পানছড়িতে বাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আতঙ্কে পাঠদান নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

উপজেলার পানছড়ি বাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার শতাধিক। বিদ্যালয়টি উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রেই অবস্থিত। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর, এনজিও সংস্থা, পুলিশ বাহিনীসহ এলাকার সচেতন নাগরিকদের সন্তানেরা এই বিদ্যাপীঠে পাঠদান নিচ্ছে। কিন্তু ভবন সমস্যায় দীর্ঘবছর বিদ্যালয়টি জর্জরিত। যদিও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুধুমাত্র অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত বিদ্যালয় ভবনগুলো দ্বিতল ও তিনতলা ভবনে রুপ নিয়েছে।

এরই মাঝে পানছড়ি বাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষের ছাদে দেখা দিয়েছে ফাটল। খসে পড়ছে পলেস্টার। প্রথম প্রথম একটু কম দেখা গেলেও এখন ফাটল দেখা যাচ্ছে বিশালাকার আর খসে পড়ছে বড় বড় পলেস্টার টুকরো।

সপ্তাহ খানেক আগে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে এক অভিভাবক। বর্তমানে ফাটল ছাদ আর যে কোন মুহুর্তে পলেস্টার খসে পড়তে পারে এই আতঙ্কে চলছে পাঠদান। অভিভাবকদের দাবি যতক্ষন তাদের সন্তানেরা বিদ্যালয়ে থাকে ততক্ষনই মনে বিরাজ করে আতঙ্ক।

বিদ্যালয় প্রধান বিপাশা সরকার জানায়, বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন বরাদ্দ হলেও কাজ শুরু হতে অনেক বাকী। বর্তমানে শ্রেণীকক্ষ দুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন মুহুর্তে বড় পলেস্টার টুকরো খসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই সব শিক্ষকরাও আতঙ্কে আছে।

খবর পেয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কনিকা খীসা। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করবেন বলে জানান।

পানছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুজিত মিত্র চাকমা জানান, বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন বরাদ্দ হয়েছে যা নির্মাণ কাজ শুরু হতে সময় লাগবে। তবে শ্রেণীকক্ষ দুটি মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে একটি আবেদন সহসাই পাঠানো হবে। শীঘ্রই তা বাস্তবায়ন করে মেরামতের জরুরী পদক্ষেপ নিবেন বলে তিনি জানান।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির এসএমসি সভাপতি ও ৩নং পানছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ দুটি দ্রুত মেরামত করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের আতঙ্ক থেকে মুক্তি দানের জন্য প্রশাসনের সু-দৃষ্টির কথা বলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *