পর্যটকশূণ্য কক্সবাজার: ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত



কক্সবাজার প্রতিনিধি:
হালকা বৃষ্টি ও পবিত্র মাহে রমজানে হঠাৎ পর্যটকশুণ্য হয়ে পড়েছে পর্যটন শহর কক্সবাজার। এতে করে পর্যটক সংশ্লিষ্টদের কোন কাজ কর্ম নেই বললেই চলে। স্থানীয় পর্যায়ে কিছু পর্যটক থাকলেও বাইরের কোন পর্যটক চোখে পড়ছেনা।

সমুদ্র সৈকতে সম্প্রতি কয়েকদিন আগেও ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালারা সৈকতের বালিয়াড়িতে এদিক-ওদিক ছুটোছুটি করে নানা ধরণের জিনিসপত্র বিক্রি করতো। কিন্তু বর্তমানে হালকা বৃষ্টি ও রমজানে পর্যটকের অভাবে ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালাদেরও খোঁজ পাওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে শুক্রবার (১৮ মে) কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সৈকত অনেকটা মৃত প্রায় বললেই চলে। যার কারণ দেশি-বিদেশী পর্যটকের দারুণ অভাব। বিকেল বেলায় কিছু স্থানীয় পর্যটক থাকলেও তারা অনেকটা সাময়িক তৃপ্তির জন্য সৈকতে বেড়াতে এসেছেন। অনেক দূর ঘুরে খুব কম সংখ্যক লোককেই দেখা গেছে সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে খেলে খেলে পা’টুকু সামান্য ভিজাতে। সারি সারি খালি চেয়ার পড়ে আছে পর্যটক বিহীন সৈকতে।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের অভাব যেমন লক্ষ্যণীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তেমনি সামনে মাঝারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও ঠিকই একই অবস্থা হবে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখন আবহাওয়ার বিরুপ প্রভাব ও রমজান মাস হওয়ার কারণে কক্সবাজারে পর্যটক আসছেন না। সামনে ঝড়ো হাওয়ার কারণে একই অবস্থা হবে। তারা এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক মাস পর্যটন ব্যবসার কোন ধরনের সম্ভাবনা দেখছেন না বলে জানান। তবে ঈদের পর কিছুদিন পর্যটক আসবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

লাবণী পয়েন্টের ঝিনুকের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, যেখানে আগে পর্যটকদের ভীড়ে কখনোই ঢোকা যেত না। এখন তারা দোকান খুলে বসে আছে। জনশূণ্য লাবণী ঝিনুক মার্কেটের ব্যবসায়ীদের হতাশ চেহারা দেখে মনে হয় যেন, অনেক দিনের উপোস তারা।

সৈকতে খোঁজাখুঁজি করে যে ক’জন পর্যটক পাওয়া গেছে, তাদের সাথে কথা হলে তারা জানায়, সবারই প্রাণপ্রিয় সমুদ্র সৈকত ও নগরীকে তার আগের প্রাণচঞ্চল রূপেই দেখতে চাই। সেই বর্নিল আলো ঝলমল কক্সবাজার যেন পুনরায় ফিরে আসে সেই প্রত্যাশা তাদের।

সব মিলিয়ে বলা চলে, কিছুদিন আগেও পর্যটকের পদচারণায় মুখর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ব্যবসায়ীরা এখন পর্যটকের অভাবে হা-হুতাশ করছে। সৈকতের বালিয়াড়িতে যে চেয়ারগুলোতে বসে পর্যটকরা সূর্য ঢোবার দৃশ্য দেখতো এখন সেই চেয়ারগুলো উল্টো অবস্থায় পড়ে আছে। সমুদ্রে গোসল করার জন্য পর্যটকরা যে বয়া-টিউব নেয়ার জন্য ভিড় জমাতো, এখন সেই বয়া-টিউব পড়ে আছে কিন্তু ব্যবহার করার কেউ নেই।

শুক্রবার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে এসব চিত্র চোখে পড়ে। হোটেল মোটেল জোনের আবাসিক হোটেল ও কটেজগুলো দেখে মনে হয় না সেখানে কেউ আছে। পর্যটক শূণ্য হোটেলগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাহিল হয়ে আছে। মাহে রমজান উপলক্ষে পর্যটক না আসায় তাদের ব্যবসা বন্ধের উপক্রম। আবার অনেক হোটেলের কর্মচারীদেরও ছুটি দেয়া হয়েছে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মাহফুজুর রহমান নিপু বলেন, অতীতে যখনই এখানে এসেছি লাবণী, সুগন্ধা বা কলাতলী বীচ পয়েন্টে সবসময় লোকে লোকারণ্য দেখে মুগ্ধ হতাম। একটু হেঁটে এগুতে থাকতাম একটু নির্জনতার আশায়। মনে মনে ভাবতাম ইশ সৈকতে যদি একটু কম লোকজন থাকতো তাহলে কত ভালোই না লাগতো। থাকতো না কোন ঝিনুক কন্যাদের ঝিনুক মালা আর দুল বিক্রির আবদার। তখন কতই না মজা হতো, অন্যরকম অনুভূতি কিন্তু এখন না চেয়েও সেই অবস্থা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনে মাত্র কয়েকদিন আগেও হোটেলের কোন কক্ষ খালি না থাকায় পর্যটকদের বুকিং নেয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু কিছুটা আবহাওয়া পরিস্থিতি বিমুখ হওয়ায় এবং রমজান আসায় দেশি-বিদেশি পর্যটক আসছেন না।

তারা আরও জানান, সামনে যদি অতিরিক্ত বৃষ্টি হয় তাহলেও পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাবে না। সবদিক বিবেচনা করে বলা যায়, অনেকটা খারাপ সময় অপেক্ষা করছে কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য।

হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার জানান, কিছুদিন আগেও চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পর্যটক আসে কক্সবাজারে। কিন্তু এখন পর্যটকের এতই অভাব পড়েছে যে, হোটেল-রেস্তোঁরাগুলো কোন ভাবেই তাদের দৈনিক খরচ তুলতে পারছে না। বর্তমানে ১০ হাজারের মতো কর্মচারীকে ছুটি দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পর্যটক না আসার পেছনে হালকা বৃষ্টি তার সাথে আবার রমজান মাস। ঈদের পর বৃষ্টি থাকলেও স্বরুপে পর্যটকরা বেড়াতে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *