নানিয়ারচরের ৬ হত্যা: ১১৮ আসামির মধ্যে আটক ১৭


রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) সমর্থিত দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এড. শক্তিমান চাকমাসহ নানিয়ারচরের ৬ হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলার ১১৮ জন আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

বাকী আসামিদেরও আটকের বিষয়ে যৌথবাহিনী তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে মামলার আসামিদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর তৎপরতার দরকার বলে জানিয়েছে স্থানীয় ভুক্তোভোগী এবং রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় এবং রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, পার্বত্য এলাকায় অস্ত্রধারীদের গুলিতে রাজনৈতিক নেতাসহ সাধারণ অনেক মানুষ হত্যাকান্ডের শিকার হলেও এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ মামলা করতে ভয় পায়। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষেও এসব ঘটনায় আইনী কঠোর সহযোগীতা না পাওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেন। ঘটনার পর জড়িতদের দৃষ্টান্ত শাস্তির বিষয়ে প্রশাসনের বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোর তৎপরতার অভাবে জড়িত অনেকেই বীরদর্পে ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে অনায়াসেই।

গত বছরের ডিসেম্বরে অরবিন্দু ও পরে ৩ এবং ৪মে এড. শক্তিমানসহ ৬ খুনের পরেও এ পর্যন্ত আরও অনেক হত্যাকান্ডসহ অপহরণের ঘটনা যেন চলছে বিরতিহীন ভাবেই।

দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের জুরাছড়ি উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমা হত্যা এবং সর্বশেষ চলতি বছেরের ৩ ও ৪মে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. শক্তিমান, ইউপিডিএফ গনতান্ত্রিক দলের প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা প্রকাশ বর্মাসহ ৬ হত্যাকান্ডের ঘটনা রাঙ্গামাটি জেলার মানুষেকে যেন ভীত সন্ত্রস করে তোলে।

এছাড়াও এ সময়রে মধ্যে আঞ্চলিক দলের আরও বেশ ক’জন নেতা কর্মী সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন এবং অপহরণের শিকার হন অনেকে। কিন্তু অরবিন্দু চাকমা হত্যার পর জেলা আওয়ামী লীগ শহরে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করে।

পরে নাগরিক সমাজের ব্যানারেও দুই বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করে। সমাবেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ খুনের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানানো হয়।

কিন্তু দিন মাস গড়ালেও ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ কোন কূল কিণারা না দেখায় এসব হত্যাকান্ডের ঘটনার মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ কি তা নিয়ে হতাশায় ভুগছেন সবাই।

অপরদিকে নানিয়ারচরে ৬ হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্থানীয় রূপম চাকমা ও অচিন চাকমা নানিয়ারচর থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। এসব মামলার আসামী ধরতে নানিয়ারচর থানা তৎপরতা চালাচ্ছে বলে থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এবিষয়ে নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, পৃথক দুটি মামলার এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৭ আসামিকে বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়েছে। বাকীদেরও আটকের জন্য যৌথবাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *