নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্বত্যাঞ্চলে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধি


সন্তোষ বড়ুয়া:

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সশস্ত্র তৎপরতা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ৪টি আঞ্চলিক সংগঠন তথা জেএসএস(সন্তু গ্রুপ), ইউপিডিএফ(প্রসীত গ্রুপ), জেএসএস(এমএন লারমা গ্রুপ) এবং ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিক গ্রুপ) তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে একের পর এক খুন, গুম, অপহরণসহ নানা ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। তবে তাদের টার্গেট শুধুমাত্র প্রতিপক্ষ আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোই নয়, জাতীয় রাজনৈতিক মূলধারার দল, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের উপজাতি নেতৃবৃন্দরাও এই হামলার শিকার হচ্ছে অহরহ।

নির্বাচনে জয় লাভের আশায় উপজাতি সংগঠনগুলোর এই সশস্ত্র কার্যক্রম কিন্তু হঠাৎ করে শুরু হয়নি। একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেই তারা তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। এ কাজে তারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও প্রতিপক্ষকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্ষীয়ান সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে মনে করেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো এ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। (দৈনিক আমাদের সময়, ১০ মে ২০১৮).

সাম্প্রতিক ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, গত ৩ মে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে প্রতিপক্ষ ইউপিডিএফ(প্রসীত গ্রুপ) কর্তৃক গুলি করে হত্যা। শক্তিমান চাকমা ছিলেন জেএসএস এমএন লারমা দলের সমর্থক। এলাকায় তার জনপ্রিয়তা ছিলো অনেক বেশী। যদিও একসময় নানিয়ারচর উপজেলা ছিলো ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি। কিন্তু গত উপজেলা নির্বাচন থেকে তাদের সেই নিয়ন্ত্রণ খর্ব হতে থাকে। আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়দের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় শক্তিমান চাকমার কাছে হেরে যায় ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের প্রার্থী সুশীল জীবন চাকমা। এর পরই নানিয়ারচরের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় জেএসএস (এমএন লারমা) দলটির কাছে।

সেই সাথে জেএসএস (এমএন লারমা) দলের সাথে হাত মেলায় নব গঠিত ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলও। ফলে নানিয়ারচরে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারছিল না ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ। যার কারণে ‘টার্গেট কিলিং’-এ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শক্তিমান চাকমা ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের প্রধান নেতা তপন জ্যোতিকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করে তারা। ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের ধারণা ছিলো, শক্তিমান ও তপন জ্যোতির মৃত্যুর পর নানিয়ারচরে তাদের ফের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। শক্তিমান চাকমা এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলে তার জয় সুনিশ্চিত ছিলো বলে অনেকের ধারণা। সেই ধারণা থেকেই শক্তিমান ও তপন জ্যোতিকে হত্যা করে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ। তবে শক্তিমান ও তপন জ্যোতিকে হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত নয় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। তারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ্যে প্রতিপক্ষ দলের অন্যান্য নেতাদেরও হত্যার হুমকি প্রদান করে আসছে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে আরো কিছু ঘটনার জন্য একটু পিছন ফিরে দেখা যাকঃ
আওয়ামীলীগ করার অপরাধে খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি নীলবর্ণ চাকমাকে গত ২৯ নভেম্বর ২০১৬ অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায় ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের ১০-১২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। সেদিন খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের জনসভায় যোগ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন নীলবর্ণ।

ভাগ্য ভালো নীলবর্ণ চাকমার। অপহরণকারীদের কাছ থেকে তিনি ফিরে আসতে পেরেছিলেন। কিন্তু পার্বত্য তিন জেলায় এরকম অনেকেই আছেন যারা আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা মূলধারার রাজনীতি করার অপরাধে অপহৃত হয়ে লাশ হয়ে ফিরেছেন। আবার কেউবা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন। অনেকেই আছেন যারা অপহরণের পর তাদের পরিবার এখনও জানে না তিনি বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন। যেমনটি হয়েছে বান্দরবানের আওয়ামী লীগ নেতা মংপ্রু মারমার ক্ষেত্রে। গত ১৩ জুন ২০১৬ তারিখে জেএসএস (সন্তু লারমার গ্রুপ) কর্তৃক অপহৃত হন তিনি। এরপর থেকে অদ্যবধি খোঁজ নেই তার। স্বামীর অপেক্ষায় আজো পথপানে চেয়ে চোখের পানি ফেলছেন মংপ্রু মারমার স্ত্রী সামা প্রু মারমা।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৪শ’ উপজাতি সম্প্রদায়ের লোক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এরপর অনেকেই জেএসএস সন্তু গ্রুপের হুমকির কারণে আর আওয়ামী লীগে সক্রিয় থাকতে পারেননি। বিশেষ করে ২০১৭ সালের শেষের দিকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের হুমকির মুখে আওয়ামীলীগ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও বাঘাইছড়ির শত শত উপজাতিরা।

একইভাবে আওয়ামীলীগ করার অপরাধে গত ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাম চরণ মারমা ওরফে রাসেল মারমাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় জেএসএস সন্তু গ্রুপের ১০-১২ জনের একটি দল। ওই দিনই রাত ৮টার দিকে জুরাছড়ি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি অরবিন্দু চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

৬ ডিসেম্বর মধ্য রাতে নিজ ঘরে ঢুকে মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণা খীসা ও তার পরিবারের আরও দুই সদস্য কুপিয়ে জখম করা হয়। এরও আগে গত ২০ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে বিলাইছড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি স্বপন কুমার চাকমা, যুবলীগ নেতা রিগান চাকমা, ইউপি সদস্য অমৃত কান্তি তঞ্চংগ্যা, কেংড়াছড়ি মৌজার হেডম্যান সমতোষ চাকমাকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

এরকম আরো অনেক উদাহরণ আছে যেগুলো বর্ণনা করতে গেলে লেখাটা অনেক দীর্ঘায়িত হবে। তাই লেখা সংক্ষিপ্ত করার জন্য সেগুলোর বর্ণনাতে আর যাচ্ছি না। এবার আঞ্চলিক দলগুলোর শুধুমাত্র চলতি বছরের সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনার কথা বলি।

গত ২৭ আগস্ট মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের বুলিপাড়া গ্রামের কার্বারী মংক্যচিং মারমাকে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কোন হদিস মেলেনি তার। জানা যায় যে, মংক্যচিং মারমা জেএসএস(এমএন লারমা) দলের সদস্য ছিলেন।

গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের শিমুলতলী গ্রামে জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের সক্রিয় কর্মী মঞ্জু চাকমাকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর পূর্ণ কান্তি চাকমা এবং মহারথ চাকমা নামে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে যে, ‘এক মাস আগে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সক্রিয় কর্মী রোহেল চাকমা (বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পালি অনুষদের ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদ্বয়কে প্রতিপক্ষ মঞ্জু চাকমাকে হত্যার জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং গুলিসহ পিস্তল সরবরাহ করে। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী, মঞ্জু চাকমাকে গুলি করে মহারথ চাকমা এবং এ কাজে তাকে সহযোগিতা করে পূর্ণ কান্তি চাকমা ও রূপান্তর চাকমা’।

গত ২ অক্টোবর রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার মেজর পাড়া এলাকা থেকে জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের দুই কর্মী দয়ানন্দ চাকমা এবং তার ছেলে ডাল্টন চাকমা কে অপহরণ করে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল।

২৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের চেলাছড়া এলাকা থেকে নানিয়ারচর বুড়িঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পাইচাপ্রু রোয়াজা (৪০) কে অপহরণ করে একদল উপজাতি সন্ত্রাসীরা।

২৪ জুলাই রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর বাজার থেকে নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনের আগের দিন ছায়াধন চাকমা নামের এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের তীর জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের দিকে।
১৯ জুলাই রাতে রাংগামাটির নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান প্রীতিময় চাকমা উপজেলার সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত হন।

২২ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের কর্মী মিশর চাকমাকে নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ।

১৭ জুন রাঙামাটির বাঘাইছড়ির উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের দোখাইয়া এলাকায় সুরেন বিকাশ চাকমা নামে জেএসএস লারমা গ্রুপের সমর্থক এক পল্লী চিকিৎসককে গুলি করে হত্যা করে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ।

১৬ জুন খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় মরাটিলা নামক এলাকায় বিজয় ত্রিপুরা নামে এক জেএসএস(এমএন লারমা) কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ।

১৫ জুন রাঙামাটির লংগদুতে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের সদস্য জঙ্গলী চাকমা কে হত্যা করে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।

এরকম আরো অনেক খুন ও হত্যার ঘটনা আছে। তবে সংশয়ের বিষয় হলো নির্বাচনকে সামনে রেখে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর অপহরণ, অস্ত্রবাজি আর হত্যাযজ্ঞ চলমান থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে প্রকারান্তে সেরকমই আভাস দিয়েছে তারা। যার প্রমাণ নীচের এই ছবি—

উল্লেখ্য, সারা বছর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন, অপহরণ আর দ্বন্দ্ব লেগে থাকলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউপিডিএফ প্রসীত আর জেএসএস সন্তু গ্রুপ সমঝোতা করে এক হয়ে নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে।

এ জন্যই, ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ প্রতিপক্ষ অন্য আঞ্চলিক দলগুলোর সাথে সংঘাতে জড়ালেও জেএসএস সন্তু গ্রুপের সাথে তাদের কোন বিরোধ চোখে পড়ছে না। সেই সাথে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপকে দিয়ে সংঘাত জিইয়ে রেখে নীরবে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত জেএসএস সন্তু গ্রুপ।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার তার বক্তব্যে একবার বলেছিলেন, “একসময় পার্বত্যাঞ্চলে রাজনৈতিক সংগঠন ছিল না। কিন্তু পার্বত্যাঞ্চলে এখন আওয়ামী লীগ শক্তিশালী দল। রাজা বা প্রতিক্রিয়াশীল গ্রুপের অস্তিত্ব হুমকির মধ্যে পড়বে এমন আশঙ্কায় পাহাড়িদের মূলধারার রাজনীতিতে আসতে দিতে চায় না”।

তিনি আরো বলেন, “জেএসএস বলেন আর ইউপিডিএফ বলেন, তারা সব এক। পার্বত্যাঞ্চলে বিশেষ করে রাঙামাটিতে কোনো পাহাড়ি আওয়ামী লীগ করতে পারবে না বা ব্যবসা করতে পারবে না, এ ধরনের হুমকি আসে”। (thereport24.com, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬).

এই ধারা চলমান থাকলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতির মূলধারার দলগুলোর পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে জয়ী হওয়া দুস্কর হয়ে উঠবে। আর আঞ্চলিক দলগুলো নির্বাচনে জয়লাভ করলে তাদের নিজেদের মধ্যে আন্তর্কলহ এবং খুনসহ নানান ধরনের নাশকতা বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমেয়।

লেখক: রাঙামাটি থেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *