পানছড়িতে শিশু শিক্ষার্থীদের মরণ ফাঁদে খেলা


নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

মরণ ফাঁদে খেলা করে উপজেলার পূজগাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় আশি জন শিক্ষার্থী। এরি মাঝে আহত ছাড়াও এ পর্যন্ত প্রায় ৩-৪ জনের হাত ভাঙ্গার খবর এলাকাবাসী নিশ্চিত করে।

জানা যায়,  উপজেলার ৩নং পানছড়ি ইউপি’র ২নং ওয়ার্ডে অবস্থিত এ বিদ্যালয়টি নির্মিত হয় ১৯৩৮ সালে। বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১২-১৩ অর্থ বছরে পিডিবি-থ্রি হতে নতুন ভবন নির্মাণ করে দেয়া হয়। বর্তমানে নতুন ভবনে শিক্ষার্থীরা পাঠদান নিচ্ছে। ভবন দু’টি মুখোমুখি এবং সামনা-সামনি কোন দুরত্ব না থাকায় বিদ্যালয় ছুটির আগে-পরে ও বিরতিতে শিক্ষার্থীরা পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে গিয়ে উঠে। যার ফলে প্রায়ই ঘটে থাকে দুর্ঘটনা। বর্তমানে বেশীরভাগ অভিভাবক শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজেরাই শিশুদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসে এবং বসে বসে অলস সময় পার করে।

দ্বিতীয় শ্রেণীর অভি চাকমার মা বিপুলিকা চাকমা, হৃদ্দির মা বাসনা চাকমা, তৃষ্টার মা নাইসলি চাকমা, জানায়, পুরাতন ভবনটি পুরোপুরি ভেঙ্গে না ফেলা পর্যন্ত আমরা অভিভাবকরা দুশ্চিন্তার মাঝে থাকি। ভবনটির অবস্থা খুবই খারাপ। সামনের দিকে মাটি সরে গিয়ে ভবনটি কোন রকম দাঁড়িয়ে আছে, দেখা দিয়েছে ফাটল যা বড় ধরণের দুর্ঘটনা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অর্ণিতা, দিপংকর, সর্মিতা জানায়, আতঙ্কে আছি আমরা। ভবনটি সহসাই ভেঙ্গে ফেলা দরকার। বিদ্যালয় প্রধান ললিত ভুষন ত্রিপুরা জানায়, আমরা ৪জন শিক্ষক সব সময় নজরদারি করতে হয়। তাছাড়া বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে মনে আতঙ্ক বিরাজ করে।

এলাকার উমেস চাকমার ও প্রিয়তন চাকমা জানায়, ২০১৭ সালে একবার ভবনটি নিলাম হয়েছিল। কিন্তু দর-দাম ঠিকমত না মেলার ফলে তা আর হয়নি। পানছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুজিত মিত্র চাকমা জানায়, এ ব্যাপারে তিনি অবগত আছেন। জেলা পরিষদে এ ব্যাপারে যোগাযোগ চলছে।

পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম জানান, শিক্ষা অফিসারের কথা বলে এ ব্যাপারে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং জেলা পরিষদে চিঠির মাধ্যমে অবগত করা হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *