পার্বত্য বাঙালী সংগঠনসমূহের অনৈক্য, সমস্যা, সঙ্কট ও করণীয় বিষয়ক পর্যালোচনা


পারভেজ হায়দার:
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী বাঙালি। তুলনামূলকভাবে সামাজিক, অর্থনৈতিক এমনকি সার্বিকভাবে পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ গুচ্ছগ্রামসমূহে কষ্টকর জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে সরকারী সিদ্ধান্তে। এই সিদ্ধান্ত সঠিক না ভুল ছিলো তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। গুচ্ছগ্রামে রয়েছে শিক্ষার অভাব, কর্মসংস্থানের অভাব আর রয়েছে সীমাহীন দারিদ্রতা। যারা গুচ্ছগ্রামের বাইরে অবস্থান করছে তারাও সরকারী নানা বৈষম্যমূলক আইনের ও সুবিধার কারণে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত হয়েছে বলে তাদের দাবী।

পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতিদের চারটি আঞ্চলিক সংগঠনসমূহের মধ্যে আন্তঃকলহ থাকলেও ভূমি অধিকারসহ অন্যান্য জাতিগত দাবী ও প্রাপ্তির প্রশ্নে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের ঐক্যমত রয়েছে। উপজাতি আঞ্চলিক সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দের অনেকেই জাতীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও পাহাড়ীদের জাতিগত স্বার্থের প্রয়োজনে তারা গুরুত্ব সহকারে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে অংশগ্রহণ করে থাকেন। পক্ষান্তরে পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক বাঙালি সংগঠনসমুহ যেমন: পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, সমধিকার আন্দোলন, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ, বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ ইত্যাদির নেতৃত্বে সমন্বয়হীনতা দৃশ্যমান। জাতীয় রাজনীতির সাথে জড়িত পার্বত্য বাঙালি নেতৃবৃন্দ বাঙালী অধিকার ও দাবীর বিষয়ে উদাসীন ও উপেক্ষা করে চলেন।

এ সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তঃদলীয় ও অর্ন্তদলীয় কোন্দল। এই দলগুলোর নেতৃবৃন্দ ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেবার কারণে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী উপজাতি ও বাঙালি ব্যক্তিবর্গের লেজুরবৃত্তির কারণে তারা তাদের মূল উদ্দেশ্য ও কার্যপরিধি থেকে দূরে সরে গেছেন। ক্ষমতা ও সুবিধাসমুহ কুক্ষিগত করার প্রবণতা দৃশ্যমান। বাঙালি এই দলসমূহের কর্মকাণ্ড অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অগোছালো। রয়েছে ধারাবাহিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অভাব। সম্ভবত তাদের নেতৃত্বে সুশিক্ষিত ও মেধাবী ব্যক্তিবর্গের অনুপস্থিতি থাকায় স্বার্থন্বেষী মহল সহজেই তাদেরকে অপব্যবহার করতে পারে। কোন একটি কর্মকাণ্ডে/সিদ্ধান্তে সুদূরপ্রসারী ফলাফল সম্পর্কে পূর্ব অনুধাবন করতে সক্ষম না হওয়ায় বাঙ্গালী নেতৃবৃন্দের কর্মকাণ্ড বিভিন্ন সময়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

কোন কোন ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের কাছে মনে হয় তারা কোন বড় রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, আবার কোন কোন ক্ষেত্রে মনে হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রভাবশালী পরিবারসমূহের ইচ্ছা পূরণ করছে। ফলশ্রুতিতে বাঙালিভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠনগুলো একদিকে সাধারণ জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। অন্যদিকে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্ধেক জনগোষ্ঠী বাঙালি ভবিষ্যতে তাদের ভূমির অধিকারসহ মৌলিক নাগরিক অধিকারগুলো সুরক্ষার বিষয়ে ন্যায্য দাবীসমূহ কার্যকরীভাবে উপস্থাপন করার আন্দোলনের নেতৃত্ব খুঁজে পাবে না।

যেকোন দলই নির্দিষ্ট কোন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সুচিন্তিত গবেষণার মাধ্যমে কর্মপন্থা ও কর্মপরিধি সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করে থাকে। এই কর্মপন্থার মধ্যে নেতৃত্ব নির্বাচন পদ্ধতি, বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের প্রক্রিয়া, নতুন সদস্য নিয়োগের পদ্ধতি, সদস্যদের কর্মকাণ্ডের সীমারেখা, জবাবদিহিতা, আয়ের উৎস, ব্যয়ের জন্য নির্দিষ্ট খাতসমূহ, ব্যয়ের সঠিকতা নির্ধারণের জন্য আলাদা কমিটি ইত্যাদি বিষয়গুলো নূন্যতমভাবে থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু বাঙালি ভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠনসমূহের অপরিকল্পিত ও অগোছালো কর্মকাণ্ডসমূহ পর্যালোচনা করলে পার্টির শৃঙ্খলাজনিত বিষয়গুলোর অনুপস্থিতি অনুধাবন করা যায়।

বাঙালিভিত্তিক দলসমূহের মেধাবী নেতৃত্বের স্বল্পতা ও শৃঙ্খলার অভাব এবং সর্বোপরি অর্থনৈতিক দূরবস্থা ও স্বচ্ছতার কারণে তাদের প্রভাবশালী কোন দল বা ব্যক্তিদের উপর নির্ভর করতে হয়। তাদের এই দূর্বলতা সাধারণ জনগনের কাছেও দৃশ্যমান হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তারা বাঙালি স্বার্থের প্রশ্নে অনেক ন্যায্য দাবীও কার্যকরীভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়।

বর্তমান সময়ে একটি সংগঠনের কয়েকটি বিষয়ে একান্তভাবে পরিপূর্ণতা থাকা আবশ্যক। যেমনঃ দলীয় মূলনীতি ও কার্যপরিধি, শৃঙ্খলা, দলীয় অর্থনীতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়ায় প্রচারণার জন্য মেধাবী কর্মী এবং ন্যায্য দাবী সমূহের আইনগত ও কার্যকরীভাবে উপস্থাপনের জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সক্রিয় কর্মী, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার জন্য প্রশিক্ষণ, গবেষণা, বুদ্ধিজীবীদের সাথে সমন্বয় ইত্যাদি। এ বিষয়গুলোর ঘাটতি থাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক বাঙালি সংগঠনসমূহ তাদের দাবী প্রতিষ্ঠায় ও প্রতিপক্ষের মোকাবেলায় তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলশ্রুতিতে সাধারণ অসহায় বাঙালি জনগোষ্ঠী ব্যপকভাবে অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি জেলার বাবুছড়ার নিকটস্থ সোনামিয়া টিলায় ৮১২ বাঙালি পরিবারের নিকট সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তারা নিজ জমিতে যেতে পারছে না। তারা কয়েক পুরুষ ধরে গুচ্ছগ্রামসমূহে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছে। শিক্ষার অভাব ও বেকারত্বের কারণে গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত বাঙ্গালীরা বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। সমাজে অবৈধ মাদক চোরাচালানের স্থানান্তর, আঞ্চলিক উপজাতি দল সমূহের অস্ত্র ও গোলাবারুদ এক স্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তর, পাহাড়ী দলগুলোর জন্য অবৈধ চাঁদা উত্তোলনে সহায়তা এবং তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া, এমনকি নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচল সম্পর্কিত তথ্য উপজাতি আঞ্চলিক দলসমূহের সশস্ত্র দলের নিকট পৌঁছে দেওয়ার কাজেও বাঙালিরা ব্যবহৃত হচ্ছে।

কিন্তু ৮১২ বাঙালি পরিবারের এই জমি আইনগতভাবে পূনরুদ্ধারে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বাঙালিভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠনসমূহ উল্লেখযোগ্য কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সমর্থ হয়নি। তারা তাদের কর্মসূচী কয়েকটি মানববন্ধন ও মিছিলের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ রেখেছে। অথচ এই বিষয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্ন ধারাবাহিক কর্মসূচীর পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপও গ্রহণ করা যেতে পারত। প্রশাসন সাম্প্রদায়িক সংঘাত এড়াতে বাঙালি পরিবারসমূহকে সোনামিয়া টিলায় যেতে বাঁধা দিচ্ছে বলে জনশ্রুতি আছে।

অথচ বাঙালিদের নিকট যদি সরকার প্রদত্ত সঠিক কাগজপত্র থাকে তাহলে বাঙালি নেতৃবৃন্দ প্রশাসন এবং আদালতের কাছে তাদের জমির দখল বুঝিয়ে দেবার ব্যবস্থা করার জন্য আবেদন করতে পারে এবং একই সাথে যেহেতু সাম্প্রদায়িক সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে সেহেতু আদালতের কাছে বাঙালি নেতৃবৃন্দ নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করতে পারে। আদালতের নির্দেশক্রমে জেলা প্রশাসন তখন পাহাড়ী-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনাক্রমে জমির কাগজপত্রের সঠিকতা বিশ্লেষণ করে ন্যায্যভাবে প্রাপ্য ব্যক্তিদের কাছে জমির দখল বুঝিয়ে দিতে পারে। আইগত পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করার পরেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নিলে বাঙালিরা তাদের অধিকার আদায়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাসমূহে সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করতে পারে। এছাড়াও বাঙালি অধিকার আদায়ে মেধা সম্পন্ন কর্মী/ব্লগারগণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহার করে আশানুরূপ ফলাফল নিয়ে আসতে পারে।

বাবুছড়ার সোনামিয়া টিলা ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বাঙালিদের রয়েছে অবহেলা, বঞ্চনা ও অধিকার হারানোর ঘটনা। রামগড়ে গত দুই বছরে অন্তত আট-নয়টি স্থানে ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে বাঙালিরা অধিকার বঞ্চিত হয়েছে। ইউপিডিএফ (প্রসীত পন্থী) দলের সন্ত্রাসীগণ জোরপূর্বক বাঙালিদের জমি দখল করে বিভিন্ন স্থান থেকে পাহাড়ীদের এনে পুনর্বাসিত করেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে বাঙালিদের জমি অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী করেছে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে পাহাড়ী বাঙালিদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘাত হয়েছে এমন অপপ্রচার করে এবং উল্লিখিত বিষয়ে বাঙালিদের এককভাবে দায়ী করে আঞ্চলিক উপজাতি সংগঠনসমূহের অনুগত ব্লগারগণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার করেছে। এ বিষয়ে বাঙালি সংগঠনসমূহ কার্যকর ভুমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো বাঙালি যখন উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা খুন, অপহরণসহ নিপীড়নের শিকার হয়, তখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাঙালি সংগঠনসমূহ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে থাকে। কিন্তু এই প্রতিক্রিয়ার কোনো ধারাবাহিকতা থাকে না। উদাহরণ স্বরূপ মাটিরাঙার তিন বাঙালি অপহরণের কথা বলা যায়। এ নিয়ে বাঙালি সংগঠনসমূহ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখালেও পরবর্তীতে তার কোনো ফলোআপ দেখা যায়নি। এমনকি অপহৃত বাঙালি পরিবারগুলোর দুর্দশার পাশেও দাঁড়ায়নি তারা। একইভাবে নয়ন, সাদিকুলসহ অসংখ্য নিহত, নির্যাতিত বাঙালির ঘটনাগুলো ধারাবাহিকতার অভাবে হারিয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে একটি বিষয় না উল্লেখ না করলেই নয়, উপজাতি আঞ্চলিক সংগঠনসমূহ ‌’কল্পনা চাকমা’ ইস্যুটি দেশে-বিদেশে তথা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপকভাবে প্রচার করে এটিকে দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার বিষয় হিসাবে দাঁড় করতে সমর্থ হয়েছে। এছাড়াও নারী এবং ভূমি সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে উপজাতি সংগঠনগুলো এমন হৃদয়স্পর্শী এবং আকর্ষণমূলকভাবে উপস্থাপন করে প্রচারণা করে যে, তা সহজেই দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সাধারণ মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়। পক্ষান্তরে বাঙালি ভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠনগুলো মেধাবী নেতৃত্ব, কর্মী ও মিডিয়া এবং ব্লগারদের অপ্রতুলতা থাকায় এ বিষয়ে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করার মত ক্ষেত্র এখনও গড়ে তুলতে পারেনি।

রাঙামাটির ভুষণছড়ায় ব্যাপকহারে বাঙালি গণহত্যা, আঠারো বাঙ্গালী কাঠুরিয়া হত্যা এবং অগণিত নিরীহ বাঙ্গালী হত্যার ঘটনাগুলো আজও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রচার পায় নি।
সামগ্রিকভাবে বিষয়টি পরিষ্কার যে, ন্যায্য ইস্যু থাকা সত্ত্বেও বাঙালিভিত্তিক সংগঠনগুলো উপজাতি সংগঠনগুলোর মত কোন ক্ষেত্রেই কার্যকরীভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। তবে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলা সদরের কিছু কিছু বিষয়ে বাঙালি নেতৃবৃন্দের পদচারণা দেখা গেলেও উপজেলা ভিত্তিক সংশ্লিষ্ট বিষয়, যেমনঃ রামগড়ের ঘটনাবলীর বিষয়ে আঞ্চলিক বাঙালি সংগঠনসমূহকে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য তেমন কোন ভুমিকা নিতে দেখা যায়নি।

ফলশ্রুতিতে রামগড়ের সাধারণ বাঙালিরা বাধ্য হয়ে তাদের ভুমি অধিকার রক্ষার দাবীসমূহ হাতে লেখা পোষ্টারে প্রচার করতে বাধ্য হয়েছে। অথচ বাঙালিদের এ ন্যায্য দাবীর বিষয়ে বাঙালিভিত্তিক আঞ্চলিক দলসমূহ কার্যকরীভাবে সোচ্চার হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা জাতীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে ব্যপকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হত। এদিকে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে পার্বত্য বাঙালি সংগঠনের কিছু তৎপরতা চোখে পড়লেও বান্দরবানে তা দৃশ্যমান নেই বললেই চলে।

একটি দলের সুশৃঙ্খল এবং পেশাদার আচরণ, যৌক্তিক ও তথ্য সমৃদ্ধ দাবী সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করে। সংগঠনের নেতাদের ব্যক্তিগত আচরণ সাধারণ জনগণ ও কর্মীদের কাছে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে। নেতা যখন কোন নির্দিষ্ট দলের কিংবা কোন প্রভাবশালী পরিবারের লেজুরবৃত্তি করতে গিয়ে স্বার্থন্বেষী আচরণ করে তখন সাধারণ জনগণের কাছে তারা তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি সংগঠনসমূহে সার্বজনীন হতে না পারার প্রধান কারণ পরিবার, অাঞ্চলিকতা ও দলীয় স্বার্থের উর্দ্ধে উঠতে না পারা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ অসহায় বাঙালিদের ন্যায্য দাবীর বাস্তাবায়ন রাষ্ট্রের স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরী। দারিদ্রতা ও বেকারত্বের মাঝে বেড়ে ওঠা এই বিশাল বাঙালি জনগোষ্ঠীকে সঠিকভাবে পরিচালিত করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের জাতিগত অস্তিত্বের প্রশ্নে এবং দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার মত কার্যকরী ও মেধাবী জনগোষ্ঠী সৃষ্টিতে প্রশাসনের পাশাপাশি বাঙালি আঞ্চলিক সংগঠনসমূহকে জোরালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর এই দায়িত্ব পালনে আঞ্চলিক বাঙালি সংগঠনসমূহের মধ্যে সংস্কার, পূনর্গঠন ও আত্নসমালোচনার ভিত্তিতে সমাধানকরণ এখন সময়ের দাবী।

♦ পারভেজ হায়দার: কলামিস্ট ও গবেষক


পারভেজ হায়দারের আরো লেখা:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *