পল্লী বিদ্যুৎ এর অনিয়ম ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মহেশখালীতে মানববন্ধন


মহেশখালী প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের মহেশখালীতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জনসাধারণ।

সোমবার(১৪ মে) সকাল ১০টায় মহেশখালী উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে রাস্তার ধারে এ মানববন্ধন করা হয়। এসময় মানববন্ধনে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ অংশগ্রহণ করে।

সৌরভ আজাদের সঞ্চালনায় ওই মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, মোস্তফা আনোয়ার, মাস্টার শাহেদুর ইসলাম শিবলী, মাস্টার শহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক আবুল বশর পারভেজ, আ.ন.ম হাসান, এস.এম রুবেল, জসিম উদ্দীন, মো. রায়হান, আকাশ, এনাম, ইসকাদ হারুন আকিব, মনির উদ্দীন, আকিব নুর।

এছাড়াও অনুষ্ঠান সমন্বয়কারীদের মধ্যে বিন নাছির বাপ্পী, মামুন, জাহেদ, আনোয়ার, শওকত আলম জং, আরিফ, মুহাম্মদ রুবেলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মহেশখালী উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ এর কার্যক্রম শুরুর পর থেকে নানা অনিয়ম, দুর্নীতির মধ্য দিয়ে চলে আসছে। সূচনালগ্ন থেকে জনসাধারণের কাছে তাদের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে। তখন  থেকে লোড়শেডিং যন্ত্রণা পিছু ছাড়ছে না দ্বীপবাসীকে। যার কারণে নানা ধরণের সমস্যায় পতিত হচ্ছে এখানকার জনসাধারণ। বর্তমানে লোড়শেডিং যন্ত্রণা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে অসহনীয় পর্যায় ধারণ করেছে।

এছাড়াও বর্তমানে গ্রাহক হয়রাণী, অবৈধ বাণিজ্য, দুর্ণীতি, সেবার নামে স্বেচ্ছাচারিতাসহ অসংখ্য অনিয়ম পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে নিয়মে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও নামে বেনামে গ্রাহকদের কাজ থকে আদায় করা হচ্ছে অনৈতিক অর্থ। সামনে আসন্ন রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়ার জন্য সভায় বক্তারা অনুরোধ করেন। অন্যতায় কঠোর আন্দোলন করা হবে বলে জানায় তারা। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে স্থানীয় কিছু স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন চলাকালীন সময়ে তাদের পাশে এসে একাত্বতা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। এসময় জনসাধারণের মাঝে পল্লী বিদ্যুৎ এর প্রতি ক্ষোভের সঞ্চার হলেও শান্তিপূর্ণ ভাবে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনের পর ভূক্তভোগী জনসাধারণ র‌্যালি করে উপজেলা পরিষদে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল কালামের নিকট তাদের ১৩টি দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন। তাদের দাবিসমূহ হলো- ১. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে ২. লোডশেডিং এর নামে চলমান তামাশা বন্ধ করতে হবে ৩. গ্রাহক নিয়ে অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে ৪. গ্রাহকসেবার নামে পল্লী বিদ্যুৎ এর স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করতে হবে ৫. দুর্নীতিবাজ ডিজিএম কে পদত্যাগ করতে হবে ৬. লাইনম্যানদের দ্বারা হয়রাণী বন্ধ করতে হবে ৭. মনগড়া মিটার রেডিং বন্ধ করতে হবে ৮. খাম্বা চাইনা, বিদ্যুৎ চাই। সুনির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য কারণ ব্যতিত বাকি সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ  সরবরাহ দিতে হবে ৯. জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ সংস্কার করতে হবে ১০. টানা ৩/৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকলে কারণ উল্লেখসহ মাইকিং করে জানাতে হবে ১১. ইমারজেন্সী নাম্বার সব সময় খোলা রাখতে হবে এবং ফোন রিসিভ করে সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে ১২. সুনির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া লোড়শেডিং দেয়া যাবেনা ১৩. রমজান মাসে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ দিতে হবে। এছাড়াও বক্তারা আরও বলেন, আসন্ন রমজানে নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতসহ উল্লেখিত দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলনে নামা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *