পার্বত্য চট্টগ্রাম তুমি কার?

%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%9a%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae

জি. মুনীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম। দেশের মোট ভূখণ্ডের এক-দশমাংশ এই পার্বত্য চট্টগ্রাম। তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান নিয়ে গঠিত পার্বত্য এলাকা। এ তিন জেলায় ১৬ লাখ লোকের বসবাস। এদের ৫১ শতাংশ পাহাড়ি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও ৪৯ শতাংশ বাঙালি জনগোষ্ঠীর বসবাস এই পার্বত্য চট্টগ্রামে। বরাবরের অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম।

একপর্যায়ে এই অশান্ত পার্বত্য জনপদে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে পাহাড়িদের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি’ নামে এই চুক্তি সমধিক পরিচিত। এই চুক্তিতে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ এই পার্বত্য এলাকার স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে বহু বছর ধরে ভারতের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সশস্ত্র আন্দোলন করে আসা জেএসএস তথা জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা। এ শান্তিচুক্তির ৭২টি দফার ৪৮টি ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর পরও অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের এখন পর্যন্ত শান্তি ফিরে আসেনি, বরং সময়ের সাথে এই অশান্ত পরিবেশ আরো তীব্র আকার ধারণ করছে।

শান্তিচুক্তির সূচনায় অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, কথিত এই শান্তিচুক্তি পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। কারণ, দীর্ঘ ২২ বছর আগে করা এই শান্তিচুক্তি শুরুতেই মেনে নেয়নি সেখানকার তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। বলা হয়, এ তিনটি গোষ্ঠীতে এখনো সক্রিয় রয়েছে প্রায় দুই হাজার সশস্ত্র সন্ত্রাসী। এরা সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় প্রতিষ্ঠা করতে চায় জুমল্যান্ড কিংবা স্বায়ত্তশাসিত সরকার। এই গোষ্ঠী তিনটি হচ্ছে- জনসংহতি সমিতি (জেএসএস- সন্তু), জনসংহতি সমিতি (সংস্কারবাদী) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।

এ কথা সত্য, পার্বত্য চট্টগামে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে ভূমিবিরোধ একটি বড় সমস্যা। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে শুরু করে এমনকি পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ আমলের এই তিন জেলায় কোনো ভূমি জরিপ হয়নি। অথচ ভূমির মালিকানা নির্ধারণের আগে মোট জমির পরিমাণ নির্ধারণ জরুরি ছিল। তা ছাড়া পাহাড়িরা মনে করে, তারাই এই তিন পার্বত্য জেলার আদিবাসী। অতএব এ এলাকার ভূমির মালিক তারাই। আর বাঙালিরা সেখানে পাহাড়িদের ভূমি জবরদখল করে নিয়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলের বিভিন্ন সরকারের আমলে। কিন্তু পাহাড়িরা সেখানকার আদিবাসী, এ দাবির ঐতিহাসিক সত্যতা নেই। বাংলাদেশের কোনো সরকার পাহাড়িদের এই দাবি স্বীকার করে না।

এ ধরনের দাবির প্রেক্ষাপটে বাঙালিদের পার্বত্য তিন জেলা থেকে উচ্ছেদ করে তাদের জমিজমা পাহাড়িদের মধ্যে বণ্টন করার অযৌক্তিক দাবিও মেনে নেয়নি এবং মেনে নিতে পারে না যথার্থ কারণেই। বরং বাংলাদেশ সরকার চায় এই তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি-বাঙালি একসাথে মিলেমিশে সেখানে বসবাস করুক। সেই লক্ষ্যেই ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত হয় শান্তিচুক্তি। এই চুক্তির ৪, ৫ ও ৬ ধারা অনুযায়ী ২০০১ সালের ১৭ জুলাই পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন পাস করা হয়। এই আইনের লক্ষ্য পূরণে গঠন করা হয় ‘পার্বত্য জেলাগুলোর ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন’।

আইন মতে, এই কমিশনের চেয়ারম্যান হবেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। কমিশনে থাকবেন আরো চারজন সদস্য : আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারমান অথবা তার পরিষদের মধ্য থেকে মনোনীত কোনো সদস্য, পদাধিকার বলে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পদাধিকার বলে সংশ্লিষ্ট সার্কেলের সার্কেল চিফ এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার অথবা তার মনোনীত একজন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার। সে অনুযায়ী একটি কমিশনও গঠন করা হয়। কিন্তু নানা কারণে এই কমিশন ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারেনি। ফলে সরকার নতুন করে গঠন করে এই কমিশন।

২০০৯ সালে সিদ্ধান্ত হয়, পার্বত্য জেলার ভূমি ব্যবস্থাপনা, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসনে কমিশনের উপস্থাপিত বা দাখিলকৃত তথ্য-উপাত্ত প্রচলিত আইন বিবেচনায় পার্বত্য জেলাধীন পাহাড় ও পানিতে ভাসা জমিসহ সমুদয় ভূমি (প্রযোজ্য আইনের অধীনে অধিগ্রহণকৃত ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পকারখানা এবং সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নামে রেকর্ডকৃত ভূমি ব্যতীত) মৌজাওয়ারি স্থানীয় জরিপকাজ পরিচালনার। ওই সময় সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সার্কেল চিফ ও আঞ্চলিক পরিষদ প্রতিনিধি কমিশনের সভা বর্জন করে এবং পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিষদ থেকে ২৩ দফা ও পরে সংশোধিত ১৩ দফা প্রস্তাব পাঠানো হয়।

এ দিকে পাহাড়িদের দাবির প্রেক্ষাপটে ২০১৬ সালের ১ জুলাই মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের একটি সংশোধনী গেজেট আকারে পাস হয়ে একই বছরের ৬ অক্টোবর জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই সংশোধনীর ব্যাপারে পাহাড়িরা সন্তুষ্ট হলেও বাঙালিরা এ সংশোধনীতে নাখোশ। এ সংশোধনী অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে কমিশনের চেয়ারম্যান করে সংশ্লিষ্ট সার্কেল চিফ বা তার মনোনীত প্রতিনিধি, আঞ্চলিক পরিষদের চিফ বা তার মনোনীত প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার বা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নিয়ে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন নতুন করে পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে সার্কেল চিফ বা তার প্রতিনিধি, আঞ্চলিক পরিষদ প্রধান বা তার প্রতিনিধি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বা তার প্রতিনিধিরা উপজাতীয় সদস্য হবেন। চেয়ারম্যান বা সদস্যসচিব সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে বাঙালি বা পাহাড়ি যে কেউ হতে পারেন।

কিন্তু লক্ষণীয়, যেখানে ভূমি বিরোধের বিষয়টিতে বাঙালিরা একটি পক্ষ, সেখানে এই কমিশনে বাঙালিদের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এ ছাড়া কমিশনের বিচারিক আইনে উপজাতীয়দের সামাজিক আইনপ্রথা, রীতি ও পদ্ধতিকে নির্ধারণ করায়, তা বাঙালিদের বিরুদ্ধে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের, বিশেষ করে পুনর্বাসিত বাঙালিদের সরকারি খাস জমিতে পুনর্বাসিত করায় সেখানে উপজাতীয় সামাজিক রীতি গণ্য করা হয়নি। এতে বাঙালিদের পক্ষ থেকে সঠিক বিচার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে বাঙালিদের দাবি। অন্য দিকে কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ না থাকায়, এই কমিশনের আওতায় চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাঙালিরাই।

ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনী প্রশ্নে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি নেতাদের বক্তব্য হচ্ছে- সংশোধনীতে ৬(গ) ধারায় ‘ভূমি’র পরিবর্তে ‘যেকোনো ভূমি’ শব্দগুলো জুড়ে দেয়ায় তিন পার্বত্য জেলার যেকোনো ভূমি বা জমি পাহাড়িরা নিজের দাবি করে ভূমি কমিশনে আবেদন করতে পারবে। এর পর কমিশন বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবাদে দাবি করা ভূমি উপজাতিদের নামে নামজারি করতে পারবে। এতে এক দিকে যেমন সরকারের এখতিয়ার খর্ব হবে, তেমনি তিন পার্বত্য জেলায় বাঙালিরা ভূমিহীন হতে বাধ্য হবে।

কারণ, কমিশনের গঠন কাঠামো অনুযায়ী ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন বরাবর হবে উপজাতি সংখ্যাগরিষ্ঠ। তা ছাড়া পার্বত্য ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের ‘ঘ’ অনুচ্ছেদের ৪-এ বলা হয়েছে- ‘গঠিত ভূমি কমিশন পুনর্বাসিত শরণার্থীদের জায়গা-জমির বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তিসহ এযাবৎ যেসব ভূমি ও পাহাড় অবৈধভাবে বন্দোবস্ত ও বেদখল হয়েছে, সেসব পাহাড় ও জমির মালিকানার স্বত্ব বাতিলে পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। এখানে ভারত থেকে প্রত্যাগত ১২ হাজার ২২২টি উপজাতি পরিবারকে পুনর্বাসনের কথা বলা হয়েছে।

এসব প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধিকে বলেন, উপজাতিদের দাবি অনুযায়ী সব দফা বাস্তবায়ন করা হলে পার্বত্যাঞ্চল আর বাংলাদেশের থাকবে না। কারণ, তাদের হাতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বন বিভাগ চলে যাবে। এখান থেকে সব নিরাপত্তা সংস্থার লোকজন চলে যেতে হবে। এসি ল্যান্ড চলে যাবে। এসব যদি চলে যায়, দেশের এক-দশমাংশের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব থাকবে না। উপজাতি নেতারা সরকারের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করেছেন, যাতে এরা স্বায়ত্তশাসন পায়। কিন্তু ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির কোথাও স্বায়ত্তশাসনের কথাটি উল্লেখ পর্যন্ত নেই। অতএব উপজাতিদের স্বায়ত্তশাসনের দাবি অযৌক্তিক।

বাঙালি নেতারা আরো বলেন, মন্ত্রিসভা যে ছয়টি সংশোধনী প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়, সে সম্পর্কে পাহাড়ি ও বাঙালি কারো কোনো ধরণা নেই। পাহাড়িদের রীতিনীতি ও উল্লিখিত সংশোধনী মতে কাজ করলে, এই পার্বত্য জেলায় বসবাসকারী বাঙালিরা ভিটেমাটি-ছাড়া হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্য মতে, কার্যত ঘটছেও তাই। পত্রিকাটি জানিয়েছে- মুখের কথায় এখন পার্বত্য চট্টগ্রামে জমির মালিক বনে যাচ্ছে উপজাতিরা। আর সরকারি বরাদ্দ পেয়েও ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে বাঙালিরা। উপজাতিদের জমির মালিকানার স্বীকৃতি দিচ্ছেন সেখানকার কারবারি ও হেডম্যানরা। ফলে সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া জমি হারিয়ে ভূমিহীনে পরিণত হচ্ছে সেখানকার বাঙালিরা। নতুন করে ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি আইন সংশোধন করে সেখানকার আঞ্চলিক প্রথা ও পদ্ধতি অনুযায়ী সেখানকার ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি করার বিধান করায় এ পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করেছে।

পার্বত্য তিন জেলা সরেজমিন ঘুরে এসে এই দৈনিকটি জানিয়েছে- পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমির সিএস সার্ভে হয়নি। ওই এলাকার পুরো জমির মালিকানাই সরকারের। অষ্টাদশ শতাব্দীতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে আশ্রয় নেয় এসব উপজাতি। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার তাদেরকে সেখানে পুনর্বাসন করেন। তখন মুখের কথার মাধ্যমে বিভিন্ন জমি উপজাতিদের বসবাস ও চাষাবাদ করার জন্য দেয়া হয়েছিল।

আজ তাদের সেই জমির মালিকানার পক্ষে প্রমাণপত্রও দিচ্ছে সেখানকার কারবারি বা হেডম্যানরা। অপর দিকে সরকারের বরাদ্দ দেয়া জমি থেকে উচ্ছেদ করেছে উপজাতি সন্ত্রাসীরা। এরা এরই মধ্যে কোনো কোনো এলাকার বাঙালিদের বাড়ি ও জমি দখল করে নিয়েছে। এ ধরনের অনেক বাঙালি পরিবারকে সরকার গুচ্ছগ্রামে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেয়। যাদের জীবনযাপন চলে সরকারের দেয়া রেশনের ওপর নির্ভর করে।

আরেকটি জাতীয় দৈনিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে- স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, ১৯৮১ সালে ৮৩২টি বাঙালি পরিবার পার্বত্য চট্টগ্রামে যায়। সরকারের তরফ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ৫ একর করে জায়গা দেয়া হয়। পরে উপজাতি সন্ত্রাসীদের হামলা ও ভয়ভীতিতে প্রায় সাড়ে ৩০০ পরিবার পালিয়ে যায়। এখন ৫০০ পরিবার বসবাস করছে সে এলাকায়। তারা বলেন, উপজাতিরা এখন যেভাবে প্রতিনিয়ত অত্যাচার করছে, তাতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আরেকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর মতে, সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছে পাহাড়ি জনগণ। চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ হারে চাঁদা চেয়ে সন্ত্রাসীরা চিঠি দিচ্ছে। প্রমাণস্বরূপ এই চিঠির একটি কপিও পত্রিকাটি প্রকাশ করেছে। সরেজমিন এই প্রতিবেদনে জানানো হয়- বাঙালি কিংবা উপজাতি সবাইকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে বাধ্য হয়। এমনকি কলা, মুরগি ও ডিম বিক্রি করলেও সেখান থেকে চাঁদা আদায় করছে সন্ত্রাসীরা। প্রকাশ্যে চিঠি দিয়ে চাকরিজীবীদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করছে এরা। পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের কাছে এসব চাঁদাবাজির ঘটনা সুস্পষ্ট হলেও এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।

২০১৬ সালের ১৩ জুলাই বান্দরবান জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে ওই জেলার জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক পার্বত্য জেলাগুলোর সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির চিত্র প্রকাশ্যে তুলে ধরে বলেন, ‘এখানে তিনটি গ্রুপ চাঁদা সংগ্রহ করে : জেএসএস (সন্তু), জেএসএস (সংস্কার) ও ইউপিডিএফ। বাসপ্রতি জেএসএসকে (দুই গ্রুপ) বছরে পাঁচ হাজার টাকা ও ইউপিডিএফকে তিন হাজার টাকা করে দিতে হয়। ট্রাকপ্রতি প্রতি গ্রুপকে ছয় হাজার টাকা করে এবং চাঁদের গাড়ি তিন হাজার, দুই হাজার ও দেড় হাজার টাকা হারে, এভাবে প্রতি সেক্টরে এমনকি ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ীকেও চাঁদা দিতে হয়।

অপর দিকে গোয়েন্দা সূত্রে যেসব খবর আসছে, তা আরো উদ্বেগজনক। ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে তিন সশস্ত্র গ্রুপ। চলছে অবাধ চাঁদাবাজিও। এদের টার্গেট জুমল্যান্ড বা স্বায়ত্তশাসন। এদের কাছে তিন পার্বত্য জেলার মানুষ এখন রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছে। আর সরকার একের পর এক উপজাতিদের দাবি-দাওয়া মেনে নিচ্ছে। তাতে করে এই পার্বত্য তিন জেলার ওপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ হারানোর উপক্রম হয়েছে। আমরা যদি এখন থেকে সচেতন পদক্ষেপ না নিই, তবে এক সময় দেশের এই এক-দশমাংশ ভূখণ্ড আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তখন কিছুই করার থাকবে না।

সূত্র: দৈনিক নয়াদিগন্ত