নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে


লংগদু প্রতিনিধি: লংগদু জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল আব্দুল আলীম চৌধুরী পিএসসি বলেন, উপজেলার দুস্থ ও বেকার মানুষদের বিশেষ করে মহিলাদের স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে এলাকার যুব মহিলাদের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে সনদ ও সেলাই মেশিন বিতরণ উদ্যোগ নিয়েছি। এ ধরনের মহতি উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাত থাকবে বলে তিনি জানান।

কমান্ডার বলেন, নারীরা স্বাবলম্বী হলে দেশ এগিয়ে যাবে। এজন্য নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (২৬ডিসেম্বর) বিকেলে মাইনীমুখ আর্মী ক্যাম্পে যুব মহিলাদের মাঝে সনদপত্র ও সেলাই মেশিন বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনের সেনা কর্মকর্তা মো. সাদেকের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম, লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রঞ্জন কুমার সামন্ত, আটারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা প্রমুখ।

জোনের সেনা কর্মকর্তা মো. সাদেক জানান, নিরাপত্তাবাহিনী থেকে পরিচালিত এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ থেকে যারা ১ম, ২য় ও ৩য় ব্যাচে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন তাদের প্রত্যেকের সনদপত্র এবং শুধুমাত্র ১ম ও ২য় ব্যাচের বত্রিশজন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে জেলা প্রশাসন ও লংগদু উপজেলা পরিষদ এবং লংগদু সেনা জোনের সহায়তায় প্রশিক্ষণার্থীদেরকে সেলাই মেশিন ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে।

লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম বলেন, যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারা সৌভাগ্যবান। এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে চমৎকার পরিবেশে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যে সকল প্রশিক্ষণ হয় সেগুলো এই ধরণের উন্নতমানের হয়না। যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারা অবশ্যই অন্যকেও এ প্রশিক্ষণ নিতে বলবেন। আমরা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আরো সেলাই মেশিন প্রদানে সহায়তা করতে পারবো।

লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ রঞ্জন কুমার শামন্ত বলেন, বর্তমান জোন কমান্ডার এই উপজেলায় উন্নয়নের জন্য যে সকল পদক্ষেপ নিয়েছেন তা অত্যান্ত ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মো. জানে আলম বলেন, জোন কমান্ডারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। জোনের উদ্যোগে শুধু সেলাই প্রশিক্ষণ নয়, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, এবং স্কুলের সমস্যাও সমাধানে এগিয়ে এসেছেন।

আটারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা বলেন, আমি শুধু লংগদু জোনকে অনুরোধ করবো পরবর্তীতেও যাতে এ ধরনের মহত কাজ অব্যাহত থাকে। অন্যান্য ইউনিয়নেও এধরণের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করা গেলে আরো ভালো হতো। অন্তত পিছিয়ে পড়া বেকার যুবক যুবতীদের অনেক কাজে লাগতো।

সেলাই প্রশিক্ষণার্থী কোহেলি চাকমা বলেন, আমি সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছি। সনদপত্র ও সেলাই মেশিনও পেলাম আমি অনেক খুশি। আমি বাড়িতে বসে নিজেকে সাবলম্বী করতে চেষ্টা করবো এবং স্বামীকে সহায়তা করতে পারবো।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *