parbattanews bangladesh

পানছড়িতে হামলায় আহত যুবলীগ নেতার বাড়ীতে এবার আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা (ফলোআপ)

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি: দলীয় কোন্দলে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাগড়াছড়ির পানছড়ির যুবলীগ নেতা শফিকুল আলমের বাড়ীতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার ৯ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। আগুনের বাড়ীর সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে পরিকল্পিত দাবি করে প্রতিপক্ষকে দায়ী করছে ক্ষতিগ্রস্তের স্বজন ও রাজনৈতিক সমর্থকরা

স্থানীয়বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পানছড়ির উল্টাছড়িতে শফিকুল আলমের বাড়ীতে কে বা কারা আগুন দেয়। স্থানীয় লোকজন একটি ঘর রক্ষা করতে পারলেও অপরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

উল্টাছড়ি ইউনিয়নের পাচ নং ওয়ার্ড মেম্বার ফজলুয়র রহমান জানান, গত বুধবার ৮ নভেম্বর পানছড়ি সদরে সন্ত্রাসীদের হামলায় শফিকুল আলম রহমান আহত হওয়ার পর থেকে তার মা শকিনা বেগম খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ছিলেন। বাড়ীতে তালা লাগানো ছিল। এতে করে অগ্নিকাণ্ডে ঘরের মালামালসহ ছাগল, হাঁস-মুরগী সব অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে।

পানছড়ি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজির মাহমুদ মুঠোফোনে জানান, উপজেলা আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত নেতা আবু তাহেরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা গত বুধবার বিকেলে পানছড়ি বাজারের সিএনজি স্টেশনে উপজেলা যুবলীগের নেতা শফিকুল আলমকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তাহেরের সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে শফিকুলেল বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে।

খাগড়াছড়ি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কে এম ইসমাইল হোসেন শফিকুল আলমের বাড়াীতে অগ্নিসংযোগের জন্য তাহেরের সন্ত্রাসীদের দায়ী করে বলেন, মামলা হওয়ার পরও আসামী গ্রেফতার না হওয়া সন্ত্রাসীরা আরো বেপোয়ারা হয়ে শফিকুলের বাড়ীতে আগুন দিয়েছে। তিনি চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে বলেন, অন্যথায় যুবলীগের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবু তাহের জানান, রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অসদুদ্দেশে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বাহার মেম্বারের লোকজন তার বিরুদ্ধে দোষ চাপাচ্ছে।

পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মিজানুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে এলাকায় এসেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার (৮ নভেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে নুরুল হক মাস্টারের নামাজে জানাজা শেষে ফেরার পথে পানছড়ি বাজার সিএনজি ষ্টেশন এলাকায় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পানছড়ি উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল(৩২) ও যুবলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শফিকুর রহমানকে (৩০) কুপিয়ে গুরতর আহত করে। আহতদের পানছড়ি হাসাপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক অবস্থা আশংকাজনক দেখে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে প্রেরণ করলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডাক্তার ফয়েস আহমেদ শ্রমিকলীগ নেতা হেলালকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে আহত শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হেলালের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার বহিস্কৃত পানছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক আবু তাহেরসহ ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ১০/১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, বুধবার রাতে পুলিশ এ মামলার এজাহারভূক্ত এক আসামীকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনার প্রতিবাদের বৃহস্পতিবার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির অনুসারিরা পানছড়িতে হরতাল ডাকে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে বেলা ১টার পর হরতাল প্রত্যাহার করে নেয়।