parbattanews bangladesh

পানিতে ভেসে গেছে রামগড়ের অর্ধকোটি টাকার উন্নয়ন কাজ

দুলাল হোসেন, খাগড়াছড়ি:
খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার জালিয়াপাড়া-ঢাকা সড়কের ঢাকাইয়া কলোনি ও দাতারামপাড়া রাস্তার মাথা নামক এলাকায় কোনরকম পরিকল্পনা ছাড়াই অপরিকল্পিত ভাবে পাহাড় কেটে রাস্তা সংস্কার করার কয়েকদিন  শেষ হতে না হতেই  বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে প্রায় অর্ধকোটি  টাকার উন্নয়ন কাজ।

সরকারী নিষেধ অমান্য করে রাস্তা সংস্কারের নামে পাহাড় কেটে মাটি দিয়ে রিটানিং ওয়াল নির্মান না করে মাটি ফেলে খাদ ভরাট  করে সওজ। কিন্তু সড়ক মেরামত তো দুরের কথা উপরন্তু রামগড়-ফেনী যাতায়াতের এ সড়কটি এখন মুত্যূকুপ। প্রতিদিন যাত্রী ও মালামাল বোঝাই যানবাহন গুলো মুত্যুকে আলিঙ্গ্ন করেই চলছে এ রাস্তা দিয়ে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সম্প্রতি লাল পতাকা টানিয়ে দায়সারা ভাবে কাজ শেষ করলেও  দায়িত্ব শেষ করেছে। পাহাড় কেটে রাস্তা ভরাট করায় পাহাড়টিও ধ্বসে পড়ছে।

জানা যায়-রামগড় জালিয়াপাড়্ াসড়কের দু’পাশের  ভাঙ্গন ঠেকাতে খাগড়াছড়ি  সড়ক বিভাগ প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প হাতে নেয়। এপ্রিল মাসে কাজ শুরু করে সংশি¬ষ্ট ঠিকাদার। রাস্তার পাশের বিশাল পাহাড় কেটে প্রায় দেড়শত থেকে দুইশত ফুট গভীর এলাকা মাটি ভরাটের কাজ শেষ করে । কিন্তু কাজ শেষ হতে না হতেই বৃষ্টির পানির তোড়ে রাস্তার মাটি পানিতে ভেসে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়,রাস্তার দু-পাড়ের গভীর পাদদেশে  কোন  রিটানিং ওয়াল গাইড নির্মান না করে মাটি ভরাট করায় পানির স্রোতে ভেসে যায় রাস্তা নির্মানের অজুহাতে পাহাড় থেকে কেটে আনা মাটি । ধ্বংসে পড়ে রাস্তার একাংশ।এখন ধ্বসে পড়া রাস্তার বিপদজনক অংশ দিয়ে মারাত্বক ঝুকি নিয়ে প্রতিনিয়ত  চলাচল করছে শতশত যানবাহন।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ কর্তৃক ধ্বসে পড়া এলাকায় ২/৩টি লাল ফিতা টানিয়ে তাদের দায় শেষ করেছে বলে স্থানী জনগন ও পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেন। এলাকাবাসী জানান,গত অর্থ বছরে এ এলাকায় কয়েকটি খুটি পুতে দায়সারা কাজ করে সওজ। একাজে ব্যায় করা হয় ১২ লাখ টাকা। কিন্তু এতে রাস্তার ভাঙ্গন ঠেকানো যায়নি। চলতি অর্থ বছরে এপ্রিল মাসের রাস্তার দু’পাশে মাটির ভরাট করার জন্য বিশাল আকারের দু’টি পাহাড়  কেটে ফেলা হয়।

পাহাড় কাটা আদালত কর্র্তক নিষিদ্ধ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন পুর্বানুমতি ছাড়া অবৈধভাবে পাহাড় দু’টি কাটা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সওজের বোলড্রোজার এবং ড্রাম ট্রাক ব্যবহার করে পাহাড় কাটার ফলে রাস্তায় ফাটল দেখা দেয়। একটি সুত্র জানায়,সড়ক নির্মানের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের পূবাূনুমতি সাপেক্ষে টেন্ডার আহবান করে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে পাহাড় কাটতে হয়। কিন্তু তা মানা হয়নি। রামগড় উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর সাথে যোগসাজেশে সংশি¬ষ্ট ঠিকাদার বেআইনিভাবে পাহাড় কেটেছে বলে সুশীল সমাজ মনে করে।

রামগড় সওজ’র উপসহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব বড়ুয়া জানান,প্রকল্পের তদারকিসহ কোন কাজে তাকে সম্পৃক্ত রাখা হযনি। প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরীকরে  রামগড় উপবিভাগীয় প্রকৌশল। অপর একটি সুত্রে জানাযায়,প্রকল্পে নিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠাান রিপ এন্টারপ্রাইজের মালিক রিপ চাকমার কাছে থেকে  কাজটি ৯ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কিনে নেয় রামগড় পৌরসভার কাউন্সিলর ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা বাদশা মিয়া। সওজ আরো জানায় এ পর্যন্ত ঠকাদার ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে।

রামগড় উপবিভাগীয় প্রকৌশল নুরুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রকল্পের কাছ এখনো শেষ হয়নি। আবহাওয়া ভাল হলে পুনরায় কাজ শুরু হবে। প্রকল্পের ঠিকাদারকে সে কোনদিন দেখেনি বা তার সাথে কোন কথাও হয়নি। অপরিকল্পিত ভাবে পাহাড় কেটে মাটি ভরাট করার বিষয়ে তিনি বলেন উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে ভাল বলতে পারবেন।

রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুকিপুর্ণ। রাস্তাটি যেহেতু সড়ক ও জনপথ বিভাগ মেরামত করছে তাই উপজেলা প্রশাসন এখানে কিছু করতে পারছেনা। তবে অনুমতি না নিয়ে পাহাড় কাটার বিষয়ে শীগ্রই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এবং রা¯তাটি অতিঝুকিপুর্ণূ হওয়ায় লাল পতাকা টানিয়ে পরিবহনও জনসাধারণকে সতর্ক করা হচ্ছে।