রেমাক্রী বড়পাথর, দেবতা পাহাড়, নাফাকুম, দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং বিজয়, কেওক্রাডং, ডিম পাহাড়সহ বান্দবানের সকল দর্শনীয় স্থানগুলো। এখানকার সৌন্দর্যের খ্যাতি ছড়িয়েছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও। হাতে তিন-চারদিন সময় নিয়ে বেড়াতে বান্দরবানে এলে ভালো, না হয় ভ্রমণ অপূর্ণ রাখার যন্ত্রণা থেকেই যাবে। ভিন্ন ভিন্ন ভাষার এগারোটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি-জীবনধারার মানুষ এবং বাঙালি সম্প্রদায় মিলে প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস এ জেলায়।

তবে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, প্রশাসনের নজরদারী থাকা সত্ত্বেও হোটেল মোটেল ও পর্যটকবাহী জিপগুলোর অতিরিক্ত টাকা নেওয়া ও খাবার হোটেলে বাসি খারার বিতরণসহ নানাভাবে পর্যটকদের হয়রানি হতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, শীত ও গ্রীষ্মে বান্দরবানে পর্যটকের আগমন থাকে বেশি। পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের পাশাপাশি রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটকেরা যাতে বান্দরবানে এসে হয়রানির শিকার না হন সে জন্য সবদিকে নজর রাখা হচ্ছে। এছাড়া হোটেল-মোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, খাবার হোটেলে বাসি খাবার বন্ধে ও অতিরিক্ত অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত করা হচ্ছে।

নীলাচল

জেলা শহর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান। পাহাড়ের ঘাঁ বেয়ে পথটা গিয়েছে এঁকেবেঁকে, দু’পাশে চোখ জুড়ানো অপরূপ শোভা। নতুন সাজে নীলাচল অবকাঠমোর সৌন্দর্য্য বান্দরবানের সেরা রূপায়নগুলোর অন্যতম। দূরকে কাছে টানার দারুণ এক শীর্ষ ভূমি এ নীলাচল পাহাড়। কাছের কি দূরের উঁচু কি নিচু সব হাহাড় হাজির চোখের সামনে। ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে নীলাচলের পাহাড়ি রূপ সকালে এক রকম, বিকালে আরেক রকম। শীত এলে এক রূপ, বর্ষায় আরেক রূপ। পাহড়ের ঘাঁ গিরি খাতের শূন্যতা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যেন পাড়া বেড়াচ্ছে মেঘ বালিকারা। পাহাড়ি ক্যনভাসে দারুণ লাগবে ভ্রমণ পিপাসুদের। নিচ থেকে মাথা উঁচিয়ে উপরের মেঘ দেখা নয়, নীলাচল দেয় মেঘেদের মাঝে ভেসে ভেসে সিক্ত হওয়ার সুযোগ। মেঘ যখন বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে তখনতো কথাই নেই; মেলে পাহাড়ি বৃষ্টিতে ভেজার বাড়তি সুবিধা। হাতছানি দিয়ে ডাকছে পর্যটকদের নীলাচল পর্যটন স্পট। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় দু’হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় নীলাচল অবস্থিত। স্পটটি স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। বান্দরবান শহর থেকে গাড়ি কিংবা পায়ে হেঁটেও সহজে নীলাচলে যাওয়া যায়। রাতের বেলা এখান থেকে দেখা যায় কর্ণফুলী নদীতে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে। সন্ধ্যায় নীলাচল থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য অনায়াসে দেখা যায়। তবে নীলাচল পর্যটন স্পটে দিনের চেয়েও রাতের চাঁদের আলোয় সময় কাটানো যায় অতি রোমাঞ্চের মধ্য দিয়ে।

শৈল প্রপাত ঝর্ণা

জেলা শহর থেকে মাত্র ৭ কলোমিটা দূরে প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি শৈল প্রপাত। এটি বান্দরবানের অনন্য পর্যটন স্পট। এখানে স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ার থেকে পুরো শৈল প্রপাত দেখা যায়। ভ্রমণ পিপাসুরা এখানে আসেন নৈস্বর্গিকের টানে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে সিঁড়ি বেয়ে সোজা যাবেন শৈল প্রপাতে। শৈল প্রপাত আসলে পাহাড়ি এক ঝর্ণা। জলের ধারা পেয়ে পাথর ঘেঁষে ঘেঁষে ধাপে ধাপে নেমে গেছে নিচে। রাস্তার পাশে শৈল পপ্রাতের অবস্থান হওয়ায় এখানে দেশি বিদেশি পর্যটকদের ভিড় লোগেই থাকে সারা বছর। শৈল প্রপাতের চত্তরে নজর কাড়ে স্থানীয় পাহাড়িদের তৈরি নানা সামগ্রীর পসরা। এখানকার কম্বল, চাদর, মাফলার স্থানীয় বম জনগোষ্ঠির তাঁতে বুনা। এখান থেকে নিজের জন্য বা প্রিয়জনের জন্য কিনে নিয়ে যেতে পারেন। এ ছাড়া বান্দরবানে উৎপাদিত মৌসুমি ফলমূল সবসময় পাওয়া যায় এখানে। শৈল পপ্রাতের স্বচ্ছ পানির ধারা মুগ্ধ করবে আপনাকে।

চিম্বুক

চিম্বুক পাহাড়, সারাদেশে পরিচিতি একটি নাম। এটিও বান্দরবান-থানচি সড়কে, শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের অবস্থান। চিম্বুক পাহাড়কে ঘিরেই পাহাড়ি সম্প্রদায়ের ¤্রাে জনগোষ্ঠির বসবাস। চিম্বুক পাহাড়ের চারপাশে শুধু সবুজ আর সবুজ। রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় পাহাড়। এখান থেকে খালি চোখে দেখা যায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। এটি বান্দরবান জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি পর্যটন স্পট।
শীত ও বর্ষায় চিম্বুক পাহাড়ে দাঁড়িয়ে মেঘ স্পর্শ করা যায়। ইচ্ছে করলে মেঘে গা ভাসিয়ে দিয়ে হারিয়ে যাওয়া যায় অজানায়। বান্দরবান জেলার সাত উপজেলার টেলিযোগাযোগ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড একটি বেইজ স্টেশন ও টাওয়ার স্থাপন করেছে এ পাহাড়ে।

নীলগিরি

সারাদেশে পর্যটন স্পটের নাম আসলেই সবার আগে উঠে আসে নীলগিরির নাম। বান্দরবান থানছি সড়কে এঁকেবেঁকে উঁচু-নিচু পথ বেয়ে ৪৮ কিলোমিটার দূরত্বে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন পর্যটন স্পটের নাম নীলগিরি। পাহাড়ি ভাঁজের চূড়ায় চুমু খাওয়া মেঘেদের খুনসুটি চলে সারাক্ষণ। মেঘে গাঁ ভাসাবেন নাকি হাত দিয়ে সর্স্পশ করবেন সেটা আপনার ব্যাপার। চিম্বুক হিল রেঞ্জের বিখ্যাত নীলগিরি চূড়া সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার দু’শ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। বর্ষাকালে এখনে চলে মেঘ আর রোদের লুকোচুরি খেলা। দু’চোখে যত দূর দেখা যায় পাহাড় আর সবুজ বনের মেলা ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়বে না। নীলগিরি কিছুদিন আগেও ছিল দুর্গম, বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর কৃতিত্বে এটি এখন দেশের সেরা পর্যটনগুলোর মধ্য সেরা আকর্ষণ। হেলিপ্যাড ও হাই আবাসিক ব্যবস্তা থাকায় এটি এখন মনোলোভো পর্যটন অবকাঠামো, দেশের সবচেয়ে উঁচু এ রিসোর্টও এটি। নয়নাভিরাম নীলগিরি এতটাই সুন্দর যে, আপনি বারবার ছুটে আসতে চাইবেন এখানে। নীলগিরিতে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থাও আছে। কটেজগুলোও দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। আকাশনীলা, মেঘদূত এবং নীলাতানাসহ বিভিন্ন নামে সাজানো কটেজগুলোর ভাড়াও খুব বেশি নয়। এখানে খাওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে।

মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স

প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম দু’ভাবেই সাজানো মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স। জেলা শহর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং শহরে প্রবেশের মুখে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান। মেঘলার নাম শুনলেই ভালো লাগায় মন ভরে যায়। এখানে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার শৈল কুঞ্জ, কৃত্রিম লেক, দুটি ঝুলন্ত সেতু, শিশু পার্ক, সাফারি পার্ক, পিকনিক স্পট, চিড়িয়াখানাসহ নানা আয়োজনের দেখা মিলবে মেঘলায়। সাপারি পার্ক ও চিড়িয়াখানায় সখ্য গড়ে তুলতে পারেন চিত্রা হরিণ, মায়াবী হরিণ কিংবা বানরগুলোর সাথে। বয়সের কথা ভুলে চড়ে বসতে পারেন এক্সপ্রেস ট্রেনেও। যেতে যেতে দেখবেন নৈস্বর্গিক শোভা। সময়টা দারুণ কাটবে। কাছেই পাবেন রোপওয়ের প্লাট ফরম। চড়ে বসলেই শূন্য ভাষার মজা পাবেন। রোপওয়ের কেবিন আপনাকে নিয়ে যাবে লেকের এপার থেকে ওপার। পুরো লেকটা দেখার আলাদা মজা পাবেন। এছাড়া বোটে চড়ে নৌ-বিহার ভ্রমণেও যেতে পারেন। এখনে রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে রেস্ট হাউজ। এ ছাড়া কমপ্লেক্সে ছোট্ট পরিসরে গড়ে তোলা চা বাগান। মেঘলা পর্যটন স্পটের চারিদিকে রয়েছে ছোট ছোট গোলঘর এবং ঘুরে বেড়ানোর জন্য সরু রাস্তা। সব মিলিয়ে মেঘলা পর্যটন স্পটটি অপূর্ব।

স্বর্ণ মন্দির

অনেক দূর থেকে নজর কাড়ে স্বর্ণ মন্দিরের সোনালী রংঙের চূড়া। মূল রাস্তা থেকে ২০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় দীপ্তি ছড়ানো স্বর্ণ মন্দিরের আসল নাম মহাসুখ প্রার্থনা পূরক বৌদ্ধধাতু জাদী। এ জাদীর নির্মাণ শৈলী যেমন আলাদা, তেমনি দেখতেও খুব সুন্দর। জাদীটির চারপাশ ঘিরে ভিন্ন মোর্চায় রয়েছে ২৮টি বৌদ্ধ মূর্তি। জাদী প্রাঙ্গনে প্রার্থনার ক্ষণ ঘোষণা করে অষ্ট ধাতুর ঘণ্টা। ১২৩টি সিঁড়ি বেঁয়ে উঠতে হয় বৌদ্ধজাদীতে। মিয়ানমার, শ্রীলংকাসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে আনা শ্রমিক এবং শিল্পীরা নির্মাণ করেছেন এই বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদী। এটি নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় এক বছর। জাদিতে বেশিরভাগ মূর্তি আনা হয়েছে শ্রীলংকা, চীন, মিয়ানমার, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। প্রতি বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বৌদ্ধ ধাতু জাদী এলাকায় বসে মেলা। সপ্তাহ এবং মাসব্যাপী চলে এই বৌদ্ধ ধাতু জাদী মেলা। গত বছর বৌদ্ধধাতু মন্দিরে পর্যটকদের পরিদর্শন নিষিদ্ধ করে রেখেছিল পরিচালনা কমিটি। পর্যটকরা বৌদ্ধ মূর্তির অসম্মান, পূজারার জিনিষপত্র ফেলে দেয়া এবং জুতা পায়ে প্রবেশ ও নিরাপত্তার অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়। পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রচেষ্টায় পর্যটকদের দর্শনের সুযোগ আসে মন্দিরটি।

প্রান্তিক লেক

চারিদিকে পাহাড় একপাশে বাঁধ দিয়ে করা হয়েছে বিশাল লেক, এটির নাম প্রান্তিক লেক। প্রায় ৫ একর জায়গা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে লেকটি। এটিও বান্দরবান জেলা প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হয়। শহর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে; বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কের হলুদিয়ার কয়েক কিলোমিটার সামনে গেলে পাহাড়ি পথ বেয়ে প্রান্তিক লেকের অবস্থান। লেকের চারিপাশে রয়েছে নানা প্রজাতির গাছগাছালি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা পাখির কিচিমিচির শব্দ মুগ্ধ করবে আপনাকে। পর্যটন স্পট হিসেবে প্রন্তিক লেক দৃষ্টিনন্দন। এখানে আছে ওয়াচ টাওয়ার, পর্যটকরা যেখানে বিশ্রাম নেয়। এখানে চলচ্চিত্র এবং নাটকের শুটিং হয় সব সময়।

ন্যাচারাল পার্ক

ব্যক্তি মালিকানায় প্রায় ৪০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ন্যাচারাল পার্ক। এখানে নানা জাতের ফলদ, বনজ ও ভেজষ উদ্ভিদে ভরপুর। বান্দরবান-কেরানিরহাট সড়কের হলুদিয়া এলাকায় পার্কটি অবস্থিত। আর জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। চা বাগান ন্যাচারাল পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুণে। মেঠো পথ বেয়ে যেতে যেতে দেখবেন বনাঞ্চলের ভিতরে রয়েছে মাচাংঘর। সৌদর্য ও পর্যটকদের বিশ্রামের সুবিধার্থে তৈরি করা হয়েছে মাচাংঘর। বিভিন্ন উদ্ভিদের সাথে পরিচিতি হওয়া এবং মনোরম ও প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিবার পরিজনদের সাথে সময় কাটানোর আর্দশ স্থান এটি।

কীভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে সরাসরি এসি-ননএসসি বাসে আসতে পারবেন বান্দরবান। ঢাকার ফকিরাপুল, গাবতলী, সায়দাবাদ, আরামবাগ, আব্দুল্লাহ পুর, গাজীপুর থেকে সরাসরি শ্যামলী, ইউনিক, সৌদিয়া, এস আলম, সেন্টমার্টিন এসি-ননএসসি বাসে আসতে পারেন। ননএসি ৬২০ টাকা, ইকোনোমিক এসি ৯৫০ আর বিসনেস এসি বাসে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ১৫০০ টাকা।

চট্টগ্রাম হয়ে বান্দরবান আসতে হলে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে আসতে হবে। এখান থেকে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে আপনি পাচ্ছেন পূরবী-পূর্বাণী নামে দুটি বাস সার্ভিস। সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টা। এছাড়া কক্সবাজার থেকেও বান্দরবানে আসার জন্যও পূরবী-পূর্বাণী নামে দু’টি বাস সার্ভিস চালু রয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের কেরানিহাট রাস্তার মোড় থেকে বান্দরবান-কেরেনিরহাট বাস পাওয়া যায়।
থাকবেন কোথায়: জেলা শহরে আবাসিক হোটেল ও অবকাশ যাপন কেন্দ্র রয়েছে।

ফোনে এসব হোটেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। মেঘলা পর্যটন মোটেল: ০৩৬১-৬২৭৪১-৪২, হলিডে ইন: ০৩৬১-৬২৮৯৬, হোটেল প্লাজা: ০৩৬১-৬৩২৫২, হোটেল পূরবী: ০৩৬১-৬২৫৩১, ০১৫৫৬৭৪২৪৩৪, হোটেল ফোর স্টার: ০৩৬১-৬২৪৬৬, হোটেল হিলবার্ড: ০৩৬১-৬২৪৪১, ০১৮২৩৩৪৬৩৮২, হোটেল গ্রিন হাউস: ০১৫৫৮৪৪৯৫৬২। শহরের বাইরে একেবারে প্রকৃতির মাঝে থাকতে চাইলে হিলসাইড রিসোর্ট: ০১৫৫৬৫৩৯০২২, ০১৭৩০০৪৫০৮৩, ০১৭১৩১৮৯৬৯৫। এছাড়াও নিরাপত্তাবাহিনী পরিচালিত নীলগিরি রিসোর্টে থাকতে চাইলে ফোন করতে পারেন ০১৭৬৯২৯৯৯৯৯ এই নম্বরে।

 

সূত্র: পাক্ষিক পার্বত্যনিউজ, বর্ষ ১, সংখ্যা ২ ও ৩।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *