পার্বত্য চুক্তিবিরোধী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফের কাছে অসহায় খাগড়াছড়ি পুলিশ!


পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ও পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউনাইটেড পিপল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) প্রসিত গ্রুপ এর কাছে যেন অসহায় হয়ে পড়েছে খাগড়াছড়ির পুলিশ। সারাদেশে জঙ্গি সহ বিভিন্ন অপরাধীদের শক্ত হাতে দমন করলেও পার্বত্য এ অঞ্চলে কর্মরত পুলিশ বাহিনী ইউপিডিএফের কাছে কার্যত ব্যর্থ । পুলিশের সামনে মামলার এজাহারভুক্ত ইউপিডিএফ কর্মীরা দেশ বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকলেও পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারছে না আসামিদের। যার ফলে ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে এ সঙ্গঠনের কর্মীরা। খুন, গুম, চাঁদাবাজি, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ছে তারা।

সাম্প্রতিক সময়ে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি থেকে রবি-এয়ারটেল কোম্পানির চার জন ও রামগড়ের পাতাছড়া থেকে এক জনকে ইউপিডিএফ কর্মীরা অপহরণ করেছে এমন অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের প্রতিবাদে গত ৯ মার্চ খাগড়াছড়ি শহরে পার্বত্যবাসীর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন। সমাবেশ থেকে অপহরণ হওয়াদের উদ্ধারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়, ব্যর্থ হলে সড়কপথ অবরোধ করার ঘোষণাও করা হয়।

গত ৭ মার্চ জেলা সদরের স্বনির্ভর এলাকায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে ইউপিডিএফ (প্রসিত) ও ইউপিডিএফ (বর্মা) গ্রুপ। পাল্টাপাল্টি দুই গ্রুপের কর্মসূচি থাকায় সংঘর্ষের আশংকায় টহল দেয় পুলিশ। ইউপিডিএফের কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার অজুহাতে টহল পুলিশের উপর হামলা করে ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপের কর্মীরা। এসময় পুলিশের এক এসআই সহ আহত হয় পাঁচ পুলিশ। টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায় পুলিশ। পরবর্তিতে কয়েক ঘণ্টা খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করে ইউপিডিএফ।

পুলিশের উপর হামলা ও রাষ্ট্রীয় কাজে বাধার অভিযোগে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ ১৩৪ জনকে আসামি করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা করে পুলিশ। পুলিশের উপর হামলা মামলায় এজাহার ভুক্ত আসামি পিসিপির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরাসহ কয়েকজন শনিবার (১০ মার্চ) জেলা সদরের স্বনির্ভর বাজারে ইউপিডিএফের দেশ বিরোধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ স্থলে পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

শনিবার (১০ মার্চ) পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দিবস পালন উপলক্ষে খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভর এলাকায় ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপের তিন সংগঠনের সমাবেশে পুলিশের উপর হামলা মামলায় এজাহার ভুক্ত আসামি পিসিপির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরাসহ কয়েকজন প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলেও পুলিশ কেন তাদের গ্রেপ্তার করেনি জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান পার্বত্যনিউজকে মুঠোফোনে জানান, ‘আমি সেখানে ছিলাম না। আর আসামিরা সেখানে ছিল কিনা সেটাও জানি না।’ তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নেবেন বলেও জানান।

খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আলী আহাম্মদ খান পার্বত্যনিউজকে মুঠোফোনে জানান, ‘সমাবেশস্থলে নারী ও শিশুরাও ছিল। তাই বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করেই পুলিশ স্বনির্ভর এলাকার সমাবেশস্থল থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি’। দেশের অন্যান্য স্থানে জঙ্গি, সন্ত্রাসী কিংবা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের সময় সেখানে নারী ও শিশুরা উপস্থিত থাকার বিষয়টি বিবেচনা করা হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানকার প্রেক্ষাপট আলাদা’।

অন্যদিকে মানিকছড়ি থেকে রবি-এয়ারটেল কোম্পানির চার জন ও রামগড়ের পাতাছড়া থেকে এক জনকে ইউপিডিএফ কর্মীরা অপহরণ করার অভিযোগ সম্পর্কে বলেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার বলেন, ‘এব্যাপারে তদন্ত চলছে। আশা করি, দ্রুতই খোঁজ পাওয়া যাবে।’

প্রসঙ্গত, ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি দ্বিতীয়া চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পলাশ চাকমার (৯ মার্চ ২০১৮) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দিবস সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৭ সালের ১০ মার্চ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরাকার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতির মধ্যে তথাকথিত শান্তি চুক্তির নামে পর্দার অন্তরালে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু হলে বিতর্কীত ‘পার্বত্য চুক্তি’র ৯ মাস আগে তৎকালীন তিন গণতান্ত্রিক সংগঠন (পিজিপি-পিসিপি-এইচডব্লিউএফ)-এর পক্ষ থেকে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের ডাক দেয়া হয়। তাই ১০ মার্চকে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দিবস হিসেবে পালন করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *