পাহাড় ধসের ১৩ কারণ ও তার প্রতিকার


 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

১৩টি কারণে পার্বত্য অঞ্চলে সাম্প্রতিক পাহাড়ধস ঘটেছে বলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কারণগুলোর মধ্যে আটটি মানবসৃষ্ট কারণ এবং পাঁচটি কারণ প্রাকৃতিক। পাহাড় ধস ঠেকাতে এই তদন্ত কমিটি  ১১টি সুপারিশ করেছে।

গত জুনের মাঝামাঝি চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে অন্তত ১২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এই খবর এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ জুলাই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে  প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

এই কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাহাড় ধসের মানবসৃষ্ট কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হলো- নির্বিচারে বন ও গাছপালা ধ্বংস করা। পরিকল্পনার অভাব আরেকটি মূল কারণ। এছাড়াও আছে অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন, রাস্তা ও সড়ক নির্মাণ এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক স্থাপনা নির্মাণে বিল্ডিং কোড না মানা। উন্নয়নমূলক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও আরেকটি মূল কারণ। তাছাড়াও অঅছে পাহাড়ে উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাব। মাটি পরীক্ষার ফলাফল যথাযথভাবে অনুসরণ না করে পুরোনো অ্যালাইনমেন্টের ওপর কাজ করাও আরেকটি কারণ।

এছাড়া অপরিকল্পিত জুমচাষও পাহাড় ধসের কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। জুমচাষে আগাছানাশক ওষুধ ব্যবহার করার ফলে পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে যায়। এ ছাড়া পাহাড়ের পরিবেশ-প্রতিবেশ অনুযায়ী ফসলাদি চাষ না করে আদা, হলুদের চাষ করায় প্রচুর মাটি ক্ষয় হয়।

মানবসৃষ্ট অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে পাহাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ না লাগিয়ে বেশি লাভের আশায় অধিক হারে সেগুনগাছ লাগানো।

তাছাড়া, পানি নিষ্কাশনের সুযোগ না রেখে উন্নয়নমূলক কাজ করা। পাহাড় থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন করাও বড় কারণ।

মন্ত্রণালয়ের তদন্তে পাহাড় ধসের প্রাকিতিক কারণ হিসাবে পাঁচটি  কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। কারণগুলো হলো, অতিবৃষ্টি, রাঙ্গামাটিতে গত ১০ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে মাত্র এই সময়ে ৯৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়; যা গত ১০ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ডের প্রায় নয় গুণ বেশি।

আরেকটি প্রাকৃতিক কারণ হলো মাটির প্রকৃতি। ওই অঞ্চলের বেলে-দোআঁশ মাটি বৃষ্টির পানিতে সহজে নরম হয়ে যায়। এ ছাড়া দীর্ঘ খরার পর একটানা বৃষ্টি, ভূমিকম্পে পাহাড়ে ফাটল সৃষ্টি হওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পাহাড়ধসের পেছনে কাজ করেছে।

আলোচ্য প্রতিবেদনে পাহাড়ধস ঠেকাতে ১১টি সুপারিশ করা হয়। সেগুলো হলো,  প্রাকৃতিক বনভূমি সংরক্ষণ, নির্বিচারে গাছ ও বন কাটা বন্ধ, জুমচাষে আগাছানাশক ওষুধ ব্যবহার বন্ধ, ভূমিকম্প প্রতিরোধে তাল ও সুপারিগাছ লাগানো, পরিবেশ আইন মেনে পাহাড়ের উপযোগী অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা ইত্যাদি।

আশা করা যাচ্ছে উল্লেখিত ১১টি সুপারিশ মেনে চলা হলে পাহাড় ধস কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *